২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে ইরান কার্যত নিয়ন্ত্রণে রেখেছে হরমুজ প্রণালী, যার মাধ্যমে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও গ্যাস পরিবহণ হয়। এতে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে চাপ আরও বাড়তে থাকে।

ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি
শেষ আপডেট: 19 March 2026 21:54
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পশ্চিম এশিয়া অগ্নিগর্ভ (Middle East Tension)। ইজরায়েলের হামলার জবাবে পাল্টা আঘাত হেনে এবার আরও কঠোর বার্তা দিল ইরান (Iran Israel Conflicts)। দেশের পার্স গ্যাসকেন্দ্র ও বুশেহর পারমাণবিক কেন্দ্র টার্গেট হওয়ার পর তেহরান (Tehran) জানিয়েছে, এই হামলা ছিল তাদের সামরিক শক্তির ‘একটা অংশমাত্র’। ফের কোনও ঘাঁটি নিশানা করা হলে কোনও রকম সংযম দেখাবে না ইরান।
“আর একবার আঘাত করলে শূন্য সংযম”
বৃহস্পতিবার এক্স হ্যান্ডেলে ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি (Iranian Foreign Minister Abbas Araghchi) লিখেছেন, ইজরায়েলের (Israel) বিরুদ্ধে এই প্রতিক্রিয়া ছিল শক্তির একটি ক্ষুদ্র অংশ। আন্তর্জাতিক মহলের অনুরোধে সংযম দেখানোর বার্তা দিয়ে হুঁশিয়ারি, আবার অবকাঠামো আঘাত হলে ‘জিরো রেস্ট্রেইন্ট’। যুদ্ধ থামাতে হলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলকে (US Israel Conflicts) বেসামরিক স্থানে হামলা বন্ধ করতে হবে। আরাগচি স্পষ্ট জানান, ইরানের অন্তর্গত কোনও স্থাপনায় হামলা হলে এবার কোনও সীমা মানবে না তেহরান।
কীভাবে বাড়ল উত্তেজনা?
ইজরায়েল প্রথমে আঘাত হানে, পার্স গ্যাসকেন্দ্র (Pars Natural Gas Field), বুশহর (Bushehr Nuclear Plant)
এর জবাবে ইরান টার্গেট করে, পার্শ্ববর্তী উপসাগরীয় দেশের তেল স্থাপনা।
এই পাল্টাপাল্টি হামলায় জ্বালানি বাজারে ধাক্কা লাগে। অপরিশোধিত তেল ও এলএনজির (LNG) দাম হঠাৎই বেড়ে যায়। তাছাড়া, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে ইরান কার্যত নিয়ন্ত্রণে রেখেছে হরমুজ প্রণালী, যার মাধ্যমে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও গ্যাস পরিবহণ হয়। এতে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে চাপ আরও বাড়তে থাকে।
সৌদি আরবের পাল্টা ক্ষোভ: “বিশ্বাস ভেঙেছে ইরান”
ইরানি হামলায় উত্তপ্ত সৌদি আরবও। দেশের বিদেশ মন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদ জানিয়েছেন, ইরানের এই হামলায় আন্তর্জাতিক বিশ্বাস নষ্ট হয়েছে। রিয়াধ সামরিক প্রতিক্রিয়া বিবেচনা করতে পারে। “আমরা জড়িত নই, এমন দেশগুলিতে হামলা বন্ধ হোক,” এমনটাই তাঁর আবেদন।
সৌদির SAMREF রিফাইনারি-তেও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি রিয়াধের। এছাড়া রাজধানী রিয়াধ ও পূর্ব প্রদেশে ৬টি ড্রোন আটকানোর কথাও জানিয়েছে দেশটি।
পরিস্থিতি কোথায় গিয়ে দাঁড়াল?
ইরান-ইজরায়েল সংঘাত এখন উপসাগরীয় দেশগুলিকেও টেনে আনছে যুদ্ধের কাছাকাছি। জ্বালানি বাজার ইতিমধ্যেই বড় ধাক্কা খেয়েছে। হরমুজ প্রণালীর অনিশ্চয়তা বিশ্বে তেল সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও চাপে ফেলছে।