Date : 14th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
কিউআর কোড ছড়িয়ে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ! কীভাবে রাতারাতি নয়ডার বিক্ষোভের প্ল্যানিং হল, কারা দিল উস্কানি?নয়ডা বিক্ষোভ সামাল দিতে 'মাস্টারস্ট্রোক' যোগী সরকারের! শ্রমিকদের বেতন বাড়ল ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত Jeet: ভুয়ো প্রচার! ভোট আবহে গায়ে রাজনীতির রঙ লাগতেই সরব জিৎ৪ হাজার থেকে নিমেষে ১ লক্ষ ৮৫ হাজার ফলোয়ার! এক স্পেলেই সোশ্যাল মিডিয়ার নতুন তারকা প্রফুল্লসামনে কাজল শেখ, মমতা কথা শুরু করতেই হাত নেড়ে বিরক্তি প্রকাশ অনুব্রতর! সিউড়িতে কী ঘটলEPL: নায়ক ওকাফর! ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে ৪৫ বছরের অভিশাপ মুছল লিডস, রক্ষণের ভুলে ডুবল ম্যান ইউAsha Bhosle: 'এত ভালবাসার সবটাই তোমার...,' ঠাকুমার স্মৃতি আঁকড়ে আবেগঘন পোস্ট নাতনি জানাইয়েরSupreme Court DA: ডিএ নিয়ে সময়সীমা বৃদ্ধির আর্জি, বুধবার রাজ্যের মামলা শুনবে সুপ্রিম কোর্টনির্বাচকদের শর্টলিস্টে বৈভব! আয়ারল্যান্ড সফরে যাওয়ার জোর সম্ভাবনা, ভাঙতে পারেন সচিনের রেকর্ডIPL 2026: ‘কাছের অনেককে বলেছিলাম, বৈভবকে প্রথম বলে আউট করব!’ কথা দিয়ে কথা রাখলেন প্রফুল্ল

'স্ত্রীকে মেরে ফেলেছি কিন্তু আমি খুনি নই!' যুক্তি দিলেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত অস্ট্রেলিয়ান যুবক

গত বছরের ডিসেম্বর মাসে স্ত্রী সুপ্রিয়া ঠাকুরের মৃত্যুর ঘটনায় তাঁকে গ্রেফতার করে পুলিশ। গত ১৪ জানুয়ারি দ্বিতীয়বার আদালতে তোলা হয় বিক্রান্ত ঠাকুরকে। সেদিন আদালতে আইনজীবীর পরামর্শ মেনেই বিক্রান্ত বলেন, “আমি অনিচ্ছাকৃত ঘটনার জন্য দোষী, কিন্তু খুনের জন্য নই।”

'স্ত্রীকে মেরে ফেলেছি কিন্তু আমি খুনি নই!' যুক্তি দিলেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত অস্ট্রেলিয়ান যুবক

প্রতীকী ছবি

সৌভিক বন্দ্যোপাধ্যায়

শেষ আপডেট: 19 January 2026 19:46

দ্য ওয়াল ব্যুরো: অস্ট্রেলিয়ার অ্যাডিলেডে এক মহিলার মৃত্যুর (Woman Death in Australia) ঘটনায় চাঞ্চল্যকর মোড়। ভারতীয় বংশোদ্ভূত ৪২ বছরের বিক্রান্ত ঠাকুর (Indian Origin Australian Man) আদালতে স্বীকার করেছেন, তাঁর স্ত্রীর মৃত্যু তাঁর হাতেই হয়েছে। তবে তিনি নিজেকে খুনি মানতে রাজি নন!

অ্যাডিলেড ম্যাজিস্ট্রেটস কোর্টে হাজির হয়ে বিক্রান্ত স্পষ্ট জানিয়েছেন, তিনি অনিচ্ছাকৃত হত্যার দায় স্বীকার করছেন, কিন্তু ‘মার্ডার’ বা ইচ্ছাকৃত খুনের অভিযোগে নিজেকে নির্দোষ বলেই দাবি করছেন।

গত বছরের ডিসেম্বর মাসে স্ত্রী সুপ্রিয়া ঠাকুরের মৃত্যুর ঘটনায় তাঁকে গ্রেফতার করে পুলিশ। গত ১৪ জানুয়ারি দ্বিতীয়বার আদালতে তোলা হয় বিক্রান্ত ঠাকুরকে। সেদিন আদালতে আইনজীবীর পরামর্শ মেনেই বিক্রান্ত বলেন, “আমি অনিচ্ছাকৃত ঘটনার জন্য দোষী, কিন্তু খুনের জন্য নই।”

আসলে অস্ট্রেলিয়ার আইনে খুন এবং অনিচ্ছাকৃত খুনের মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে। খুনের ক্ষেত্রে মৃত্যুকে ইচ্ছাকৃত কাজ হিসেবে ধরা হয়, অন্যদিকে অনিচ্ছাকৃত খুনের ইস্যু তখনই প্রযোজ্য, যখন অভিযুক্তের কাজের ফলে অনিচ্ছাকৃত ভাবে কারও মৃত্যু ঘটে।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ২১ ডিসেম্বর অ্যাডিলেডের উত্তরাঞ্চলের একটি বাড়িতে জরুরি ফোন পেয়ে পৌঁছয় পুলিশ। সেখানে ৩৬ বছরের সুপ্রিয়া ঠাকুরকে অচৈতন্য অবস্থায় পাওয়া যায়। পুলিশকর্মীরা সঙ্গে সঙ্গে সিপিআর শুরু করলেও তাঁকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।

এর পরদিন, ২২ ডিসেম্বর প্রথমবার আদালতে তোলা হলে বিক্রান্ত জামিনের আবেদন করেননি। সেই সময় সরকারি আইনজীবীরা আদালতের কাছে ১৬ সপ্তাহ সময় চেয়ে নেন। তাঁদের যুক্তি ছিল, ডিএনএ পরীক্ষার রিপোর্ট, ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত রিপোর্ট-সহ গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ সংগ্রহ এখনও বাকি। আদালত সেই আবেদন মঞ্জুর করে এবং জানানো হয়, আগামী এপ্রিল মাসে ফের এই মামলার শুনানি হবে।

এই ঘটনার পর থেকেই সুপ্রিয়ার পরিবার ও বন্ধুদের মধ্যে গভীর শোক নেমে এসেছে। প্রবাসী ভারতীয় সমাজেও এই মৃত্যু ঘিরে প্রবল আলোড়ন তৈরি হয়েছে। সুপ্রিয়ার একমাত্র ছেলের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে তাঁর বন্ধু ও কমিউনিটির সদস্যরা একটি তহবিল সংগ্রহ শুরু করেছেন। ‘গোফান্ডমি’ পেজে জানানো হয়েছে, সুপ্রিয়া ছিলেন এক জন পরিশ্রমী ও স্নেহশীল মা। দীর্ঘ সময় কাজ করে তিনি একমাত্র ছেলের নিরাপদ ভবিষ্যৎ গড়তে চেয়েছিলেন।

তহবিল সংগ্রহের বিবরণে উল্লেখ করা হয়েছে, সুপ্রিয়া ভবিষ্যতে নার্স হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন। মানুষের সেবা করার ইচ্ছা থেকেই এই পেশা বেছে নিতে চেয়েছিলেন তিনি। তাঁর আকস্মিক ও মর্মান্তিক মৃত্যুতে সন্তানটি হঠাৎ করেই মায়ের স্নেহ ও আশ্রয় থেকে বঞ্চিত হয়েছে। এক রাতের মধ্যেই তার জীবন সম্পূর্ণ বদলে গিয়েছে।

অস্ট্রেলিয়ার আদালতে এই মামলার পরবর্তী শুনানির দিকে এখন তাকিয়ে রয়েছে সুপ্রিয়ার পরিবার, বন্ধু ও প্রবাসী ভারতীয় সমাজ। একই সঙ্গে, এই ঘটনা নতুন করে সামনে এনেছে পারিবারিক হিংসা ও অভিবাসী সমাজের ভেতরে লুকিয়ে থাকা জটিল বাস্তবতাকে।


```