সংঘাতের শুরু থেকে অন্তত ১৬টি মার্কিন সামরিক বিমান ধ্বংস হয়েছে। এদের মধ্যে ১০টি রেপার ড্রোন এবং আরও ৬টি বিমান আক্রমণ বা দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

মার্কিন যুদ্ধবিমানে ইরানি হামলা
শেষ আপডেট: 19 March 2026 23:07
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আরবদুনিয়ায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিমানঘাঁটিতে জরুরি অবতরণ করল এফ-৩৫ লাইটনিং২ যুদ্ধবিমান (US F-35 Lightning II)। বিমানটি ইরানে অভিযান (Iran US Conflicts) চালানোর মাঝপথেই ফিরে আসে বলে খবর সূত্রের। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (US Central Command) জানিয়েছে, বিমানটি নিরাপদে অবতরণ করেছে এবং পাইলটের কোনও ক্ষতি হয়নি। তবে কী কারণে বিমানটি জরুরি অবতরণ করতে হয়েছে, তা খতিয়ে দেখার জন্য তদন্ত শুরু করা হয়েছে।
যদি এ ঘটনা নিশ্চিত হয়, তবে এটি হবে চলমান সংঘাতের শুরু থেকে ইরানের (Iran War) প্রথম দফা এমন আধুনিক এফ-৩৫ লাইটনিং২ বিমানকে আঘাত করার চেষ্টা। এই যুদ্ধবিমানের দাম প্রায় ১০০ মিলিয়ন ডলার এবং এটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের (US Israel Strike on Iran) অত্যাধুনিক বিমানগুলির মধ্যে অন্যতম।
ব্লুমবার্গের তথ্য অনুযায়ী, সংঘাতের শুরু থেকে অন্তত ১৬টি মার্কিন সামরিক বিমান ধ্বংস হয়েছে। এদের মধ্যে ১০টি রেপার ড্রোন এবং আরও ৬টি বিমান আক্রমণ বা দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এদিকে, ইরান-আমেরিকা সংঘাত (Iran US Confllicts) সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আরও তীব্র হচ্ছে। এখনই যুদ্ধ থামার কোনও সম্ভাবনা নেই, মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ (US Defence Secretary Pete Hegseth) হুঁশিয়ারিতেই তা স্পষ্ট। তিনি জানালেন, বৃহস্পতিবার রাতে ইরানের বিরুদ্ধে সবচেয়ে ভয়ঙ্কর সামরিক হামলা (largest strike package) হতে চলেছে। এমনকি প্রতিরক্ষা সচিব এও স্পষ্ট করলেন যে এই যুদ্ধ শেষ হবে আমেরিকার শর্তে, এবং ওয়াশিংটন মিশন সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত পিছিয়ে আসবে না।
প্রায় তিন সপ্তাহ হতে চলা আরব দুনিয়ার এই সংঘাতে (Middle East Tension) এখনও পর্যন্ত ইরানে ৭ হাজারটিরও বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী। বৃহস্পতিবারের অভিযান নাকি আগের বারের মতোই আরও শক্তিশালী ও ভয়ঙ্কর হবে, এমনটাই জানিয়েছেন পিট হেগসেথ (Pete Hegseth)। তিনি বলেন, “আমাদের শক্তি বাড়ছে, ইরানের শক্তি দ্রুত ভেঙে পড়ছে।” ইরানের এয়ার ডিফেন্স সিস্টেমগুলো কার্যত মাটিতে মিশিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
এক্স হ্যান্ডেলে ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি (Iranian Foreign Minister Abbas Araghchi) লিখেছেন, ইজরায়েলের (Israel) বিরুদ্ধে এই প্রতিক্রিয়া ছিল শক্তির একটি ক্ষুদ্র অংশ। আন্তর্জাতিক মহলের অনুরোধে সংযম দেখানোর বার্তা দিয়ে হুঁশিয়ারি, আবার অবকাঠামো আঘাত হলে ‘জিরো রেস্ট্রেইন্ট’। যুদ্ধ থামাতে হলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলকে (US Israel Conflicts) বেসামরিক স্থানে হামলা বন্ধ করতে হবে। আরাগচি স্পষ্ট জানান, ইরানের অন্তর্গত কোনও স্থাপনায় হামলা হলে এবার কোনও সীমা মানবে না তেহরান।