হামলার আগে তেহরানের অ্যারোস্পেস ফোর্সের জওয়ানরা ক্ষেপণাস্ত্রের গায়ে বিভিন্ন ভাষায় সংহতি প্রকাশকারী দেশগুলিকে ধন্যবাদ জানাচ্ছেন। একটি ক্ষেপণাস্ত্রের গায়ে স্পষ্ট অক্ষরে লেখা ছিল— ‘ধন্যবাদ ভারতের জনগণকে’ (Thank You People of India)।

মোজতবা খামেনেই। গ্রাফিক্স দিব্যেন্দু দাস।
শেষ আপডেট: 27 March 2026 14:46
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পশ্চিম এশিয়ার (Middle East War) যুদ্ধের আবহেই শুক্রবার ইজরায়েলের ভূখণ্ড লক্ষ্য করে ফের ঝাঁকে ঝাঁকে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল ইরান (Iran War)। তবে এবারের হামলায় এক নজিরবিহীন দৃশ্য ধরা পড়েছে। ইরানের সংবাদমাধ্যম ও সোশ্যাল মিডিয়ায় (Social Media) ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গিয়েছে (ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেনি দ্য ওয়াল), হামলার আগে তেহরানের অ্যারোস্পেস ফোর্সের জওয়ানরা ক্ষেপণাস্ত্রের গায়ে বিভিন্ন ভাষায় সংহতি প্রকাশকারী দেশগুলিকে ধন্যবাদ জানাচ্ছেন। একটি ক্ষেপণাস্ত্রের গায়ে স্পষ্ট অক্ষরে লেখা ছিল— ‘ধন্যবাদ ভারতের জনগণকে’ (Thank You People of India)। ভারত ছাড়াও স্পেন (Spain), পাকিস্তান (Pakistan) ও জার্মানির (Germany) নাগরিকদের উদ্দেশেও একই ধরনের কৃতজ্ঞতা সূচক বার্তা লিখেছে ইরান।
টার্গেট ইজরায়েল ও মার্কিন ঘাঁটি
ইরানের ‘ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কোর’ (আইআরজিসি) জানিয়েছে, এটি ছিল ইজরায়েলের ওপর তাদের ৮৩তম দফার হামলা। দূরপাল্লা ও মাঝারি পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের পাশাপাশি একঝাঁক ড্রোন দিয়েও আক্রমণ চালানো হয়েছে। কেবল ইজরায়েল নয়, ইরানের নিশানায় ছিল পশ্চিম এশিয়ায় থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলিও। ইরানি সংবাদ সংস্থাগুলির দাবি, বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন ‘প্যাট্রিয়ট’ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার একটি রক্ষণাবেক্ষণ কেন্দ্রেও সফল আঘাত হেনেছে তাদের ক্ষেপণাস্ত্র।
হরমুজ প্রণালীতে ছাড়পত্র
পশ্চিম এশিয়ায় গত কয়েক মাস ধরে চলা এই রক্তক্ষয়ী সংঘাত এখন চরমে। পাল্টা প্রত্যাঘাতের নীতি নিয়ে ইজরায়েলের ওপর লাগাতার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র বর্ষণ করছে তেহরান। তবে এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই বৃহস্পতিবার ইরান ঘোষণা করেছে, ‘বন্ধু রাষ্ট্র’ হিসেবে ভারতের মতো দেশগুলির বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য তারা ‘হরমুজ প্রণালী’ উন্মুক্ত রাখছে। অর্থাৎ, যুদ্ধের আবহেও ভারতের সঙ্গে বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক সুসম্পর্ক বজায় রাখতে চাইছে ইরান।
কাশ্মীরে সংহতি ও ত্রাণ সংগ্রহ
এদিকে ইরানের প্রতি সংহতি জানিয়ে উপত্যকায় ব্যাপক তৎপরতা শুরু হয়েছে। জম্মু ও কাশ্মীরের শিয়া সম্প্রদায়ের মানুষ তেহরানের সমর্থনে এগিয়ে এসেছেন। রামবান জেলার চন্দরকোট এলাকায় কয়েক’শ মানুষ স্থানীয় ইমামবারায় জমায়েত হয়ে নগদ টাকা, সোনা-রুপোর গয়না এবং গৃহস্থালির সরঞ্জাম দান করেছেন। কচিকাঁচারাও তাদের জমানো টাকা তুলে দিয়েছে ত্রাণ তহবিলে। এমনকি কেউ কেউ ত্রাণ হিসেবে গবাদি পশুও দান করেছেন। বদগাম এলাকাতেও ইরানি নাগরিকদের প্রতি সহমর্মিতা জানিয়ে বিপুল পরিমাণ গয়না ও অর্থ সংগ্রহ করা হয়েছে।