স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৭টার আশপাশে, অর্থাৎ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতি ঘোষণার কিছুক্ষণ আগেই ইরান আরও একবার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইজরায়েলের দিকে।

চলছে উদ্ধারকাজ
শেষ আপডেট: 24 June 2025 11:44
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সেই যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পরও থামল না মিসাইল অ্যাটাক (Missile Attack)। ইরান (Iran) থেকে ছোড়া একাধিক ক্ষেপণাস্ত্রে কেঁপে উঠল ইজরায়েলের (Israel) দক্ষিণের শহর বিয়ারশেভা। হামলায় পাঁচজন নিহত এবং অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে ইজরায়েল প্রশাসন।
স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৭টার আশপাশে, অর্থাৎ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতি ঘোষণার কিছুক্ষণ আগেই ইরান আরও একবার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইজরায়েলের দিকে।
বিয়ারশেভার একটি সাততলা অ্যাপার্টমেন্ট বিল্ডিংয়ে প্রচণ্ড বিস্ফোরণ হয়। ইজরায়েলের জরুরি পরিষেবা সংস্থা মাগেন ডেভিড অ্যাডম (MDA) জানিয়েছে, সেই ধ্বংসস্তূপ থেকে তিনজনকে উদ্ধার করা হয়েছে, যাঁরা চতুর্থ তলায় আশ্রয় নিয়েছিলেন।
আহতদের মধ্যে দু’জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক, এবং ছ’জন সামান্য আহত, বাকিরা মানসিক ট্রমায় ভুগছেন বলে জানিয়েছে এমডিএ। ক্ষত ও অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে আঘাতের পাশাপাশি উদ্বেগজনিত সমস্যাও দেখা দিয়েছে অনেকের মধ্যে।
বিয়ারশেভার ধ্বংসস্থলের বর্ণনায় এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, “বিস্ফোরণের জায়গা থেকে ঘন ধোঁয়া উঠছিল। কাছে যেতেই দেখতে পাই, একাধিক বাড়িতে প্রবল ক্ষতি হয়েছে। একটি বাড়ির সামনে এক ব্যক্তি অজ্ঞান হয়ে পড়ে ছিলেন। ভিতরে গিয়ে দেখি আরও দু’জন—একজন পুরুষ ও একজন মহিলা, অজ্ঞান অবস্থায় রয়েছেন।”
ইজরায়েলের ফায়ার অ্যান্ড রেসকিউ অথরিটি জানিয়েছে, এখনও অনেকে নিখোঁজ। তাঁদের অনুসন্ধান চলছে। কর্তৃপক্ষ অনুরোধ করেছে, “অনুগ্রহ করে সাধারণ মানুষ ঘটনাস্থলে যাবেন না। এতে উদ্ধারকাজে বাধা তৈরি হচ্ছে এবং নিরাপত্তার ঝুঁকি বাড়ছে।”
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের টুকরো গিয়ে পড়ে বেন-গুরিয়ন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও। যদিও বড় কোনও ক্ষয়ক্ষতির খবর নেই। অন্যদিকে, ইজরায়েলের উত্তরাঞ্চলের শ্যারন ও হাদেরা এলাকায়ও আঘাত হেনেছে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের অংশ। ১৫ বছর বয়সি এক কিশোর আহত হয়েছে বলে জানিয়েছে এমডিএ।
ইরানের সরকারি সংবাদমাধ্যম এসএনএন দাবি করেছে, সকাল ৭টা ২০ মিনিট নাগাদ তারা যুদ্ধবিরতির শর্ত মানছে। কিন্তু তার আগে পর্যন্ত চারটি আলাদা আলাদা ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয় ইজরায়েলের উপর। এই ঘটনার পর আবারও প্রশ্ন উঠছে—আন্তর্জাতিক যুদ্ধবিরতির ঘোষণা ও বাস্তব পরিস্থিতির মধ্যে ব্যবধান কি ক্রমেই বেড়ে চলেছে?