ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের সংখ্যালঘু নিরাপত্তা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। প্রশাসনের আশ্বাস সত্ত্বেও মানবাধিকার সংগঠনগুলির একাংশ নিরপেক্ষ ও দ্রুত তদন্তের দাবি তুলেছে।
.jpeg.webp)
ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 21 December 2025 14:24
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলাদেশের (Bangladesh) ময়মনসিংহে (Mymensingh) এক হিন্দু যুবককে গণপিটুনি দিয়ে হত্যা এবং পরে আগুনে পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় তোলপাড় সর্বত্র। ছাত্রনেতা শরিফ ওসমান হাদির (Osman Hadi) মৃত্যুকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া উত্তেজনার মধ্যেই এই ঘটনা ঘটেছে।
বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনুস (Muhammad Yunus) ইতিমধ্যেই জানিয়েছেন, এই ঘটনায় ১০ জনকে গ্রেফতার (Arrest) করা হয়েছে। একইসঙ্গে বিবৃতি দিয়ে বলা হয়েছে - নতুন বাংলাদেশের মাটিতে এ ধরনের হিংসার কোনও জায়গা নেই। এই জঘন্য অপরাধে যুক্ত কাউকেই রেহাই দেওয়া হবে না।
কে ছিলেন মৃত যুবক
নিহত যুবকের নাম দীপু চন্দ্র দাস (Dipu Chandra Das)। বয়স ২৫ বছর। তিনি পেশায় পোশাক কারখানার কর্মী ছিলেন। সর্বভারতীয় এক সংবাদ সংস্থার খবর অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার রাতে ময়মনসিংহের (Mymensingh) ভালুকা এলাকায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগে একদল উত্তেজিত জনতা দীপুকে মারধর করে। পরে তাঁর দেহ একটি গাছে বেঁধে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়।
দীপু ময়মনসিংহের স্কোয়ার মাস্টারবাড়ি এলাকার পাইওনিয়ার নিট কম্পোজিট ফ্যাক্টরিতে কাজ করতেন। নিহত যুবকের বাবা রবিলাল দাস জানান, ছেলের মৃত্যুর খবর প্রথমে তাঁরা সামাজিক মাধ্যম থেকেই জানতে পারেন।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের সংখ্যালঘু নিরাপত্তা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। প্রশাসনের আশ্বাস সত্ত্বেও মানবাধিকার সংগঠনগুলির একাংশ নিরপেক্ষ ও দ্রুত তদন্তের দাবি তুলেছে।
ঘটনাটি ঘটে এমন এক সময়ে, যখন বাংলাদেশ জুড়ে রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্থিরতা তুঙ্গে। সম্প্রতি যুব নেতা শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুর পর থেকেই পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। হাদি ছিলেন গত বছরের ছাত্র-নেতৃত্বাধীন জুলাই অভ্যুত্থান-এর অন্যতম মুখ এবং ইনকিলাব মঞ্চ-এর মুখপাত্র।
জানা গিয়েছে, গত বৃহস্পতিবার সিঙ্গাপুরের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় হাদির। ঢাকায় গত ১২ ডিসেম্বর মুখোশধারী দুষ্কৃতীদের ছোড়া গুলি মাথায় লাগলে গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে সিঙ্গাপুরে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। পরে সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়।