রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধ করার বিষয়ে ভারতের তরফে কোনও বার্তা এখনও পাওয়া যায়নি, স্পষ্ট ভাষায় জানাল রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের দফতর।

নরেন্দ্র মোদী ও ভ্লাদিমির পুতিন
শেষ আপডেট: 3 February 2026 17:06
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধ করার বিষয়ে ভারতের তরফে কোনও বার্তা এখনও পাওয়া যায়নি, স্পষ্ট ভাষায় জানাল রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের দফতর। মঙ্গলবার ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেশকভ বলেন, নয়াদিল্লির সঙ্গে কৌশলগত অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার বিষয়ে মস্কো বরাবরের মতোই আগ্রহী।
সোমবার রাতে (ভারতীয় সময়) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যচুক্তির ঘোষণা করে দাবি করেছিলেন, রাশিয়া (Russia) থেকে তেল কেনা বন্ধ করতে রাজি হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)। ট্রাম্পের বক্তব্য অনুযায়ী, শুল্ক সংক্রান্ত সমঝোতার জন্য মোদী নিজেই তাঁর কাছে অনুরোধ করেছিলেন। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, ভবিষ্যতে আমেরিকা ও তার মিত্র দেশগুলি থেকেই আরও বেশি পরিমাণে তেল কিনবে ভারত।
তবে ট্রাম্পের ওই ঘোষণার পরেও নয়াদিল্লির তরফে রাশিয়া থেকে তেল আমদানি বন্ধ করার বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি সামনে আসেনি। সেই প্রেক্ষিতেই পেশকভের মন্তব্য কার্যত মার্কিন প্রেসিডেন্টের দাবিকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে বলে মনে করছে কূটনৈতিক মহল।
পেশকভ বলেন, “রাশিয়া ভারতের সঙ্গে তার সম্পর্ককে অত্যন্ত গুরুত্ব দেয়। দ্বিপাক্ষিক কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।” তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট ইঙ্গিত, ভারত-রাশিয়া সম্পর্ক নিয়ে মস্কোর অবস্থানে কোনও পরিবর্তন ঘটেনি।
উল্লেখ্য, ইউক্রেন যুদ্ধের আবহে রাশিয়ার উপর আমেরিকার আরোপিত নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করেই তেল আমদানি চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগে গত বছরের অগস্টের শুরুতে ভারতীয় পণ্যের উপর জরিমানা-সহ ৫০ শতাংশ শুল্ক চাপানোর কথা ঘোষণা করেছিল ট্রাম্প প্রশাসন। তা সত্ত্বেও রাশিয়া থেকে তেল কেনা অব্যাহত রেখেছে ভারত।
ট্রাম্প সরকারের যুক্তি, ভারতের তেল কেনার কারণেই ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার জন্য আর্থিক জোগান পাচ্ছে রাশিয়া। যদিও এই অভিযোগ ঘিরে পাল্টা তথ্য তুলে ধরেছে ভারতের বিদেশ মন্ত্রক। তাদের বক্তব্য, যারা ভারতের সমালোচনা করছে, সেই দেশগুলিই আবার রাশিয়ার সঙ্গে বিপুল পরিমাণে বাণিজ্যে যুক্ত।
বিদেশ মন্ত্রকের দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, শুধু ২০২৪ সালেই ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও রাশিয়ার মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ৬৭,৫০০ কোটি ইউরো— ভারতীয় মুদ্রায় যার অঙ্ক প্রায় ১৮ লক্ষ ৩২ হাজার কোটি টাকা। এই পরিমাণ ভারত-রাশিয়া মোট বাণিজ্যের তুলনায় অনেকটাই বেশি। শুধু তা-ই নয়, ২০২৪ সালে ইউরোপে প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানির পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৬৫ লক্ষ টনে, যা ২০২২ সালের রেকর্ডকেও ছাড়িয়ে গিয়েছে।
এই পরিসংখ্যান সামনে রেখে ভারতের যুক্তি, একতরফা ভাবে দায় চাপানোর রাজনীতি বাস্তবতার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। আন্তর্জাতিক মহলের একাংশের মতে, রাশিয়ার তেল নিয়ে ভারত-আমেরিকা-রাশিয়ার ত্রিকোণ সমীকরণ আগামী দিনে আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।