আন্তর্জাতিক মহলের সমালোচনার মুখে ইরানি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে ১৮ বছরের কম বয়সি শিশুরা যুদ্ধে সহযোগীর ভূমিকা পালন করবে। তবে তা বাধ্যতামূলক নয়। ১২-১৩ বছর বয়সি শিশু ও তাদের বাবা মায়েরা মনে করলে সন্তানদের এই কাজে পাঠাতে পারে।

শেষ আপডেট: 27 March 2026 15:20
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইরানে শিশুদের যুদ্ধে যোগদানের বয়স এক ধাপে ছয় বছর কমিয়ে দেওয়া হল। এখন ১২ বছর বয়স হলেই যুদ্ধের ময়দানে যেতে হতে পারে।
এতদিন বাধ্যতামূলকভাবে যুদ্ধে যোগদানের বয়স সীমা ছিল ১৮। ইসলামিক রিভল্যুশনারি গার্ড কোর ( (Islamic Revolutionary Guard Corp-IRGC-আইআরজিসি) শুক্রবার তাদের এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন একটু আগে এই খবর প্রচার করেছে। তেহরানে আইআরজিসির সাংস্কৃতিক বিষয়ক অধিকর্তা রহিম নাদালি জানিয়েছেন, ‘ফর ইরান’ (for Iran) বা 'ইরানের জন্য' নামক একটি বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে চলতি যুদ্ধ পরিস্থিতির কষা বিবেচনায় রেখে।
শুক্রবার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হলেও ইতিমধ্যে আঠারো বছরের কম বয়সী শিশুদের অস্ত্র প্রশিক্ষণের কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে। তেহরানসহ বিভিন্ন শহরে চেকপোষ্টে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিশুদের মোতায়ন করেছে আইআরজিসি। শিশুদের দিয়ে গাড়ি চেক করানো হচ্ছে। সন্দেহভাজন নাগরিকদের দেহ তল্লাশির কাজ করছে শিশু যোদ্ধারা।
শিশুদের নিয়ে ইরানের এই সিদ্ধান্তে উদ্বিগ্ন গোটা বিশ্ব। শিশুদের নিয়ে কাজ করা আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলি এই সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করেছে। তাদের বক্তব্য শিশুদের এমন প্রাণঘাতী কাজে নিয়োগ করা আন্তর্জাতিক বিধিমালা সম্পূর্ণ পরিপন্থী। শিশু অধিকার সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক সনদেরও বিরোধিতা। ইরান ওই সনদের অন্যতম স্বাক্ষরকারী দেশ। তারপরও কী করে তারা এমন সিদ্ধান্ত নিল তা নিয়ে নানা মহলে প্রশ্ন উঠেছে।
তবে এবারই প্রথম নয়, এর আগে দেশে বিদ্রোহ দমনেও শিশুদের ব্যবহার করেছে ইরান। সেই প্রসঙ্গ উল্লেখ করে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (Human Rights Watch) এবং অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল (Amnesty International) গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বিবৃতি দিয়েছে।
আন্তর্জাতিক মহলের সমালোচনার মুখে ইরানি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে ১৮ বছরের কম বয়সি শিশুরা যুদ্ধে সহযোগীর ভূমিকা পালন করবে। তবে তা বাধ্যতামূলক নয়। ১২-১৩ বছর বয়সি শিশু ও তাদের বাবা মায়েরা মনে করলে সন্তানদের এই কাজে পাঠাতে পারে।