তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, মৃতের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ তার পক্ষে এখনও পর্যন্ত কোনও বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ মেলেনি। সিসিটিভি ফুটেজ ও ঘটনার ভিডিও বিশ্লেষণ করে এখন পর্যন্ত কারখানার কর্মকর্তা ও শ্রমিক-সহ মোট ১২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 22 December 2025 18:22
দ্য ওয়াল ব্যুরো: একটি ফোন কলই হয়তো বাঁচাতে পারত ২৭ বছরের দীপু চন্দ্র দাসের (Dipu Chandra Das) জীবন। কিন্তু পুলিশে খবর দেওয়ার বদলে তাঁকে চাকরি ছাড়তে বাধ্য করা হল, কারখানা থেকে বের করে দেওয়া হল - আর তারপর তুলে দেওয়া হল উত্তেজিত জনতার (MOB) হাতে। বাংলাদেশের (Bangladesh) ময়মনসিংহের ভালুকায় পোশাক কারখানার কর্মী দীপু চন্দ্র দাসের খুনের ঘটনায় উঠে আসা তথ্য ক্রমশ আরও ভয়াবহ ছবি তুলে ধরছে।
গত ১৬ ডিসেম্বর ধর্মকে অপমানের অভিযোগকে কেন্দ্র করে দীপুকে পিটিয়ে হত্যা (Murder) করা হয়। বাংলাদেশের র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (RAB) এবং পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার দিন কারখানার সুপারভাইজাররা (Factory Supervisers) প্রথমে দীপুকে জোর করে পদত্যাগ করান। এরপর কোনও আইনি পদক্ষেপ না নিয়ে তাঁকে কারখানা চত্বরের বাইরে ঠেলে দেওয়া হয়। সেখানেই অপেক্ষা করছিল একদল উত্তেজিত জনতা।
অভিযোগ, ওই জনতাই তাঁকে নির্মমভাবে মারধর করে হত্যা করে। শুধু তাই নয়, হত্যার পর তাঁর দেহ ময়মনসিংহ জাতীয় সড়কের একটি গাছে ঝুলিয়ে দেওয়া হয় এবং পরে দেহে আগুন ধরানো হয়। স্থানীয় সূত্রে দাবি, কারখানার কয়েকজন কর্মী (Factory Workers) অর্থাৎ দীপুর সহকর্মীরাও হামলাকারীদের সঙ্গে যোগ দিয়েছিল।
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, মৃতের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ তার পক্ষে এখনও পর্যন্ত কোনও বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ মেলেনি। সিসিটিভি ফুটেজ (CCTV Footage) ও ঘটনার ভিডিও বিশ্লেষণ করে এখন পর্যন্ত কারখানার কর্মকর্তা ও শ্রমিক-সহ মোট ১২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
তবে এই হত্যাকাণ্ডকে হঠাৎ ঘটে যাওয়া কোনও উত্তেজিত প্রতিক্রিয়া বলে মানতে নারাজ তদন্তকারীদের একাংশ। তাঁদের মতে, পুরো ঘটনা কয়েক ঘণ্টা ধরে ধাপে ধাপে ঘটেছে। চাকরি ছাড়ানো থেকে শুরু করে পুলিশে দেরিতে খবর দেওয়া এবং শেষে পরিকল্পিতভাবে দীপুকে উত্তেজিত জনতার হাতে তুলে দেওয়া - এই ধারাবাহিকতা স্পষ্ট করে দেয়, এটি তাৎক্ষণিক হিংসা নয়, বরং পূর্বপরিকল্পিত হত্যার ঘটনা।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের সংখ্যালঘু নিরাপত্তা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। প্রশাসনের আশ্বাস সত্ত্বেও মানবাধিকার সংগঠনগুলির একাংশ নিরপেক্ষ ও দ্রুত তদন্তের দাবি তুলেছে।
ঘটনাটি ঘটে এমন এক সময়ে, যখন বাংলাদেশ জুড়ে রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্থিরতা তুঙ্গে। সম্প্রতি যুব নেতা শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুর পর থেকেই পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। হাদি ছিলেন গত বছরের ছাত্র-নেতৃত্বাধীন জুলাই অভ্যুত্থান-এর অন্যতম মুখ এবং ইনকিলাব মঞ্চ-এর মুখপাত্র।
জানা গিয়েছে, গত বৃহস্পতিবার সিঙ্গাপুরের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় হাদির। ঢাকায় গত ১২ ডিসেম্বর মুখোশধারী দুষ্কৃতীদের ছোড়া গুলি মাথায় লাগলে গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে সিঙ্গাপুরে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। পরে সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়।