অনেক সাধারণ অভ্যাসই অজান্তে কিডনির ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি করে, দীর্ঘমেয়াদে যার ফলে হতে পারে গুরুতর ক্ষতি।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 20 January 2026 12:57
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কিডনি (kidney) আমাদের শরীরের এমন এক গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ, যা চুপচাপ অবিরাম কাজ করে চলেছে - শরীর থেকে বর্জ্য বার করা, তরলের ভারসাম্য বজায় রাখা, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করা। অথচ অনেক সাধারণ অভ্যাসই (daily habits harm kideny) অজান্তে কিডনির ওপর অতিরিক্ত চাপ (kidney health) তৈরি করে, দীর্ঘমেয়াদে যার ফলে হতে পারে গুরুতর ক্ষতি। কিডনির রোগ (kidney problems) প্রায়ই নীরবে বাড়তে থাকে, যখন ধরা পড়ে, অনেকটা দেরি হয়ে যায়। তাই শুরু থেকেই সচেতন হওয়া জরুরি।
রুবি হল ক্লিনিকের ইউরোলজিস্ট ডাঃ ক্ষিতিজ রঘুবংশী জানিয়েছেন, আমাদেরই কিছু প্রতিদিনকার অভ্যাস কিডনিকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। সেই সব অভ্যাস থেকে শরীরকে সুরক্ষিত রাখবেন কীভাবে?
কড়া পেইনকিলার (Painkiller) মানেই কিডনির ক্ষতি
মাথাব্যথা, শরীরে যেকোনও ব্যথা কিংবা পিরিয়ডের যন্ত্রণা কমাতে আমরা প্রায়ই ইবুপ্রোফেন, ন্যাপ্রোক্সেনের মতো নন-স্টেরয়েডাল অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি ড্রাগস (NSAIDs) খেয়ে থাকি। কিন্তু এ ধরনের ওষুধ নিয়মিত বা ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া খাওয়া ভয়ংকর হতে পারে।
NSAIDs ব্যথা ও ইনফ্লেমেশন কমায়, তবে এগুলো রক্তপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণেও ভূমিকা রাখে। যখন এগুলো ব্লক হয়ে যায়, তখন কিডনিতে রক্তপ্রবাহ কমে গিয়ে তীব্র ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়। বিশেষ করে যাদের আগে থেকেই কিডনির সমস্যা বা হৃদরোগ আছে, তাঁদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি আরও বেশি।
বারবার বা দীর্ঘমেয়াদি ব্যবহারে কিডনিতে ইনফ্লেমেশন (chronic interstitial nephritis) হতে পারে, যা শেষে স্থায়ী কিডনি বিকলের সমস্যার দিকে ঠেলে দেয়। একই সঙ্গে একাধিক পেইনকিলার খাওয়া বা ডোজের সীমা ছাড়িয়ে যাওয়া এই ঝুঁকি আরও বাড়ায়।
অতিরিক্ত নুন (Excess salt)
অনেকেই ভাবেন সাধারণ নুনের বদলে সি-সল্ট বা হিমালয়ান পিঙ্ক সল্ট ব্যবহার করলে স্বাস্থ্যঝুঁকি কমবে। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সব নুনই আসলে সোডিয়াম ক্লোরাইড। ফলে তাতে ক্ষতিকর প্রভাবের পার্থক্য নেই। আসল বিপদ লুকিয়ে আছে অতিরিক্ত সোডিয়ামেই।
শরীরে অতিরিক্ত সোডিয়াম রক্তচাপ বাড়ায়, যা কিডনি ক্ষতির অন্যতম বড় কারণ। নুন বেশি খেলে কিডনিকে অতিরিক্ত কাজ করতে হয়, বাড়তি চাপ ধীরে ধীরে কিডনির কার্যক্ষমতা কমিয়ে দেয় এবং দীর্ঘমেয়াদে কিডনি রোগ ডেকে আনে।
ডাঃ রঘুবংশী বলেন, “এক নুন থেকে অন্য নুনে ভরসা করলেই সমস্যা মেটে না, আসল সমাধান হল মোট সোডিয়াম ইনটেক কমানো।”
অতিরিক্ত জল খাওয়ার ক্ষতি (excess water intake)
সবারই জানা, পর্যাপ্ত জল খাওয়া জরুরি। কিন্তু বেশি জল খাওয়া সবসময় ভাল নয়। অনেকেই ভুল করে মনে করেন বেশি জল মানেই কিডনি বেশি সুরক্ষিত থাকবে।
বিশেষজ্ঞের মতে, দিনে ৬–৭ লিটার জল খাওয়া একেবারেই প্রয়োজন নেই। এতে হাইপোনাট্রিমিয়া নামের অবস্থা তৈরি হয়, যেখানে রক্তে সোডিয়ামের মাত্রা অস্বাভাবিকভাবে নেমে যায়। এতে কিডনি অতিরিক্ত চাপের মুখে পড়ে, আর গুরুতর ক্ষেত্রে মস্তিষ্ক ফুলে ওঠা, খিঁচুনি বা মৃত্যুও হতে পারে।
সুস্থ প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য দিনে গড়ে ২–৩ লিটার জল যথেষ্ট। তবে জল খাওয়ার পরিমাণ নির্ভর করে আবহাওয়া, শারীরিক পরিশ্রম আর ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যের ওপর। তাই জোর করে জল না খেয়ে তেষ্টা পেলে জল খাওয়াই সঠিক নিয়ম।
পেইনকিলার খাওয়ার আগে কী সতর্কতা নেবেন?
ডাঃ রঘুবংশীর পরামর্শ,
• আধুনিক ওষুধ হোক বা আয়ুর্বেদিক - পেইনকিলার নেওয়ার আগে ডাক্তারের পরামর্শ নিন।
• কিডনি-লিভারের রোগ, উচ্চ রক্তচাপ বা হৃদরোগ থাকলে বিশেষ সতর্ক থাকুন।
• নির্দিষ্ট ডোজ মেনে চলুন, কখনওই সীমা ছাড়াবেন না।
• হারবাল বা আয়ুর্বেদিক ওষুধও নিরাপদ নয়, এতে অনেক সময় ভারী ধাতু মিশে থাকতে পারে যা কিডনি-লিভারের ক্ষতি করে।
• একাধিক ওষুধের উপাদান একসঙ্গে থাকতে পারে - তাই লেবেল ভাল করে পড়ুন। ভুল করে অতিরিক্ত প্যারাসিটামল বা NSAIDs খেলে ওভারডোজের আশঙ্কা থাকে।