অশীতিপর নির্মলেন্দু গুণ বাংলাদেশের স্বনামধন্য কবিদের অন্যতম। কবিতা, সাহিত্য দিয়েই তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে ভূমিকা পালন করেছেন।

নির্মলেন্দু গুণ
শেষ আপডেট: 21 December 2025 22:46
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলাদেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি এবং ময়মনসিংহে হিন্দু তরুণ দীপুচাঁদ দাসকে পিটিয়ে, পুড়িয়ে হত্যার (Dipu Das Murder in Bangladesh) ঘটনার প্রতিবাদে কলম ধরলেন অশীতিপর কবি নির্মলেন্দু গুণ (Poet Nirmalendu Goon)। সে দেশের ইসলামিক কট্টরপন্থী তরুণ নেতা শরিফ ওসমান বিন হাদিকে (Sharif Osman Bin Hadi) হত্যার ঘটনা নিয়ে তোলপাড় চলছে। তাঁকে শহিদের মর্যাদা দিয়ে জাতীয় কবি নজরুলের সমাধির পাশে সমাহিত করা হয়েছে। শনিবার সে দেশে পালিত হয়েছে জাতীয় শোক।
হাদিকে নিয়ে উত্তাল পরিবেশের অনেকটাই চাপা পড়ে গেছে ময়মনসিংহের ঘটনা। যে নৃশংসভাবে ওই শ্রমিক হিন্দু তরুণকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে সাম্প্রতিক অতীতে বাংলাদেশের (Bangladesh) চলমান হত্যালীলাতেও তার নজির নেই।
সেই প্রসঙ্গ টেনে বাংলাদেশের প্রবীণ কবি সহ-নাগরিক সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম সমাজের উদ্দেশে লিখেছেন, 'বাংলাদেশি মুসলমান, তুমি হাদির ব্যথা বোঝো, আরবারের ব্যথা বোঝো, গাজার ব্যথা বোঝো, কিন্তু বোঝনা তোমাদের সাথে-স্যরি তোমাদের দয়ায় বেঁচে থাকা সেকেন্ড ক্লাস সিটিজেনদের। কী করলে বুঝবা? কী করলে পাশে থাকবা। কী করলে আমাদের প্রাণটুকু নিয়ে বাঁচতে দিবা।
অশীতিপর নির্মলেন্দু গুণ বাংলাদেশের স্বনামধন্য কবিদের অন্যতম। কবিতা, সাহিত্য দিয়েই তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে ভূমিকা পালন করেছেন। তাঁর লেখা 'হুলিয়া' এবং 'প্রেমাংশুর রক্ত চাই'-এর মত কবিতাগুলি মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ধারক। স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের আদর্শের একজন শক্তিশালী কণ্ঠস্বর। তিনিই প্রথম শেখ মুজিবুর রহমানের ১৯৭১-এর সাত মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণের প্রেক্ষাপটে লিখেন তাঁর বিখ্যাত কবিতা 'স্বাধীনতা এই শব্দটি কীভাবে আমাদের হলো।'
ওই ভাষণেই শেখ মুজিবুর রহমান তাঁর ঐতিহাসিক আহ্বান জানিয়ে বলেছিলেন 'এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।' মুজিবের সেই ভাষণ শুনে তরুণ নির্মলেন্দু গুণ বঙ্গবন্ধুকে রাজনীতির কবি বলে আখ্যায়িত করেছিলেন।
ময়মনসিংহে কীভাবে হিন্দু তরুণকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে ফেসবুক পোস্টে তার বর্ণনা দিয়েছেন এই কবি। লিখেছেন, কাজ করতো গার্মেন্টসে, বিএ পাশ, চেহারা রংবাজের মতন, 'রবিদাস' সম্প্রদায়ের যেটাকে বর্ণবাদী হিন্দুরা আবার নিচু জাত মনে করে! সে পুলিশকে বলেছে সে কোন কটুক্তি করে নাই। তার ওই রকম ফেসবুক প্রোফাইল নাই। পুলিশ তারে জনতার সামনে মাফ চাইতে বলছে। সে মাথায় লারায়ে ক্রমাগত বলে গেছে সে এই কাজই করে নাই। মক্কা সে কেন চাইবে!
মনে হইতে পারে সে ভুল করছে, মাপ চেয়ে নিলেই হইত। কিন্তু আল্লাহ মাফ করলেও তৌহিদি জনতা মাফ করে নাই ভাই সেইটা দীপু দাসও বুঝেছিলেন।
একই হিন্দু, তুই সে তার না-করা অন্যায় স্বীকার করে নাই। তিন তার চেহারার মধ্যেও মায়া নাই। তৌহিদি জনতা তারে মনের আঁশ মিটিয়ে পিটিয়েছে। হাতের মার, লাঠির মার, রডের মার, ইটের থেঁতলানির চোটে জামা ছিড়ে গেছে, প্যান্টটা খুলে পড়ে গেছে গোড়ালির কাছে! দীপু দিপুদাস হয়তো ভাবছিল এবার ছেড়ে দেবে! কিন্তু তৌহিদি জনতার রাগ কমে না। তারা অর্ধমৃত দীপুকে টেনে তোলে। একজন রশি নিয়ে এসে গলায় বাঁধে, আরেকজন গাছে উঠে ফাঁস লাগানোর চেষ্টা। নাহ ওজন বেশি। দ্বিতীয় তৌহিদি ব্যক্তি গাছে উঠে পড়ে। এবার উঠানো গেছে। ঝুলানো কিন্তু পা মাটিতে। আবারো বেধড়ক মার। ভাবছেন মরে গেছে? না নড়ে তো, পা দুটো মাত্র ছটফট করল। কী করা যায়? এবার পা দুটো বেঁধে ফেলা হলো। একজন পেট্রোল নিয়ে এলো। আর ২-৩ জন ঘরে আগুন লাগিয়ে দীপুর শরীরে লাগিয়ে দিলো! কিন্তু তাতে কী, জ্বলন্ত শরীরে আবার শুরু হলো লাঠি আর রডের বারি। আচ্ছা মানুষের ব্রেইন কি এত পেন সেন্স করতে পারে? এক্সক্লুড হয়ে যায়? কী হয় আসলে? এই সব কিছু হল আবার তার পরিবারের সামনে! দীপু দাসের মা-বাবা বেঁচে আছেন। এই যন্ত্রণা ওনারা কীভাবে সইবেন?