মহাকাশ থেকে জ্বলজ্বল করছে সবুজ পৃথিবী! চাঁদের পথে পাড়ি দিয়ে নাসার আর্টেমিস-২ অভিযানের নভোচররা ক্যামেরাবন্দি করলেন পৃথিবীর বিস্ময়কর দৃশ্য।

ফাইল চিত্র
শেষ আপডেট: 4 April 2026 13:15
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মহাকাশ থেকে পৃথিবীকে দেখা সব সময়ই এক অনন্য অভিজ্ঞতা। নীল গ্রহের সৌন্দর্য, সাদা মেঘের বিস্তার আর অরোরার সবুজ আলো, সব মিলিয়ে যেন এক বিস্ময়ের জগৎ। সেই বিরল অভিজ্ঞতারই ঝলক এবার সামনে আনলেন নাসার আর্টেমিস-২ (Artemis 2) অভিযানের মহাকাশচারীরা (NASA)। চাঁদের পথে যাত্রার মাঝপথ থেকেই তাঁরা ক্যামেরাবন্দি করলেন পৃথিবীর কয়েকটি মনোমুগ্ধকর দৃশ্য, যা ইতিমধ্যেই বিজ্ঞানমহল এবং মহাকাশপ্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।
গত বুধবার চার মহাকাশচারীকে নিয়ে চাঁদের উদ্দেশে রওনা দিয়েছে নাসার ওরিয়ন মহাকাশযান। এই অভিযানে রয়েছেন কমান্ডার রিড ওয়াইসম্যান, পাইলট ভিক্টর গ্লোভার, অভিযান বিশেষজ্ঞ ক্রিস্টিনা কচ এবং জেরেমি হানসেন। নাসা জানিয়েছে, যাত্রা শুরুর মাত্র দেড় দিনের মধ্যেই তাঁরা চাঁদের পথে অর্ধেকেরও বেশি পথ অতিক্রম করেছেন। এই সময় মহাকাশ থেকেই পৃথিবীর বেশ কিছু ছবি তুলেছেন তাঁরা।
এখন পর্যন্ত দু’টি ছবি প্রকাশ করেছে নাসা। প্রথম ছবিটি তুলেছেন রিড ওয়াইসম্যান। সেখানে মহাকাশযানের ক্যাপসুলের জানলা দিয়ে পৃথিবীর একটি অংশ দেখা যাচ্ছে। আর দ্বিতীয় ছবিতে ধরা পড়েছে সম্পূর্ণ পৃথিবী—নীল সমুদ্রের উপর সাদা মেঘের ঘূর্ণি, আর তার মাঝেই সবুজ আভায় জ্বলজ্বল করছে অরোরা বা মেরুজ্যোতি। মহাকাশ থেকে তোলা এই দৃশ্য পৃথিবীর সৌন্দর্যকে নতুন করে সামনে এনেছে।
নাসার এক্সপ্লোরেশন সিস্টেমস বিভাগের কর্তা লাকিশা হকিন্স এই ছবি নিয়ে বলেন, এই দৃশ্য যেন শুধু চার মহাকাশচারীর নয়, বরং গোটা মানবজাতির প্রতিনিধিত্ব করছে। তাঁর কথায়, পৃথিবীকে এইভাবে একসঙ্গে দেখা সত্যিই অনন্য অভিজ্ঞতা। তিনি আরও জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত অভিযান সফলভাবেই এগোচ্ছে।
প্রায় পাঁচ দশক পর আবার চাঁদের উদ্দেশে মানুষ পাঠাল নাসা। সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, চাঁদে পৌঁছতে এখনও প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার মাইল (প্রায় ১ লাখ ৯২ হাজার কিলোমিটার) পথ বাকি রয়েছে ওরিয়ন মহাকাশযানের। সব কিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী চললে সোমবারের মধ্যেই চাঁদের কাছে পৌঁছে যাবে মহাকাশযান। তবে আবহাওয়া বা প্রযুক্তিগত কোনও সমস্যা দেখা দিলে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত সময় হাতে রাখা হয়েছে।
তবে এই অভিযানের মহাকাশচারীরা চাঁদের মাটিতে নামবেন না। বরং পৃথিবীর একমাত্র উপগ্রহ থেকে অন্তত ১০০০ মাইল দূরে থেকে বিভিন্ন পর্যবেক্ষণ চালাবেন। ভবিষ্যতে চাঁদে মানুষ পাঠানোর ক্ষেত্রে কী ধরনের সুবিধা ও চ্যালেঞ্জ রয়েছে, তা খতিয়ে দেখাই এই অভিযানের মূল উদ্দেশ্য। পাশাপাশি মহাকাশযানের লাইফ সাপোর্ট সিস্টেম এবং অন্যান্য প্রযুক্তিগত ব্যবস্থাও পরীক্ষা করা হবে।
সব পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে ১০ দিনের এই অভিযান শেষ করে চার মহাকাশচারী নিরাপদে পৃথিবীতে ফিরে আসবেন। এই মিশন সফল হলে ভবিষ্যতে মানুষের চাঁদে ফেরার পথ আরও সহজ হবে বলেই মনে করছেন বিজ্ঞানীরা।