আর্টেমিস ২-এর (Artemis-2) চার সদস্যের দল ৭ এপ্রিল ২০২৬, রাত ১২:১৫ (IST) থেকে চাঁদের চারদিকে ঘুরে আসার প্রক্রিয়া শুরু করবেন। তারা চাঁদের দূর দিক ঘুরে আবার পৃথিবীর পথে রওনা দেবেন।

মহাকাশে মানব মিশনে মাইলস্টোন!
শেষ আপডেট: 6 April 2026 17:26
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ৫৩ বছর ধরে মহাকাশে গেলেও মানুষ পৃথিবীর খুব কাছাকাছি কক্ষপথেই ঘুরেছে। কিন্তু ৬ এপ্রিল সেই ইতিহাস বদলে দিল নাসার আর্টেমিস–২ মিশন (NASA Artemis mission)। এই মহাকাশযান মানুষের উপস্থিতিকে নিয়ে গেল চাঁদের মাধ্যাকর্ষণের প্রভাবসীমায়- যেখানে অ্যাপোলো (Apollo) মিশনের পর আর কেউ কখনও পৌঁছায়নি।
আর্টেমিস ২-এর (Artemis-2) চার সদস্যের দল ৭ এপ্রিল ২০২৬, রাত ১২:১৫ (IST) থেকে চাঁদের চারদিকে ঘুরে আসার প্রক্রিয়া শুরু করবেন। তারা চাঁদের দূর দিক ঘুরে আবার পৃথিবীর পথে রওনা দেবেন।
এটা বোঝার জন্য একটা তুলনা দিলেই পরিষ্কার আইএসএস (International Space Station) পৃথিবীর মাত্র ৪০০ কিলোমিটার উপরে ঘোরে। আর চাঁদ আমাদের থেকে প্রায় ৩ লক্ষ ৮৪ হাজার ৬৩৩ কিলোমিটার দূরে।

এই মিশনে মহাকাশযান শুধু চাঁদেই থেমে থাকবে না; বরং চাঁদকে পেরিয়ে আরও দূরের সেই গভীর মহাকাশে যাবে- যেখানে মানুষ শেষবার পৌঁছেছিল ১৯৭০-এর দশকে অ্যাপোলো (Apollo) মিশনের সময়।
আর্টেমিস–২ (Artemis-2) এমন এক বিশেষ কক্ষপথে চলছে, যাকে বলা হয় ফ্রি-রিটার্ন ট্রাজেক্টরি। এই পথে চাঁদের মাধ্যাকর্ষণ নিজে থেকেই মহাকাশযানকে ঘুরিয়ে আবার পৃথিবীর দিকে ঠেলে দেয়। ফলে মাঝপথে কোনো কারণে ইঞ্জিন নষ্ট হলেও মহাকাশযান স্বাভাবিকভাবেই পৃথিবীতে ফিরে আসতে পারে—এটাই এই কক্ষপথের সবচেয়ে বড় নিরাপত্তা।
ডিপ স্পেসে বাড়তি বিপদ
পৃথিবী থেকে প্রায় ২ হাজার কিলোমিটারের উপরে গেলে আর কাজ করে না পৃথিবীর ম্যাগনেটিক শিল্ড। এই ঢাল আমাদের সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি ও মহাজাগতিক কণা থেকে বাঁচায়। তাই এই সুরক্ষা না থাকলে নভোশ্চররা সরাসরি বিপজ্জনক রেডিয়েশনের মুখোমুখি হন। আর্টেমিস–২ (Artemis-II) মিশনে বিজ্ঞানীরা দেখবেন—এই কঠিন পরিবেশে ক্রুর শরীর ঠিক কীভাবে প্রতিক্রিয়া দেখায়।
রেকর্ড গতিতে পৃথিবীতে ফেরা
মিশন শেষে ওরিয়ান (Orion) ক্যাপসুল যখন পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে ফিরবে, তখন এর গতি হবে ঘণ্টায় প্রায় ৪০ হাজার ২০০ কিলোমিটার- মানুষ বহনকারী কোনও মহাকাশযান এত দ্রুত আগে কখনও ফেরেনি। বায়ুমণ্ডলে ঢোকার সময় ক্যাপসুলের তাপমাত্রা পৌঁছাবে প্রায় ২ হাজার ৭৬০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে, যা সূর্যের পৃষ্ঠের তাপমাত্রারও প্রায় অর্ধেক।
চাঁদই আসল লক্ষ্য নয়- মঙ্গলযাত্রার প্রস্তুতি
আর্টেমিস–২-র প্রতিটি তথ্য রেডিয়েশন, মানবদেহের প্রতিক্রিয়া, স্পেসক্রাফটের পারফরম্যান্স সরাসরি কাজে লাগবে মানুষের মঙ্গলগ্রহ অভিযানে। তাই চাঁদ এই মিশনের ‘গন্তব্য’ নয়, বরং মহাকাশের আরও কঠিন পথে যাওয়ার প্রস্তুতি পর্ব।
আর্টেমিস–২-কে বলা হচ্ছে মানবজাতির গত পাঁচ দশকের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মহাকাশ অনুশীলন।