ওই শ্রমিকের দাবি, যে ঘরে তিনি ভাড়ায় থাকতেন, সেখানে ঝামেলা এড়াতে বাড়ির মালিক বাইরে থেকে দরজা তালাবন্ধ করে দিতেন। কিন্তু বুধবার রাতে সেই তালা ভেঙে ১০ থেকে ১২ জন দুষ্কৃতী ঘরে ঢুকে পড়ে।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 11 January 2026 13:03
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিজেপি শাসিত ওড়িশায় ফের আক্রান্ত বাংলার পরিযায়ী শ্রমিক। বাংলায় কথা বলার ‘অপরাধে’ মারধর, টাকা ছিনতাই এবং ধর্মীয় স্লোগান বলতে বাধ্য করার গুরুতর অভিযোগ উঠল একদল দুষ্কৃতীর বিরুদ্ধে। কোনও মতে প্রাণ বাঁচিয়ে সেখান থেকে পালিয়ে বাংলায় ফিরেছেন তিনি। কিন্তু একমাত্র রোজগেরে ছেলে বাড়ি ফিরে আসায় এখন সংসার চালানো নিয়ে দুশ্চিন্তায় গোটা পরিবার।
নির্যাতিতর নাম রাজা আলি (Raja Ali)। তিনি হুগলির (Hooghly) গোঘাট (Goghat) এলাকার বাসিন্দা। প্রায় আট মাস আগে কাজের খোঁজে ওড়িশার (Odisha) কটকে (Cuttack) গেছিলেন। সেখানে তিনি পাথর শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। রাজার অভিযোগ, কাজ শুরু করার কিছুদিনের মধ্যেই বাংলায় কথা বলার জন্য তাঁকে হুমকি দেওয়া হয়। কিন্তু সংসারের কথা ভেবে তখন বাংলায় ফিরে আসেননি তিনি। বরং বিপদ এড়াতে কার্যত লুকিয়েই কাজ করতেন।
রাজার দাবি, যে ঘরে তিনি ভাড়ায় থাকতেন, সেখানে ঝামেলা এড়াতে বাড়ির মালিক বাইরে থেকে দরজা তালাবন্ধ করে দিতেন। কিন্তু বুধবার রাতে সেই তালা ভেঙে ১০ থেকে ১২ জন দুষ্কৃতী ঘরে ঢুকে পড়ে। অভিযোগ, প্রথমে তাঁকে বেধড়ক মারধর করা হয়। তারপর তাঁর কাছে থাকা প্রায় ৫০ হাজার টাকা কেড়ে নেওয়া হয়। শুধু তাই নয়, মারধরের পাশাপাশি তাঁকে ‘জয় শ্রীরাম’ (Jai Shri Ram) স্লোগান দিতে বাধ্য করা হয় বলেও অভিযোগ।
ঘটনার পর সেই রাতেই কোনও মতে সেখান থেকে পালিয়ে বাসে করে বাংলায় ফিরে আসেন রাজা। বাড়িতে ফিরে এখন আতঙ্কে দিন কাটছে তাঁর। রাজা বলেন, “আগেও হুমকি পেয়েছিলাম। কিন্তু বুধবার রাতে ১০-১২ জন বিজেপি (BJP) কর্মী ঘরে ঢুকে মারধর করে। আমার জমানো ৫০ হাজার টাকা নিয়ে নেয়। তারপর জোর করে জয় শ্রীরাম বলায়। ওই রাতেই আর না থেকে বাড়ি চলে আসি। বাবা-মা বলছে, আর ওখানে যেতে দেবে না। কিন্তু কাজ না থাকলে সংসার চলবে কী করে, সেটাই এখন বড় চিন্তা।”
এই ঘটনার পর রাজনৈতিক চাপানউতর শুরু হয়েছে। স্থানীয় তৃণমূল (Trinamool Congress) নেতৃত্ব বিজেপিকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করে সঙ্গে আক্রান্ত পরিযায়ী শ্রমিকের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছে। উল্লেখযোগ্য, আগামী ২২ জানুয়ারি হুগলি সফরে যাবেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। সেই সফরে রাজা তাঁর উপর হওয়া নির্যাতনের কথা তুলে ধরতে চান।
বারবার ভিনরাজ্যে বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকদের উপর হামলার অভিযোগ সামনে আসছে। বাংলায় কথা বলা কিংবা পরিচয়ের কারণেই কেন এই হেনস্থা, সে প্রশ্ন ফের নতুন করে উঠল রাজা আলির ঘটনায়।