ভারতে প্রতি ৪০ মিনিটে এক জন পড়ুয়া আত্মহত্যা করেন। ১৮-৩০ বছর বয়সিরা দেশের মোট আত্মহত্যার ঘটনার এক-তৃতীয়াংশের বেশি। শুধু পশ্চিমবঙ্গেই ১৪-১৯ শতাংশ পড়ুয়া আত্মহত্যার কথা ভাবেন।

মানসিক চাপ মোকাবিলায় Teenline
শেষ আপডেট: 9 September 2025 16:58
মানসিক চাপ, সম্পর্কের টানাপড়েন, পড়াশোনার দুশ্চিন্তা, পরিবারের প্রত্যাশার বোঝা — একবিংশ শতকের কিশোর-তরুণ প্রজন্মের কাছে যেন এ সবই এখন নিত্যদিনের বাস্তব। বাইরের দুনিয়ায় সব কিছু ঠিকঠাক চলছে বলে মনে হলেও, ভিতরে ভিতরে কেউ কেউ হয়তো হাল ছেড়ে দিচ্ছে। আপনি কি তেমন কিছু অনুভব করছেন? যদি করেন, জেনে রাখুন — আপনি একা নন। এবং পাশে রয়েছে CINI-এর Teenline হেল্পলাইন।
১০ সেপ্টেম্বর ‘বিশ্ব আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবস’ (World Suicide Prevention Day)-এর আগে, সোমবার কলকাতার গোলপার্কে এক সাংবাদিক সম্মেলনে শিশুকেন্দ্রিক সংস্থা CINI (Child in Need Institute) এই বিষয়েই সমাজের দৃষ্টি ফেরাতে চাইল। বার্তা স্পষ্ট — মানসিক স্বাস্থ্যের (Mental Health) খেয়াল রাখা কোনও বিলাসিতা নয়, বরং প্রয়োজনীয় এক অধিকার।
পরিসংখ্যান কী বলছে?
এই পরিসংখ্যান শুধুই সংখ্যা নয় — এর পিছনে রয়েছে জীবনের রুদ্ধশ্বাস লড়াই, যন্ত্রণা, এবং একা হয়ে পড়ার ভয়। কোনও পরিচিত বন্ধুর গল্প, অথবা হয়তো আপনার নিজের।
সেই কারণেই, CINI-র তরফে বার বার উঠে এল ‘সহযোগিতার’ বার্তা। তাঁদের প্রতিষ্ঠাতা সেক্রেটারি ডাঃ শমির চৌধুরীর কথায়, “আত্মহত্যা প্রতিরোধ সম্ভব, যদি পরিবার, স্কুল এবং সমাজ একজোট হয়ে একটি নিরাপদ পরিসর তৈরি করে। আমরা সকলের সহযোগিতা চাই।”
CINI-র সিনিয়র প্রোগ্রাম ম্যানেজার ডাঃ সান্ত্বনা আধিকারী যোগ করেন, “আজকের কিশোরদের জন্য অনলাইন গেম থেকে সাইবার বুলিং— নতুন মানসিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। আমাদের চাই আরও শক্তিশালী ডিজিটাল লিটারেসি এবং মানসিক সহায়তার কাঠামো।”
আপনি কি শিক্ষক, অভিভাবক, অথবা ছাত্র? আপনি-ও হতে পারেন পরিবর্তনের সঙ্গী। CINI-র Teenline হেল্পলাইন-এর টোল-ফ্রি নম্বর — ১৮০০-১২১-৫৩২৩। যে কোনও জায়গা থেকে ফোন করা যায়, গোপনীয়তা বজায় রেখে কথা বলা যায়। মন খুলে কথা বলার জন্যই এই পরিসর।
মানসিক স্বাস্থ্য কোনও ট্রেন্ড নয় — এটি জীবনের অংশ। কেউ মুখ ফুটে কিছু না বললেও, তার মনে হতে পারে — “আমি আর পারছি না।” CINI-এর টিনলাইন সেই অনুচ্চারিত যন্ত্রণার কণ্ঠস্বর হয়ে উঠতে চায়। সাহস দিতে চায়। আশার আলো দেখাতে চায়।