বাংলা ভাষায় কথা বলার অপরাধে পশ্চিমবঙ্গের দুই পরিযায়ী শ্রমিক (Migrant Workers) গ্রেফতার হয়েছিলেন মহারাষ্ট্রের ভিওয়ান্ডিতে। রাজ্যে ফিরলে অসিত সরকার ও গৌতম বর্মণের সঙ্গে দেখা করলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়

পরিযায়ী শ্রমিকদের সঙ্গে দেখা করলেন অভিষেক
শেষ আপডেট: 29 December 2025 00:59
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলা ভাষায় কথা বলার অপরাধে পশ্চিমবঙ্গের দুই পরিযায়ী শ্রমিক (Migrant Workers) গ্রেফতার হয়েছিলেন মহারাষ্ট্রের ভিওয়ান্ডিতে। রাজ্যে ফিরলে অসিত সরকার ও গৌতম বর্মণের সঙ্গে দেখা করেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)।
রবিবার তৃণমূলের সোশ্যাল মিডিয়া পেজে এই সংক্রান্ত একটি পোস্ট করা হয়। জানানো হয়েছে, দু’জনেরই বাড়ি কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদারের (Sukanta Majumdar) সংসদীয় এলাকায়।
ঘটনাটি সামনে আসার পর আরও একটি বিষয় অবাক করেছে যে দুজনেরই নাম খসড়া ভোটার তালিকা (SIR)-এ রয়েছে। অর্থাৎ তাঁরা আইনত বাংলার বৈধ ভোটার। আরও চাঞ্চল্যকর বিষয়, গৌতম বর্মণ নিজেই বিজেপির বুথ সভাপতি (BJP leader migrant worker arrested)। তবুও গ্রেফতারের পর তাঁর স্ত্রী যখন সাহায্যের জন্য বালুরঘাট সাংসদ সুকান্ত মজুমদারের দফতরে যোগাযোগ করেন, সেখান থেকে কোনও উত্তর মেলেনি বলে অভিযোগ।
নিজের এলাকার মানুষ, এমনকি নিজের দলের সক্রিয় কর্মীকেও রক্ষা করতে এগিয়ে আসেননি কেন্দ্রীয় মন্ত্রী, এই অভিযোগে সুকান্ত মজুমদারকে নিশানা করেছে তৃণমূল (TMC)।
ওই পোস্টে আরও বলা হয়েছে, 'এই পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ হয়েও মানবিক কারণে তাঁদের পাশে দাঁড়িয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। আজ দেখা করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দু’জনের সঙ্গেই কথা বলেন, তাঁদের পরিস্থিতি শোনেন এবং পরিবারগুলির প্রতি সাহায্যের আশ্বাস দেন।'
তৃণমূল সূত্রের দাবি, এখানে কোনও রাজনৈতিক স্বার্থ নেই, এটি সম্পূর্ণ মানবিক দায়বদ্ধতার বিষয়। বাংলা ভাষায় কথা বলা যদি অপরাধ হয়, তা হলে তার প্রতিবাদে এবং আক্রান্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোই তাদের দায়িত্ব বলে মনে করছে শাসক দল।
বিজেপি শাসিত রাজ্যে বাঙালি পরিযায়ী শ্রমিকদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ নতুন নয়। এর আগেও এমন ঘটনা সামনে এসেছে। বাংলা কথা বলায় কোথাও মারধর, কোথাও রহস্যমৃত্যু! অভিযোগ উঠেছে একাধিক। এনিয়ে বারবার সরব হয়েছে বাংলার শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস।
কয়েকদিন আগেই ওড়িশার সম্বলপুরে (Odisha Sambhalpur) এক বাঙালি পরিযায়ী শ্রমিককে পিটিয়ে খুনের অভিযোগ উঠেছে। নিহত ১৯ বছরের যুবক জুয়েল শেখের এক সহকর্মীর দাবি, হামলার শুরু আধার কার্ড (Aadhaar Card) দেখতে চাওয়াকে ঘিরেই। অভিযুক্তরা তাঁদের বাংলাদেশি (Bangladeshi) সন্দেহ করেছিল বলে অভিযোগ।
তাঁর দাবি, জুয়েলের ওপর নির্মম নির্যাতন করা হয়। গুরুতর জখম অবস্থায় তাঁকে সম্বলপুরের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় জুয়েল শেখের মৃত্যু হয়।
ওড়িশার এই ঘটনার প্রতিবাদে সোশ্যাল মিডিয়ায় এক দীর্ঘ পোস্টে বিজেপি সরকারকে আক্রমণ করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি জানান, 'প্রতিটি বিজেপিশাসিত রাজ্যে বাঙালি পরিযায়ী শ্রমিকদের ওপর যে নির্মম অত্যাচার হচ্ছে তাঁর বিরুদ্ধে পশ্চিমবঙ্গ সরকার কড়া অবস্থান নেবে।' নিহত যুবকের পরিবারের পাশে থাকার বার্তাও দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।