সুরাত যাওয়ার পথে ছত্তীসগড়ে ট্রেন থেকে নামিয়ে দেওয়া হয় তিনজনকে। বাংলায় কথা বলার কারণেই পরে তাঁদের আটক করা হয়েছে বলে অভিযোগ।
.jpeg.webp)
প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 19 January 2026 11:13
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রুজি-রোজগারের টানে ভিনরাজ্যে পাড়ি দিয়েছিল পূর্ব বর্ধমানের কেতুগ্রাম এলাকার তিন কিশোর। গন্তব্য ছিল গুজরাতের সুরাত। কিন্তু সেখানে পৌঁছনোর আগেই ছত্তীসগড়ে তাদের আটক করল রেল পুলিশ (Railway Police)। এই খবর কানে আসতেই উদ্বেগে ভেঙে পড়ে পরিবারের লোকজন। অভিযোগ উঠেছে, বাংলায় কথা বলার কারণেই ট্রেন থেকে নামিয়ে তিনজনকে আটক করা হয়েছে।
কেতুগ্রামের গঙ্গাটিকুরি পঞ্চায়েতের (Gangatikuri Gram Panchayat) ঝামটপুর গ্রামের দাসপাড়ার বাসিন্দা দিনমজুর দম্পতি পূর্ণচন্দ্র দাস ও সুখীদেবীর একমাত্র ছেলে বছর ষোলোর কার্তিক। সে বহরান জয়দুর্গা উচ্চ বিদ্যালয়ের (Beharan Jaydurga High School) নবম শ্রেণির ছাত্র। কার্তিকের সঙ্গে সুরাতের উদ্দেশে রওনা দিয়েছিল একই পাড়ার আরও দুই কিশোর—রাকেশ দাস ও রতন দাস। রাকেশও নবম শ্রেণিতে পড়ে, তবে রতন পড়াশোনা ছেড়ে দিয়েছে।
পরিবার সূত্রে খবর, শুক্রবার তারা বাড়ি থেকে বেরিয়েছিল সুরাতের একটি পাঁউরুটি কারখানায় কাজে যোগ দিতে। ওই দলে মোট ৯ জন ছিল। এর মধ্যে দু’জন মুর্শিদাবাদের সালার থানা (Salar Police Station) এলাকার বাসিন্দা।
রাকেশের বাবা বাণেশ্বর দাস বলেন, “আমার ছেলে-সহ পাড়ার ওই তিনজন মাস দেড়েক আগে সুরাতে গিয়েছিল। দু’সপ্তাহ আগে বাড়ি ফিরে আসে। এরপর আবার কাজে যাওয়ার জন্য রওনা হয়। শনিবার সন্ধ্যায় ফোন আসে আমার কাছে, ছত্তীসগড়ের একটি স্টেশনে তিনজনকে নামিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়। পরে রায়পুরে (Raipur) রেল পুলিশ ওদের আটক করে।”
এই ঘটনার পরেই অভিযোগের সুর চড়িয়েছে স্থানীয়রা। গঙ্গাটিকুরি পঞ্চায়েতের প্রধান গোপাল হাজরার দাবি, “খোঁজ নিয়ে জেনেছি, ছত্তীসগড়ে রেল পুলিশের সঙ্গে কথা বলার সময় ওরা হিন্দি বলতে পারেনি। বাংলায় কথা বলার কারণেই ওদের আটকে রাখা হয়েছে।”
যদিও এই অভিযোগ অস্বীকার করে তৃণমূল কংগ্রেসেরই এক যুবক এক সংবাদমাধ্যমকে জানান, নাবালক হওয়ার কারণেই তিনজনকে কাজে যাওয়ার সময় আটক করা হয়েছে। দলের বাকি সদস্যদের বয়সের প্রমাণপত্র দেখার পর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে তাঁর দাবি।
এনিয়ে কেতুগ্রামের বিধায়ক শেখ শাহনাওয়াজ (Sheikh Shahnawaz) বলেন, “বিজেপি শাসিত রাজ্য (BJP-ruled states) গুলিতে বাঙালি পরিযায়ী শ্রমিকদের উপর নির্যাতন চলছে। বিষয়টি নিয়ে আমি প্রশাসনিক স্তরে কথা বলছি, যাতে ওই তিন কিশোরকে নিরাপদে উদ্ধার করে বাড়ি ফিরিয়ে আনা যায়।”