কোন উপসর্গ দেখলে সতর্ক হবেন ও রান্নাঘরের কোন খাবারে রয়েছে সমাধান, জানুন বিস্তারিত।

ছবি: এআই
শেষ আপডেট: 5 December 2025 15:23
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শরীরকে সুস্থ রাখতে যে পুষ্টি উপাদানগুলি সবচেয়ে জরুরি, তার মধ্যে ভিটামিন ই (Vitamin E) অন্যতম। এই শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিড্যান্টটি আমাদের কোষকে রক্ষা করে, ত্বক-চুলের স্বাস্থ্য বজায় রাখে এবং রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতাকে (Immune System) শক্তিশালী করে তোলে।
কিন্তু খাদ্যাভ্যাসে গাফিলতি বা শারীরিক সমস্যার কারণে অনেক সময় শরীরে ভিটামিন ই-এর অভাব দেখা যায়। চিকিৎসকরা সতর্ক করেছেন যে, সময়মতো এর চিকিৎসা না করলে স্নায়ুর সমস্যা থেকে শুরু করে দৃষ্টিশক্তির ক্ষতি পর্যন্ত হতে পারে। ভিটামিন ই-এর ঘাটতির ৫টি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ নীচে দেওয়া হল, যা দেখলে দ্রুত সতর্ক হতে হবে।
১. পেশিতে দুর্বলতা ও ক্লান্তি
ভিটামিন ই পেশি কোষকে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস থেকে রক্ষা করে। এর অভাব হলে পেশি দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সামান্য কাজ করলেই ক্লান্তি আসে, হাত-পা ভারী বা ঢিলে মনে হয়। বিশেষ করে যাঁরা নিয়মিত ব্যায়াম করেন, তাঁরা যদি অস্বাভাবিক ব্যথা অনুভব করেন, তবে ভিটামিন ই-এর ঘাটতি হতে পারে।
২. হাত-পায়ে ঝিনঝিনে ভাব বা অসাড়তা
ভিটামিন ই স্নায়ুতন্ত্রের সঠিক কার্যকারিতার জন্য অপরিহার্য। ঘাটতির কারণে স্নায়ুর ওপর চাপ পড়ে এবং 'নার্ভ কন্ডাকশন' ব্যাহত হয়। হাত-পায়ে ঝিনঝিনে অনুভূতি হওয়া, অসাড়তা, অথবা সূচ ফোটার মতো ব্যথা হয়। রাতে বা ঠান্ডার সময় এই সমস্যা বাড়তে পারে। দীর্ঘদিন অবহেলা করলে এটি স্নায়ুর ক্ষতি করতে পারে।
৩. দৃষ্টিশক্তির অবনতি
চোখের রেটিনাকে রক্ষা করতে ভিটামিন ই গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমত কম আলোয় দেখার ক্ষমতা কমে যায়, এরপর চোখ জ্বালা করা, ঝাপসা দেখা বা চোখের ক্লান্তি বেড়ে যেতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ডায়াবেটিস বা চোখের পুরনো সমস্যা থাকলে এই অভাব দৃষ্টিশক্তিকে আরও খারাপ করে দেয়।
৪. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাস
ভিটামিন ই শরীরের ইমিউন সিস্টেমকে মজবুত করে সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করতে সাহায্য করে। বারবার সর্দি-কাশি হওয়া, কোনও ক্ষত সহজে না শুকানো, বা সামান্য রোগেই শরীর দুর্বল হয়ে পড়া, এইসবই ইঙ্গিত দিতে পারে যে শরীর পর্যাপ্ত অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট পাচ্ছে না। বয়স্কদের মধ্যে এই লক্ষণ বেশি দেখা যায়।
৫. ত্বক ও চুলের সমস্যা
ভিটামিন ই ত্বককে রক্ষা করে এবং চুলকে ভেতর থেকে শক্তি দেয়। ত্বক শুষ্ক হয়ে যাওয়া, অস্বাভাবিক র্যাশ, চুল সহজে ভেঙে যাওয়া বা নিস্তেজ হয়ে পড়া। স্কিন কেয়ার রুটিনের পরেও ত্বক একেবারে ফ্যাকাশে মনে হতে পারে।
কী করবেন?
চিকিৎসকরা বলছেন, এই ধরনের উপসর্গ দীর্ঘদিন ধরে দেখা গেলে কেবল বাহ্যিক চিকিৎসায় লাভ হয় না। দ্রুত রক্ত পরীক্ষা (Blood Test) করিয়ে শরীরে ভিটামিন ই-এর মাত্রা যাচাই করা উচিত। বাদাম, বীজ, সূর্যমুখী তেল, পালং শাক, অ্যাভোকাডো এবং ব্রোকলি নিয়মিত খাদ্যতালিকায় রাখলে ভিটামিন ই-এর ঘাটতি অনেকটাই আটকানো যায়।
প্রয়োজন হলে, অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে সাপ্লিমেন্ট (Supplement) নেওয়া যেতে পারে। শরীরের যা কিছুই ঘটবে, তা কখনওই অবহেলা করা উচিত নয়, কারণ সময়মতো পদক্ষেপ নিলে ভিটামিন ই-এর ঘাটতিজনিত জটিলতা এড়ানো সম্ভব।