পুলিশ যদিও দাবি করেছে, ঘটনার সূত্রপাত চুরির অভিযোগ থেকে। তবে তদন্তকারীরা স্বীকার করেছেন, নিহত শ্রমিকের কাছ থেকে কোনও চুরি যাওয়া সামগ্রী উদ্ধার হয়নি। মারধরের মধ্যেই রাম নারায়ণ বাঘেল অসুস্থ হয়ে পড়েন।

নিহত যুবক
শেষ আপডেট: 22 December 2025 22:35
দ্য ওয়াল ব্যুরো: 'তুমি কি বাংলাদেশি (Bangladeshi)?' - এই প্রশ্ন করেই মারধর শুরু, তার পর মুহূর্তের মধ্যে রক্তাক্ত পরিণতি। কেরলের (Kerala) পালাক্কাড জেলার ওয়ালায়ার এলাকায় এক পরিযায়ী শ্রমিককে (Migrant Worker) প্রকাশ্যে মারধর করে খুন করার ঘটনায় সামনে এল ভয়াবহ ভিডিও। মৃত শ্রমিকের নাম রাম নারায়ণ বাঘেল, বয়স ৩৫। তিনি আদতে ছত্তীসগড়ের (Chhattisgarh) বাসিন্দা।
ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে (Viral Video) দেখা যাচ্ছে, কয়েক জন স্থানীয় যুবক তাঁকে ঘিরে ধরে পরপর প্রশ্ন করছে। মাঝেমধ্যেই কেউ চড় মারছে, আবার কেউ ঘুষি দিচ্ছে। একজন আক্রমণকারীর হাসির শব্দও শোনা যাচ্ছে, যখন আরেকজন তাঁকে আঘাত করছে। এই মারধরের মধ্যেই বারবার প্রশ্ন - “তুমি কি বাংলাদেশি?”
পুলিশ (Kerala Police) যদিও দাবি করেছে, ঘটনার সূত্রপাত চুরির অভিযোগ থেকে। তবে তদন্তকারীরা স্বীকার করেছেন, নিহত শ্রমিকের কাছ থেকে কোনও চুরি যাওয়া সামগ্রী উদ্ধার হয়নি। মারধরের মধ্যেই রাম নারায়ণ বাঘেল অসুস্থ হয়ে পড়েন। রক্ত বমি শুরু হলে স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ তাঁকে পালাক্কাড জেলা হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরে তাঁকে স্থানান্তরিত করা হয় থ্রিসুর মেডিক্যাল কলেজে, সেখানেই মৃত্যু হয় তাঁর। ময়নাতদন্তে শরীরের বিভিন্ন অংশে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন মিলেছে।
ঘটনার পর নতুন মোড় নেয় বিষয়টি। নিহতের পরিবার দেহ গ্রহণ করতে অস্বীকার করেছে। তাঁর ভাই শশীকান্ত বাঘেল জানিয়েছেন, দোষীদের কঠোর শাস্তি ও মামলাটি তফসিলি জাতি ও উপজাতি (অত্যাচার প্রতিরোধ) আইনে রুজু না হলে তাঁরা দেহ নেবেন না। পরিবার ২৫ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণও দাবি করেছে।
নিহতের স্ত্রী ললিতা ও দুই ছেলে অনুজ ও আকাশ ছত্তীসগড় থেকে কেরলে এসে একই দাবিতে অনড় থাকার কথা জানান। পরিবারের সদস্যদের দাবি, মৃতদেহ দেখে তাঁরা ভেঙে পড়েছেন এবং দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কেরালাতেই থাকবেন।
ঘটনায় প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন। তিনি জানিয়েছেন, দোষীদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পালাক্কাডের পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করা হয়েছে এবং ক্ষতিপূরণ বিষয়টিও সরকার বিবেচনা করছে।
এই ঘটনার রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়াও তীব্র। সিপিআই(এম) দাবি করেছে, এটি নিছক গণপিটুনি নয়, বরং ‘জাতিগত ও পরিচয়ভিত্তিক ঘৃণা’র ফল। কেরলের মন্ত্রী এম বি রাজেশ বলেন, “বাংলাদেশি বলে দাগিয়ে পিটিয়ে মারা - এটা আরএসএস ছড়ানো জাতিগত ঘৃণার বিষ।”
তিনি এও অভিযোগ করেন, ঘটনাটিকে শুধুই ‘লিঞ্চিং’ বলে দেখিয়ে আসল প্রেক্ষিত চাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে। রাজেশের দাবি, অভিযুক্তদের মধ্যে দু’জন আগে আরএসএস–সিপিআই(এম) সংঘর্ষে জড়িত ছিল, যা তাদের অপরাধমূলক অতীতের ইঙ্গিত দেয়।
সব মিলিয়ে, পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যু কেরলে শুধু আইনশৃঙ্খলা নয়, পরিচয়, ঘৃণা ও ন্যায়বিচার নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিল।