গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় তাঁকে সিলেটের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে স্থানান্তরিত করা হয় আইসিইউ-তে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়।

বাংলাদেশে ফের হিন্দু খুন
শেষ আপডেট: 10 January 2026 16:50
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর নির্যাতনের ঘটনা থামছেই না। ফের খুন এক হিন্দু যুবক (Another Hindu man killed in Bangladesh)। দেশজুড়ে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও নির্বাচনের আগে লাগাতার উত্তেজনার মধ্যেই একের পর এক হিন্দু নাগরিকের ওপর হামলা (Attack on Hindus), অত্যাচার ও হত্যাকাণ্ডের খবর উঠে আসছে। তাতে স্থানীয়দের পাশাপাশি মানবাধিকার কর্মীরাও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
বৃহস্পতিবার সুনামগঞ্জ জেলায় জয় মহাপাত্র (Joy Mahapatra killed in Bangladesh) নামে এক হিন্দু যুবককে খুন করা হয়েছে বলে অভিযোগ। পরিবার সূত্রে দাবি, স্থানীয় এক ব্যক্তির সঙ্গে বিরোধের জেরে তাঁকে মারধর করা হয় এবং বিষ খাইয়ে দেওয়া হয়। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় তাঁকে সিলেটের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে স্থানান্তরিত করা হয় আইসিইউ-তে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়। ঘটনাটি এখনও তদন্তাধীন।
এই ঘটনাটি সামনে আসার মাত্র কয়েক দিন আগেই, চুরি করার সন্দেহে তাড়া খেয়ে এক ২৫ বছরের যুবকের মৃত্যু হয়। প্রাণ বাঁচাতে মিঠুন সরকার নামের ওই যুবক স্থানীয় একটি খালে ঝাঁপ দিলেও আর উঠে আসতে পারেননি। মঙ্গলবার বন্দরপুর গ্রামের বাসিন্দা মিঠুনের দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহতের পরিবার দাবি করেছে, তাঁকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যে অভিযোগ দিয়ে তাড়া করা হয়েছিল।
২০২৪ সালে ছাত্র আন্দোলনের (2024 July Protest) পরে শেখ হাসিনা (Seikh Hasina) সরকারের পতন হয়। এরপর সরকার গঠন করে প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব নেন মহম্মদ ইউনুস। প্রায় দেড় বছর কেটে গেলেও রাজনৈতিক অস্থিরতা এখনও পুরোপুরি কাটেনি। এমন অবস্থাতেই আগামী নির্বাচনের মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগেও সংখ্যালঘুদের ওপর হওয়া একের পর এক হামলার ঘটনা উদ্বেগ বাড়িয়েছে। মানবাধিকার কর্মীদের মতে, এই হামলাগুলি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং প্রশাসনের নিরাপত্তা দুর্বলতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
এদিকে, বৃহস্পতিবার ময়মনসিংহে হিন্দু যুবক দীপু চন্দ্র দাস হত্যাকাণ্ডের (Dipu Chandra Das Murder Case) মামলায় মূল অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে বাংলাদেশ পুলিশ (Main accused arrested)। ইয়াসিন আরাফাত নামে অভিযুক্তকে স্থানীয়রা ‘শিক্ষক’ হিসেবে চিনত। পুলিশ জানিয়েছে, দীপুর ওপর ‘ধর্ম অবমাননার অভিযোগ’ তুলে পরিকল্পিতভাবে তাঁকে ফাঁসানো হয়। প্রথমে জনতাকে উস্কানি এরপর সুযোগ বুঝে দীপুকে টেনে বের করে ক্ষুব্ধ জনতার হাতে তুলে দেওয়া হয়, আর এর 'মাস্টারমাইন্ড' ছিলেন ইয়াসিন আরাফাত।
পরিবারের অভিযোগ, না কোনও আইনি প্রক্রিয়া, না কোনও তদন্ত, জনতার সামনে প্রথমে তাঁকে নির্মমভাবে পিটিয়ে মেরে ফেলা হয়। পরে তাঁর দেহ গাছে ঝুলিয়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। তদন্তে আরও জানা গেছে, দীপুর কয়েকজন সহকর্মীও এই হামলায় সক্রিয়ভাবে অংশ নেয়।
ক্রমাগত এই ধরনের ঘটনায় বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা এবং নির্বাচনের আগে বাড়তে থাকা উগ্রতার জেরে পরিস্থিতি আরও অশান্ত হতে পারে।