সব জায়গাতেই দেখা যাচ্ছে লবস্টার টুপি, বেলুন, খেলনা এমনকি জীবন্ত লবস্টারও! কিন্তু হঠাৎ কেন গলদা চিংড়িই দেখা যাচ্ছে চারদিকে? আসলে এই বাহারি আয়োজনের কেন্দ্রে রয়েছে এক নতুন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা টুল— ওপেনক্ল (OpenClaw)।

শেষ আপডেট: 29 March 2026 14:48
দ্য ওয়াল ব্যুরো: চিনে এক নতুন প্রযুক্তি ঘিরে তৈরি হয়েছে অদ্ভুত উন্মাদনা—আর সেই উন্মাদনার প্রতীক হয়ে উঠেছে ‘লবস্টার’(Lobster)। প্রযুক্তি সম্মেলন হোক বা ছোটখাটো কমিউনিটি মিট-আপ—সব জায়গাতেই দেখা যাচ্ছে লবস্টার টুপি, বেলুন, খেলনা এমনকি জীবন্ত লবস্টারও! কিন্তু হঠাৎ কেন গলদা চিংড়িই দেখা যাচ্ছে চারদিকে? আসলে এই বাহারি আয়োজনের কেন্দ্রে রয়েছে এক নতুন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা টুল— ওপেনক্ল (OpenClaw)।
এই OpenClaw আসলে সাধারণ চ্যাটবট নয়। বরং এটি এমন একটি স্বয়ংক্রিয় AI এজেন্ট, যা ব্যবহারকারীর নির্দেশ পেলে নিজে থেকেই বিভিন্ন অ্যাপ, ব্রাউজার বা স্মার্ট ডিভাইস চালাতে পারে। অর্থাৎ শুধু প্রশ্নের উত্তর দেওয়া নয়—এটি ব্যবহারকারীর হয়ে কাজও করতে পারে।
এই প্রযুক্তিটি তৈরি করেছেন অস্ট্রিয়ান প্রোগ্রামার পিটার স্টাইনবার্গার। গত বছরের নভেম্বরে এটি মুক্তি পাওয়ার পর থেকেই বিশ্বজুড়ে দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি ভবিষ্যতের কাজের ধরনই বদলে দিতে পারে। এমনকি এনভিডিয়ার সিইও জেনসেন হুয়াং একে “পরবর্তী ChatGPT” বলেও উল্লেখ করেছেন।
তবে সবচেয়ে বেশি সাড়া মিলেছে চিনে। পরিসংখ্যান বলছে, OpenClaw ব্যবহারকারীর সংখ্যায় চিন এখন বিশ্বের শীর্ষে—মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ সক্রিয় ব্যবহারকারী রয়েছে সেখানে। বিভিন্ন শহরে ‘লবস্টার ফার্মিং’ নামে পরিচিত OpenClaw শেখার কর্মশালায় হাজার হাজার মানুষ অংশ নিচ্ছেন। এমনকি অনলাইন প্ল্যাটফর্মে এই AI ইনস্টল ও সেটআপ করার জন্য আলাদা পরিষেবাও চালু হয়েছে।
চিনের বড় বড় প্রযুক্তি সংস্থাগুলিও পিছিয়ে নেই। OpenClaw-এর সাফল্য দেখে তারা DuClaw, QClaw, ArkClaw-এর মতো নিজস্ব সংস্করণ তৈরি করতে শুরু করেছে। শুধু বেসরকারি সংস্থাই নয়, স্থানীয় প্রশাসনও এই প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে আর্থিক সহায়তা ঘোষণা করছে, যাতে শিল্প ও ব্যবসায়িক উৎপাদনশীলতা বাড়ানো যায়।
তবে এই উচ্ছ্বাসের পাশাপাশি উদ্বেগও বাড়ছে। বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করছেন, এই ধরনের AI টুল ব্যবহারকারীর ডিভাইসের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিলে সাইবার নিরাপত্তার বড় ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। ইতিমধ্যেই চিনের দুই সরকারি সাইবার নিরাপত্তা সংস্থা সতর্ক করে বলেছে, OpenClaw ব্যবহারে ডেটা ফাঁস বা হ্যাকিংয়ের সম্ভাবনা রয়েছে।
আরও বড় প্রশ্ন উঠছে কর্মসংস্থান নিয়ে। অনেকেই আশঙ্কা করছেন, এই ধরনের স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি বাড়তে থাকলে বহু হোয়াইট-কলার চাকরি ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। বিশেষ করে কোডিং বা ডেটা প্রসেসিংয়ের মতো পুনরাবৃত্তিমূলক কাজগুলো দ্রুতই AI-এর হাতে চলে যেতে পারে।
তবুও বাস্তবতা হল, প্রযুক্তির এই ঢেউ থামার নয়। অনেকেই এখন OpenClaw-কে নিজের কাজের অংশ করে নিচ্ছেন—কারও কাছে এটি উৎপাদনশীলতার হাতিয়ার, আবার কারও কাছে ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তার বিরুদ্ধে লড়াইয়ের অস্ত্র।
সব মিলিয়ে, লবস্টার-থিমের এই প্রযুক্তি উন্মাদনা শুধু এক নতুন ট্রেন্ড নয়—এটি ভবিষ্যতের কর্মসংস্থান, প্রযুক্তি ও অর্থনীতির গতিপথ বদলে দেওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।