বর্তমানে মহাকাশযানটি রয়েছে ট্রান্স-লুনার (Trans Lunar) ইনজেকশন পর্যায়ে। সহজ করে বললে, এটি এখন সম্পূর্ণভাবে পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণ ক্ষেত্র ছেড়ে বেরিয়ে গেছে এবং দ্রুতগতিতে চাঁদের দিকে এগোচ্ছে।

রেকর্ড গড়লেন ক্রিস্টিনা কচ
শেষ আপডেট: 5 April 2026 16:45
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পৃথিবীর নীল গোলককে পিছনে ফেলে যখন আর্টেমিস-২ (Artemis 2) মহাকাশযান এগোচ্ছে চাঁদের উদ্দেশে, ঠিক সেই মুহূর্তে নতুন এক অধ্যায় লিখলেন মহিলা নভোশ্চর ক্রিস্টিনা কচ (Christina Koch)। ২০২৬ সালের ৩ এপ্রিল, মহাকাশের অন্তহীন নীরবতাকে সাক্ষী রেখে তিনি হলেন পৃথিবী থেকে সবচেয়ে দূর পর্যন্ত পাড়ি দেওয়া প্রথম মহিলা (Christina Koch breaks record)। পৃথিবীকে পিছনে ফেলে, অন্তহীন অজানার দিকে এগিয়ে যাওয়া এই অভিযানের চতুর্থ দিনেই তিনি ভেঙে দিলেন অতীতের সব সীমা, সব বাধা।
পৃথিবী থেকে লাখ লাখ কিলোমিটার দূরে নতুন ইতিহাস
আগের সব মহিলা নভোশ্চররা পৃথিবীর খুব কাছের নিম্ন-কক্ষপথ (low-Earth orbit) পর্যন্তই যাত্রা করতে পারেন। কিন্তু আর্টেমিস-২ মিশনের ‘ইনটেগ্রিটি’ নামের ওরায়ন মহাকাশযান ৩ এপ্রিল যখন পৃথিবীর কক্ষপথ ছাড়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ইঞ্জিন বার্ন চালাল, তখনই পরিষ্কার হয়ে গেল, মহাকাশে নতুন ইতিহাস গড়তে চলেছেন ক্রিস্টিনা কচ।
শুক্রবার স্থানীয় সময় সকালেই ক্রিস্টিনা ও তাঁর তিন সহযাত্রী পৃথিবী থেকে প্রায় ১ লক্ষ ৬০ হাজার কিমি দূরে অবস্থান করছিলেন। তাঁদের পথ এখন চাঁদের দিকে, ৬ এপ্রিল হবে লুনার ফ্লাইবাই-এ তাঁরা একদম চাঁদের কাছাকাছি পৌঁছে যাবে। সেদিনই ওরায়ন (Orion) পৌঁছাবে প্রায় ৪ লক্ষ ৫ হাজার ৫৮৬ কিমি দূরত্বে- যা কেবল কোনও মহিলার নয়, বরং যে কোনও নভোশ্চরের ক্ষেত্রে নতুন সর্বোচ্চ রেকর্ড।
এতদিন এই রেকর্ড ছিল অ্যাপোলো-১৩ দলের দখলে। আর সেই বহু দশকের পুরোনো রেকর্ড এবার ভাঙতে চলেছে আর্টেমিস-২ দল।
ওরায়ন ঠিক কোথায়?
বর্তমানে মহাকাশযানটি রয়েছে ট্রান্স-লুনার (Trans Lunar) ইনজেকশন পর্যায়ে। সহজ করে বললে, এটি এখন সম্পূর্ণভাবে পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণ ক্ষেত্র ছেড়ে বেরিয়ে গেছে এবং দ্রুতগতিতে চাঁদের দিকে এগোচ্ছে।
এই পর্যায়েই মহাকাশযানের জীবনধারণ-সহায়ক সব সিস্টেম, যেমন বায়ু, জল, বিদ্যুৎ ও সুরক্ষা ব্যবস্থাগুলো- ভালভাবে পরীক্ষা করা হচ্ছে। যাতে ভবিষ্যতে চাঁদে নামার মিশন আরও নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য হয়।
ওরায়ন মহাকাশযান কী?
নাসা (NASA mission 2026) ভবিষ্যতের গভীর মহাকাশ অভিযানের জন্য তৈরি করেছে শক্তিশালী ‘ওরায়ন’। আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের মতো নিকট-কক্ষপথে নয়, বরং তীব্র বিকিরণ আর অত্যন্ত উচ্চ গতির চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার ক্ষমতা রয়েছে এর। এতে রয়েছে একটি ক্রু মডিউল, যেখানে নভোশ্চররা থাকেন এবং একটি সার্ভিস মডিউল, যা তাদের জল, বিদ্যুৎ ও অক্সিজেন সরবরাহ করে।
ক্রিস্টিনা কচের ঝুলিতে আরও এক রেকর্ড
আগেও ইতিহাস গড়েছেন ক্রিস্টিনা। ৩২৮ দিন মহাকাশে থেকে তিনি নারী নভোশ্চরদের মধ্যে দীর্ঘতম একক মিশনের রেকর্ড গড়েছিলেন। এখন আবার নতুন সীমা অতিক্রম করছেন। মহাকাশে তাঁর এই যাত্রা ভবিষ্যতের আর্টেমিস–৪ মিশনের পথ প্রশস্ত করবে। অজানাকে স্পর্শ করার মানবিক স্বপ্নের নতুন অধ্যায় খুলে গেল আর্টেমিস-২-এর হাত ধরে। আর সেই অধ্যায়ের প্রথম পাতায় উজ্জ্বল হয়ে রইলেন- ক্রিস্টিনা কচ।