Date : 14th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
সরকারি গাড়ির চালককে ছুটি দিয়ে রাইটার্স থেকে হাঁটা দিলেন মন্ত্রীছত্তীসগড়ে পাওয়ার প্ল্যান্টে ভয়ঙ্কর বিস্ফোরণ! মৃত অন্তত ৯, ধ্বংসস্তূপের নীচে অনেকের আটকে পড়ার আশঙ্কাস্কি, ক্যান্ডেললাইট ডিনার আর পরিবার, বিয়ের জন্মদিনে কোন স্মৃতিতে ভাসলেন আলিয়া? পরপর দু’বার ছাঁটাই! চাকরি হারিয়ে 'বিহারি রোল' বানানো শুরু, এখন মাসে আয় ১.৩ কোটিনববর্ষে সস্তায় পেটপুরে খাওয়া! দুই বাংলার মহাভোজ একই থালিতে, হলিডে ইন-এ শুরু হচ্ছে ‘বৈশাখী মিলনমেলা’কষা মাংস থেকে কাটলেট! নববর্ষে তাজের সমস্ত হোটেলে জিভে জল আনা ভোজ, রইল সুলুকসন্ধানপিএসএল ছেড়ে আইপিএলে আসার কড়া মাশুল! ২ বছরের জন্য সাসপেন্ড কেকেআরের এই পেসার রণবীর-দীপিকার ৮ বছরের দাম্পত্যে বিচ্ছেদ! স্বামীর সঙ্গে বাড়তে থাকা দূরত্বই কি ডিভোর্সের কারণ?'বিজেপির কথায় চললে আমাদের কাছেও তালিকা থাকবে', পুলিশ কর্তাদের চরম হুঁশিয়ারি ব্রাত্য বসুর!একসময় নীতীশকেই কুর্সি থেকে সরানোর শপথ নিয়েছিলেন! তাঁর ছেড়ে যাওয়া পদেই বসলেন শকুনি-পুত্র

জ্বালানির পর এবার লক্ষ্য কি ইন্টারনেট? সমুদ্রের নীচে কেবল কাটলে অচল হতে পারে বিশ্ব, চরম উদ্বেগ

হরমুজ এবং রেড সি (Hormuz Red Sea Cable Risk) এই দুই গুরুত্বপূর্ণ জলপথই আসলে বিশ্বের ডিজিটাল যোগাযোগ ব্যবস্থার মূল ‘ধমনী’। সমুদ্রতলের নিচে বিছানো ফাইবার-অপটিক কেবলগুলিই বহন করে বিশ্বের প্রায় সমস্ত ডেটা - ভিডিও কল, ই-মেল, ব্যাঙ্কিং লেনদেন থেকে শুরু করে এআই পরিষেবা পর্যন্ত।

জ্বালানির পর এবার লক্ষ্য কি ইন্টারনেট? সমুদ্রের নীচে কেবল কাটলে অচল হতে পারে বিশ্ব, চরম উদ্বেগ

ঝুঁকির মুখে সাবমেরিন ইন্টারনেট কেবল

পৃথা ঘোষ

শেষ আপডেট: 19 March 2026 14:59

দ্য ওয়াল ব্যুরো: আমেরিকা ও ইজরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান সংঘাত তৃতীয় সপ্তাহে পা দিয়েছে, আর তারই মধ্যে সামনে এসেছে এক নতুন ও উদ্বেগজনক আশঙ্কা। জ্বালানি সংকটের পর এবার গোটা বিশ্বের ইন্টারনেট পরিষেবা কি বিপদের মুখে পড়তে চলেছে (Global Internet Disruption Hormuz Cable)?

ইতিমধ্যেই হরমুজ প্রণালীতে চাপ তৈরি করে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে চাপ সৃষ্টি করেছে ইরান। কিন্তু বিষয়টা শুধু যে তেল বা গ্যাসেই সীমাবদ্ধ, তা নয়। এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়েই গিয়েছে বিশ্বের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সাবমেরিন ইন্টারনেট কেবল (Iran Strait of Hormuz Subsea Cables)। ফলে প্রশ্ন উঠছে - যুদ্ধের দ্বিতীয় পর্যায়ে, যেখানে তেল পরিকাঠামো টার্গেট করা হচ্ছে, সেখানে কি এবার ইন্টারনেটকেও নিশানা করবে তেহরান (Global Data Infrastructure Threat)?

হরমুজ ও রেড সি - গোটা বিশ্বের যোগাযোগের ‘চোক পয়েন্ট’

এই কঠিন সময়ে ইতিমধ্যে আরও একটি সামুদ্রিক পথ বাব-এল-মান্দেব প্রণালী (Bab el-Mandeb Strait) বন্ধ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা (Yemen-based Houthis threat)। তা হলে রেড সি ও সুয়েজ ক্যানেলের মতো আন্তর্জাতিক বাণিজ্যপথ বিপদের মুখে পড়তে পারে।

এক আন্তর্জাতিক পত্রিকার প্রতিবেদন অনুযায়ী, 'ইরান-ঘনিষ্ঠ হুথি গোষ্ঠী এখন পুরোপুরি সতর্ক রয়েছে। তারা স্পষ্ট জানিয়েছে দিয়েছে, ইরান, আমেরিকা ও ইজরায়েলের সংঘাত বাড়লে তারা সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্রে যোগ দিতে প্রস্তুত।' হুথি নেতা আব্দুল মালিক আল-হুথি বলেছেন, পরিস্থিতি যেদিকে যাবে, সেই বুঝে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

হরমুজ এবং রেড সি (Red Sea Cable Risk) এই দুই গুরুত্বপূর্ণ জলপথই আসলে বিশ্বের ডিজিটাল যোগাযোগ ব্যবস্থার মূল ‘ধমনী’। সমুদ্রতলের নিচে বিছানো ফাইবার-অপটিক কেবলগুলিই বহন করে বিশ্বের প্রায় সমস্ত ডেটা - ভিডিও কল, ই-মেল, ব্যাঙ্কিং লেনদেন থেকে শুরু করে এআই পরিষেবা পর্যন্ত।

অন্তত ২০টি সাবমেরিন কেবল এই পথে

রেড সি দিয়ে অন্তত ১৭টি সাবমেরিন কেবল গিয়েছে, যা ইউরোপ, এশিয়া ও আফ্রিকার মধ্যে ইন্টারনেট সংযোগের মূল ভরসা।

অন্যদিকে পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাওয়া গুরুত্বপূর্ণ কেবলগুলির মধ্যে রয়েছে AAE-1, FALCON, Gulf Bridge International Cable System এবং Tata-TGN Gulf। এই কেবলগুলিই ভারতের আন্তর্জাতিক ডেটা সংযোগের বড় অংশ বহন করে।

গালফে প্রযুক্তি বিনিয়োগ ও নতুন ঝুঁকি

বিশ্বের বড় প্রযুক্তি সংস্থা যেমন অ্যামাজন, মাইক্রোসফট ও গুগল - সংযুক্ত আরব আমিরশাহি ও সৌদি আরবের মতো দেশে বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করে ডেটা সেন্টার গড়ে তুলেছে। তাদের লক্ষ্য ছিল গালফ অঞ্চলকে এআই-এর অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা। এই ডেটা সেন্টারগুলিকে এশিয়া ও আফ্রিকার বাজারের সঙ্গে যুক্ত রাখে সমুদ্রতলের এই কেবল নেটওয়ার্ক।

মাইন, হামলা ও মেরামতির অচলাবস্থা

বর্তমানে পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল। হরমুজ প্রণালীতে ইরান সমুদ্রের নিচে মাইন পুঁতে রেখেছে, যার ফলে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ। অন্যদিকে রেড সি-তে হুথিদের হামলায় সেই পথও বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে।

ফলে কেবল মেরামতির জন্য প্রয়োজনীয় বিশেষ জাহাজ সেখানে ঢুকতেই পারছে না। একটি দুর্ঘটনা, মাইন বিস্ফোরণ বা ইচ্ছাকৃত কেবল কাটা হলে তা শুধু এক-দু'সপ্তাহ নয়, মাসের পর মাস অচল হয়ে থাকতে পারে।

টেলিজিওগ্রাফির বিশেষজ্ঞ অ্যালান মলডিনের কথায়, সক্রিয় যুদ্ধক্ষেত্রে কেবল মেরামতির জাহাজ পাঠানো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।

আগেও দেখা গিয়েছে প্রভাব

২০২৪ সালে গাজায় ইজরায়েল-হামাস যুদ্ধের সময় হুথিদের হামলায় রেড সি-র একাধিক কেবল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল (Houthis Internet Attack)। তার ফলে এশিয়া ও আফ্রিকার বহু অঞ্চলে ইন্টারনেটের গতি ব্যাপকভাবে কমে যায়। সম্পূর্ণ মেরামত করতে মাসের পর মাস লেগে যায়, কারণ মেরামতির জাহাজ নিরাপত্তার কারণে সেখানে যেতে পারেনি।

ইন্টারনেট বিশ্লেষক ডগ ম্যাডোরির সতর্কবার্তা, যদি একই সঙ্গে হরমুজ ও বাব এল-মান্দেব - দুই পথই বন্ধ হয়ে যায়, তবে তা হবে বৈশ্বিক স্তরে বড় ধরনের বিপর্যয়।

অগভীর জল, বাড়তি ঝুঁকি

হরমুজ প্রণালীর সবচেয়ে সরু অংশে জলের গভীরতা মাত্র প্রায় ২০০ ফুট। ফলে কেবলগুলি সমুদ্রের তুলনামূলক অগভীর অংশেই রয়েছে, যা তাদের আরও ঝুঁকির মুখে ফেলছে।

যদিও ইরানের কিছু নৌযান ধ্বংস হয়েছে, তবুও তাদের কাছে এখনও জলের নীচে কাজ করার সক্ষমতা এবং তথাকথিত ‘শ্যাডো ফ্লিট’ রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

প্রভাব শুধু ইন্টারনেটে নয়

উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, এই কেবলগুলির ক্ষতি হলে শুধু ফোন বা ওয়েবসাইট নয়, তার প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে -

  • ব্যাঙ্কিং পরিষেবা
  • শেয়ার বাজার
  • হাসপাতাল
  • এআই নির্ভর পরিষেবা

প্রথম ধাক্কা খাবে গালফ দেশগুলি। তবে ভারতও সম্পূর্ণ নিরাপদ নয়, দেশে ডেটার গতি কমে যেতে পারে। ইউরোপ থেকে এশিয়ার ডেটা আদানপ্রদান দীর্ঘ পথ ঘুরে যেতে বাধ্য হবে, ফলে বিশ্বজুড়েই সমস্যা বাড়তে পারে।

আপাতত চলছে, কিন্তু ঝুঁকি সর্বোচ্চ

এখনও পর্যন্ত কেবলগুলি কাজ করছে। কিন্তু সমুদ্রে মাইন, চলতে থাকা হামলা এবং মেরামতি জাহাজের অনুপস্থিতি - সব মিলিয়ে ঝুঁকি এখন সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

ইরান সত্যিই কেবল টার্গেট করবে কিনা, তা এখনও অনিশ্চিত। কিন্তু সম্ভাবনাটা যে বাস্তব, তা অস্বীকার করার উপায় নেই বলেই মনে করছে বিশ্লেষক মহল।


```