পুলিশ জ্যোতি ও উদয়ের বিরুদ্ধে মামলা করে এবং চার্জশিট জমা দেয়। আদালতে জ্যোতির অপরাধ প্রমাণিত হয়। সিসিটিভি ফুটেজ-সহ একাধিক প্রমাণের ভিত্তিতে তাঁকে আজীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

মাকে যাবজ্জীবন দিল আদালত
শেষ আপডেট: 19 January 2026 13:56
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নিজের পাঁচ বছর বয়সি ছেলেকে খুনের দায়ে আজীবন কারাদণ্ড! মধ্যপ্রদেশের গোয়ালিয়রে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এমন এক ঘটনায় (Mother kills son Gwalior case)। অভিযুক্ত জ্যোতি রাঠোরকে দোষী সাব্যস্ত করে এই রায় দিয়েছে আদালত (Jyoti Rathore life sentence)। ঘটনায় নেপথ্যে রয়েছে পরিবার এবং বিশ্বাসভঙ্গের নির্মম কাহিনি।
ঘটনাটি ঘটে ২০২৩ সালের ২৮ এপ্রিল। পুলিশ কনস্টেবল ধ্যান সিং রাঠোরের স্ত্রী জ্যোতির সঙ্গে পাশের বাড়ির যুবক উদয় ইন্দোলিয়ার সম্পর্ক ছিল বলে অভিযোগ। তদন্তে উঠে আসে, জ্যোতির ছেলে পাঁচ বছরের যতীন মায়ের সঙ্গে উদয়কে আপত্তিকর অবস্থায় দেখে ফেলে। এতে ভয় পেয়ে যায় জ্যোতি! ছেলে বাবাকে সব বলে দিলে সম্পর্ক ফাঁস হয়ে যাবে। আর সেই আশঙ্কা থেকেই তিনি ভয়ংকর সিদ্ধান্ত নেন (Affair leads to murder)।
পুলিশের দাবি, জ্যোতিই নিজের ছেলেকে দু’তলা বাড়ির ছাদ থেকে নীচে ফেলে দেয় (Five-year-old killed by mother)। মারাত্মক জখম অবস্থায় যতীনকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই মৃত্যু হয়। প্রথমে এটিকে দুর্ঘটনা বলে ধরে নেওয়া হয়েছিল। মনে করা হয়েছিল, খেলার সময় ছাদ থেকে পড়ে গিয়েই মারা গেছে শিশুটি (Mother kills son Gwalior case)।
কিন্তু ১৫ দিন পর পুরো সত্য সামনে আসে। জ্যোতি কান্নায় ভেঙে পড়ে স্বামীর কাছে সব স্বীকার করে। তারপর ধ্যান সন্দেহজনক একাধিক বিষয় খেয়াল করেন। তিনি স্ত্রীর সঙ্গে কথোপকথনের অডিও-ভিডিও রেকর্ড করেন, বাড়ির সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেন এবং সব প্রমাণ নিয়ে পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করেন।
পুলিশ জ্যোতি ও উদয়ের বিরুদ্ধে মামলা করে এবং চার্জশিট জমা দেয়। আদালতে জ্যোতির অপরাধ প্রমাণিত হয়। সিসিটিভি ফুটেজ-সহ একাধিক প্রমাণের ভিত্তিতে তাঁকে আজীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
অন্যদিকে, আরেক অভিযুক্ত উদয় ইন্দোলিয়াকে প্রমাণের অভাবে বেকসুর খালাস করে আদালত। বিপক্ষের আইনজীবীও জানান, জ্যোতির বিরুদ্ধে যথেষ্ট প্রমাণ ছিল (Mother kills son Gwalior case), কিন্তু উদয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণে তথ্যের ঘাটতি ছিল। থানার আধিকারিক কমল কিশোর জানান, স্বামীর অভিযোগ এবং সিসিটিভি বিশ্লেষণ- দু’টিই সত্য উদঘাটনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে।