আমেরিকা ও ইজরায়েলের মিত্র দেশগুলির সঙ্গে যুক্ত জাহাজগুলিকে এই জলপথ ব্যবহার করতে না দেওয়ার সিদ্ধান্তকেও সঠিক বলে ব্যাখ্যা করেন তিনি। তাঁর স্পষ্ট ইঙ্গিত, ভবিষ্যতে এমন নিয়ম তৈরি করা হবে যাতে একদিকে শান্তিপূর্ণ নৌ-পরিবহণ বজায় থাকে, অন্যদিকে ইরান ও গোটা অঞ্চলের স্বার্থও সুরক্ষিত হয়।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 18 March 2026 14:47
দ্য ওয়াল ব্যুরো: যুদ্ধ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz)-তে জাহাজ চলাচলে নতুন কিছু নিয়ম আনার পরিকল্পনার কথা জানাল ইরান (Hormuz new rules Iran)। এই পদক্ষেপ কার্যকর হলে, বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত জ্বালানি পরিবহণ করিডরের পরিচালনায় দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তন (Hormuz war impact) আসতে পারে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, যুদ্ধ শেষ হলে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে একটি “নতুন প্রোটোকল” (Iran shipping policy) চালুর চেষ্টা করবে তেহরান।
আমেরিকা ও ইজরায়েলের মিত্র দেশগুলির সঙ্গে যুক্ত জাহাজগুলিকে এই জলপথ ব্যবহার করতে না দেওয়ার সিদ্ধান্তকেও সঠিক বলে ব্যাখ্যা করেন তিনি। তাঁর স্পষ্ট ইঙ্গিত, ভবিষ্যতে এমন নিয়ম তৈরি করা হবে যাতে একদিকে শান্তিপূর্ণ নৌ-পরিবহণ বজায় থাকে, অন্যদিকে ইরান ও গোটা অঞ্চলের স্বার্থও সুরক্ষিত হয়।
আরাঘচির বক্তব্য, “আমাদের দৃষ্টিতে এটি ইরান সংলগ্ন একটি জলপথ। স্বাভাবিকভাবেই, আমরা আমাদের শত্রুপক্ষদের এই পথ ব্যবহার করতে দেব না।” তিনি আরও জানান, যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকির কারণে ইতিমধ্যেই বহু জাহাজ এই পথ এড়িয়ে চলতে শুরু করেছে।
বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহে ধাক্কা
হরমুজ প্রণালী বিশ্বে তেল ও গ্যাস পরিবহণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ‘চোকপয়েন্ট’। এই পথের ওপর বিধিনিষেধ ও অনিশ্চয়তার প্রভাব ইতিমধ্যেই পড়তে শুরু করেছে আন্তর্জাতিক বাজারে।
ভারতের জাহাজ মন্ত্রক জানিয়েছে, প্রায় ৩ লক্ষ টন এলপিজি বহনকারী ছ’টি ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজ বর্তমানে এই প্রণালীতে এখনও আটকে রয়েছে। মোটের ওপর, ওই এলাকায় এখন ২২টি ভারতীয় জাহাজ রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে এলপিজি ক্যারিয়ার, এলএনজি ট্যাঙ্কার, অপরিশোধিত তেলবাহী জাহাজ, কন্টেনার জাহাজ এবং বাল্ক ক্যারিয়ার।
আংশিক স্বস্তি, তবুও উদ্বেগ
এই পরিস্থিতির মধ্যেই প্রথমে শিবালিক এবং তার একদিন পরে অর্থাৎ গতকাল আরও এক এলপিজি বাহক জাহাজ, নন্দা দেবী, ৪৬,৫০০ টন গ্যাস নিয়ে মঙ্গলবার ভোরে মুম্বইয়ের কাণ্ডলা বন্দরে নিরাপদে পৌঁছেছে। অন্য জাহাজগুলির কার্গো খালাসের কাজও ধাপে ধাপে চলছে।
সতর্কতামূলক ব্যবস্থা ভারতে
দেশের বিভিন্ন বন্দরে ইতিমধ্যেই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাতে কার্গো অপারেশনগুলি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয়। এছাড়াও, আটকে থাকা বা অন্য পথে ঘুরিয়ে আনা পণ্য রাখার জন্য অতিরিক্ত স্টোরেজের ব্যবস্থাও করা হচ্ছে। বিশেষ করে পচনশীল পণ্যের ক্ষেত্রে যাতে জট না তৈরি হয়, সেই দিকেও নজর দেওয়া হচ্ছে।
হরমুজ প্রণালী ঘিরে এই নতুন কূটনৈতিক ও কৌশলগত অবস্থান ভবিষ্যতে বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে নতুন করে সংজ্ঞায়িত করতে পারে। যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে ইরানের প্রস্তাবিত নতুন নিয়ম কার্যকর হলে, শুধু আঞ্চলিক নয়, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি রাজনীতিতেও তার বড় প্রভাব পড়তে পারে।