সাম্প্রতিক এক গবেষণায় ডায়েটের সঙ্গে উঠে এসেছে স্তন ক্যানসারের যোগ, তাতেই চিন্তার ভাঁজ পড়েছে চিকিৎসকদের কপালে।

শেষ আপডেট: 24 October 2025 15:51
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ওজন কমানোর জন্য মানুষ কীই না করেন! অনেকের কাছেই বেশ 'সহজ' একটা অপশন ক্র্যাশ ডায়েট, প্রায় না খেয়ে থাকা। তাতে শরীরে অপূরণীয় কিছু ক্ষতি হতে থাকে নিঃশব্দে। আরও একটা বিশেষ ধরনের ডায়েট বেশ জনপ্রিয়, বহু বছর ধরেই আলোচনায় রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক এক গবেষণায় উঠে তাঁর সঙ্গে উঠে এসেছে স্তন ক্যানসারের যোগ, তাতেই চিন্তার ভাঁজ পড়েছে চিকিৎসকদের কপালে।
কিটো ডায়েটে কার্বোহাইড্রেটের পরিমাণ কমিয়ে সরাসরি খিদেভাব কমানোর ওপর জোর দেওয়া হয় -তাতেই কমতে থাকে ওজন। এই হাই ফ্যাটযুক্ত ডায়েট মহিলাদের স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে, বলছে আমেরিকার হান্টসম্যান ক্যান্সার ইনস্টিটিউটের (Huntsman Cancer Institute) এক গবেষণা।
ইউনিভার্সিটি অফ উটাহ–র এই ইনস্টিটিউটের গবেষকরা জানাচ্ছেন, রক্তে চর্বির মাত্রা বেড়ে গেলে তা ক্যানসার কোষের বাড়বাড়ন্তকে আরও এগিয়ে আনে। এই গবেষণাপত্রটি প্রকাশিত হয়েছে Cancer and Metabolism জার্নালে।
কী বলছে গবেষণা?
‘Hyperlipidemia drives tumour growth in a mouse model of obesity-accelerated breast cancer’ শিরোনামের গবেষণায় দেখা গিয়েছে, ওবেসেটি বা রক্তে অতিরিক্ত চর্বি থাকলে স্তন ক্যানসারের টিউমার দ্রুত বৃদ্ধি পায়।
গবেষকরা জানাচ্ছেন, ‘ট্রিপল-নেগেটিভ’ ব্রেস্ট ক্যানসার (Triple-negative breast cancer) - যা সবচেয়ে মারাত্মক ধরনের ক্যানসারগুলোর একটি - তার কোষগুলো চর্বির প্রতি অতিরিক্ত নির্ভরশীল। শরীরে বেশি লিপিড বা ফ্যাট থাকলে সেই কোষগুলো আরও দ্রুত বিভাজিত হয়, ফলে টিউমার দ্রুত বড় হয়।
এই ধরনের ক্যানসার সাধারণত ৪০ বছরের কম বয়সি মহিলা এবং BRCA1 জিন মিউটেশন থাকা মহিলাদের মধ্যে বেশি দেখা যায়। চিকিৎসায় সাধারণত সার্জারি, কেমোথেরাপি ও রেডিয়েশন ব্যবহৃত হয়।
কীভাবে চালানো হয় গবেষণা?
গবেষকরা ইঁদুরের ওপর পরীক্ষা চালিয়ে দেখেছেন, যেসব ইঁদুরকে উচ্চ-চর্বিযুক্ত খাদ্য দেওয়া হয়েছিল বা যাদের শরীরে জেনেটিকভাবে রক্তে ফ্যাটের মাত্রা বেশি ছিল, তাঁদের শরীরে ক্যানসার দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। গ্লুকোজ বা ইনসুলিনের মাত্রা স্বাভাবিক থাকলেও কেবল ফ্যাটের বেশি পরিমাণই টিউমার বৃদ্ধির কারণ হিসেবে কাজ করেছে।
গবেষক অ্যামান্ডিন শাইক্স বলেন, “যখন স্তন ক্যানসারের কোষগুলো বিভাজনের সংকেত পায়, তখন অতিরিক্ত চর্বি তাদের জন্য বৃদ্ধির জন্য কাজ করে।”
সতর্কবার্তা
গবেষক দল জানাচ্ছেন, যাঁরা ইতিমধ্যে উচ্চ কোলেস্টেরল বা ট্রাইগ্লিসারাইড সমস্যায় ভুগছেন, তাদের ক্ষেত্রে কিটো ডায়েট পরিস্থিতি আরও খারাপ করতে পারে। ড. গ্রেগ ডাক্কার, গবেষণার সহলেখক, সতর্ক করে বলেছেন, “যদি আপনার রক্তে ফ্যাটের মাত্রা বেশি হয়, কিটো ডায়েট সেই ফ্যাটকেই টিউমারের জ্বালানিতে পরিণত করতে পারে।”
তাঁদের পরামর্শ, স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত বা সুস্থ হওয়া রোগীদের ডায়েট শুরু করার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত এবং প্রয়োজনে লিপিড-নিয়ন্ত্রণে ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।
কী এই কিটো ডায়েট?
কিটোজেনিক ডায়েট (Ketogenic diet) হলো এমন এক খাদ্যাভ্যাস যেখানে কার্বোহাইড্রেটের পরিমাণ অত্যন্ত কমিয়ে চর্বি ও প্রোটিনের উপর জোর দেওয়া হয়। এতে শরীর 'কিটোসিস' নামে এক বিশেষ অবস্থায় পৌঁছে যায়, যেখানে কার্বোহাইড্রেটের পরিবর্তে শরীর চর্বিকে শক্তির উৎসের জন্য খরচ করে।
যদিও এতে ওজন কমে, ইনসুলিনের মাত্রা কমে এবং কিছু স্বাস্থ্যগত উপকার পাওয়া যায়, তবু অতিরিক্ত ফ্যাট ডায়েটে থাকলে বিপরীত প্রভাবও দেখা দিতে পারে, বিশেষত ক্যানসারের ঝুঁকি থাকা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে।