ভাবছেন ভাল থাকার সহজ এই নিয়মগুলো তো মেনেই চলছেন, তাহলে আপনার স্ট্রোকের (Stroke) ঝুঁকি একেবারেই নেই - তা কিন্তু নয়।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 18 October 2025 14:35
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শরীর নিয়ে যথেষ্ট সচেতন আপনি - নিয়মিত ব্যায়াম করেন, সুষম ডায়েট মেনে খাবার খান, ধূমপান-অ্যালকোহল থেকে দূরে থাকেন। ভাবছেন, ভাল থাকার সহজ এই নিয়মগুলো তো মেনেই চলছেন, তাহলে আপনার স্ট্রোকের ঝুঁকি একেবারেই নেই।
দুর্ভাগ্যবশত, তা কিন্তু নয়। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, সব কিছু সঠিকভাবে মেনে চললেও একটি 'স্ট্রেস' নাম এই সমস্যাটিকে যদি নিয়ন্ত্রণে না রাখতে পারেন, তবে আপনার সমস্ত স্বাস্থ্যচর্চাই ব্যর্থ হতে বাধ্য।
স্ট্রেস - স্ট্রোকের অদৃশ্য কারণ
আমাদের দৈনন্দিন জীবন এখন রীতিমতো অগোছালো। সেখানে অফিসের ডেডলাইন, ব্যক্তিগত জীবনের টেনশন - সব মিলিয়ে মানসিক চাপ এখন প্রায় সবার নিত্যদিনের সঙ্গী। আর এই স্ট্রেসই হয়ে উঠছে অল্প বয়সে স্ট্রোকের অন্যতম বড় কারণ।
অথর্ব অ্যাবিলিটি–নিউরো রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টারের জেনারেল ম্যানেজার ও প্রধান, ডাঃ গৌরিশ কেঙ্করে জানিয়েছেন, “অল্পবয়সিদের মধ্যেই এখন স্ট্রোকের ঝুঁকি দ্রুত বাড়ছে। দীর্ঘক্ষণ ডেস্কে বসে কাজ, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ও বাড়তে থাকা মানসিক চাপ এই সমস্যার মূল কারণ।”
ঘুমের ব্যাঘাত থেকে বাড়ে হাইপারটেনশন
নারায়ণা হেলথের সিনিয়র কনসালট্যান্ট ও ইন্টারভেনশনাল নিউরোলজি প্রোগ্রামের ডিরেক্টর বিক্রম হুডেড বলেন, “চাপ বাড়তে থাকলে ঘুমের মান খারাপ হতে শুরু করে, যা রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ায়। একই সঙ্গে বাড়ে ওবেসিটি ও হাইপারটেনশনের প্রবণতা, যা স্ট্রোকের সম্ভাবনাকে আরও বাড়িয়ে তোলে।”
তিনি জানান, বর্তমানে তরুণদের মধ্যেও ওবেসিটি, উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস ক্রমশ সাধারণ সমস্যা হয়ে উঠছে। বাড়ছে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের ঝুঁকি।
কোন লক্ষণগুলো স্ট্রোকের ইঙ্গিত দেয়?
স্ট্রোকের উপসর্গ এক এক জনের ক্ষেত্রে আলাদা হলেও কিছু সাধারণ লক্ষণ সম্পর্কে সকলের সচেতন থাকা জরুরি। ডাঃ কেঙ্করে বলেন, “হঠাৎ মুখ, হাত বা পায়ের এক পাশে দুর্বলতা বা অবশভাব, কথা বলতে বা বুঝতে অসুবিধা, অজানা কারণে তীব্র মাথাব্যথা, ভারসাম্যহীনতা, মাথা ঘোরা বা দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে যাওয়া - এগুলো স্ট্রোকের প্রাথমিক সতর্কবার্তা।”
অ্যাস্টার আরভি হাসপাতালের সিনিয়র নিউরোলজিস্ট শ্রীকান্ত স্বামী জানান, “স্ট্রোক চিকিৎসা ও পরবর্তী ভাল থাকার ক্ষেত্রে গত কয়েক দশকে চিকিৎসা বিজ্ঞানে ব্যাপক অগ্রগতি হয়েছে। ফলে এখন অনেক বেশি কার্যকর চিকিৎসা সম্ভব। তবে স্ট্রোকের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হল সময় - ‘গোল্ডেন আওয়ার’। তার মধ্যে চিকিৎসা শুরু করা গেলে ক্ষতির পরিমাণ অনেকটাই কমানো যায়।”
কীভাবে রোধ করবেন স্ট্রোকের ঝুঁকি
রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখুন:
স্ট্রোকের সবচেয়ে বড় কারণ হল উচ্চ রক্তচাপ। এটি রক্তনালিকে দুর্বল করে, ফেটে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ায়। নিয়মিত রক্তচাপ পরীক্ষা ও চিকিৎসকের পরামর্শে তা নিয়ন্ত্রণে রাখাই বেশি জরুরি।
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করুন:
রক্তে অতিরিক্ত চিনি দীর্ঘমেয়াদে রক্তনালির ক্ষতি করে এবং ক্লট তৈরি করতে পারে। ডায়াবেটিস আক্রান্তদের জন্য রক্তে চিনির মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখা স্ট্রোক প্রতিরোধে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুলুন:
তাজা ফল, সবজি ও ফাইবারসমৃদ্ধ খাবার খান। অতিরিক্ত নুন, ট্রান্স ফ্যাট ও স্যাচুরেটেড ফ্যাট এড়িয়ে চলুন। এতে কোলেস্টেরল ও রক্তচাপ দুটোই কম থাকবে, যা স্ট্রোকের ঝুঁকি কমবে।
নিয়মিত ব্যায়াম করুন:
শরীরচর্চা শুধু ওজন কমায় না, রক্তচাপ ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণেও সাহায্য করে। প্রতিদিন অন্তত আধঘণ্টা হাঁটা বা ব্যায়াম শরীর ও মনের উভয়ের জন্য উপকারী।
ধূমপান ছেড়ে দিন:
ধূমপানে রক্ত ঘন হয়ে যায়, ফলে ক্লট হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে। ধূমপান বন্ধ করলে স্ট্রোকের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়।
বিশেষজ্ঞদের চূড়ান্ত বার্তা
স্ট্রোক এখন আর শুধু বয়সের রোগ নয়, বরং তরুণ প্রজন্মের মধ্যেও তা দ্রুত বাড়ছে। নিয়মিত স্বাস্থ্যপরীক্ষা, স্ট্রেস ম্যানেজমেন্ট, পর্যাপ্ত ঘুম, সুষম খাদ্য এবং ব্যায়াম - এই পাঁচটি অভ্যাসই হতে পারে স্ট্রোক প্রতিরোধের সবচেয়ে শক্তিশালী ঢাল।