ওয়াশিংটনের দাবি নিয়ে এখনও সরাসরি কোনও প্রতিক্রিয়া দেয়নি নরেন্দ্র মোদীর সরকার। সরকারিভাবে এই দাবি নিশ্চিতও যেমন করা হয়নি, খারিজও করেনি ভারত।

শেষ আপডেট: 19 February 2026 08:12
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারত রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল কেনা বন্ধ করতে রাজি হয়েছে (US claim India stop Russian oil)- ওয়াশিংটনের জোর গলার এই দাবিকে সরাসরি খারিজ করে দিল মস্কো। রাশিয়ার বক্তব্য, নয়াদিল্লি তার জ্বালানি আমদানি নীতিতে কোনও বদল এনেছে, এমনটা বিশ্বাস করার “কোনও কারণ নেই”(India Russia oil imports)।
বুধবার রুশ বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা (Maria Zakharova) বলেন, ভারতের রাশিয়ান হাইড্রোকার্বন কেনা “দুই দেশের পক্ষেই লাভজনক” এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সাহায্য করে।
তিনি স্পষ্ট জানান, ভারত তার অবস্থান বদলেছে বলে বিশ্বাস করার কোনও কারণ নেই। একই সঙ্গে মার্কিন নেতৃত্বের মন্তব্যের কড়া সমালোচনা করে তাঁর বক্তব্য, স্বাধীন দেশগুলিকে নির্দেশ দেওয়ার অধিকার যেন নিজেদের হাতে তুলে নিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) এবং মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও (Marco Rubio)।
মার্কিন দাবি, বাণিজ্য চুক্তি ও প্রেক্ষাপট
এই মন্তব্য এমন সময় এল, যখন ওয়াশিংটন দাবি করেছে, ভারত নাকি রাশিয়ার তেল আমদানি বন্ধ করতে সম্মত হয়েছে। গত সপ্তাহেই মার্কো রুবিও বলেছিলেন, ভারত এই সিদ্ধান্তে রাজি হয়েছে।
এর আগে ফেব্রুয়ারির শুরুতে ভারতের সঙ্গে একটি বাণিজ্য চুক্তির ঘোষণা করতে গিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও একই দাবি করেন যে, ভারত আর রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত তেল কিনবে না।
এই দাবিগুলির পেছনে রয়েছে সাম্প্রতিক এক ফোনালাপ। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi) এবং ট্রাম্পের মধ্যে কথাবার্তার পরই এই ঘোষণা সামনে আসে। পরে দুই দেশই জানায়, ভারতীয় পণ্যের উপর মার্কিন শুল্ক ৫০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৮ শতাংশ করা হয়েছে। এর মধ্যে ছিল গত বছরের অগস্টে রাশিয়ার তেল কেনার কারণে চাপানো ২৫ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক প্রত্যাহারও।
এখনও চুপ নয়াদিল্লি, ‘জাতীয় স্বার্থ’-ই প্রধান
তবে ওয়াশিংটনের দাবি নিয়ে এখনও সরাসরি কোনও প্রতিক্রিয়া দেয়নি নরেন্দ্র মোদীর সরকার। সরকারিভাবে এই দাবি নিশ্চিতও যেমন করা হয়নি, খারিজও করেনি ভারত।
নয়াদিল্লির অবস্থান আগের মতোই স্পষ্ট, জ্বালানি কেনাবেচার ক্ষেত্রে “জাতীয় স্বার্থ”ই হবে একমাত্র নির্দেশক।
এর আগে রাশিয়া অভিযোগ করেছিল, ব্রিটেন নাকি ভারত-সহ অন্যান্য দেশকে রাশিয়ার তেল কেনা থেকে বিরত রাখতে নানা চাপ সৃষ্টি করছে। মস্কোর দাবি, শুল্ক, নিষেধাজ্ঞা এবং সরাসরি নিষেধাজ্ঞার মতো “জবরদস্তিমূলক” পদ্ধতি ব্যবহার করছে ওয়াশিংটন।
ইউরোপকেও খোঁচা মস্কোর
এদিন শুধু আমেরিকাই নয়, ইউক্রেন ইস্যুতে ইউরোপীয় দেশগুলির ভূমিকাও কটাক্ষ করেন মারিয়া জাখারোভা। তাঁর অভিযোগ, ইউক্রেনের মিত্র ইউরোপীয় দেশগুলি শান্তি প্রক্রিয়ায় বাস্তব আগ্রহ দেখাচ্ছে না।