ফাইবার, প্রোটিন আর ওমেগা-৩ সমৃদ্ধ এই ‘সুপারফুড’ অনেকেই নিয়মিত খাচ্ছেন। কিন্তু সত্যিই কি এটি সবার জন্য নিরাপদ?

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 24 October 2025 17:47
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে হেলদি খাবার নিয়ে সবার মধ্যেই অল্পবিস্তর সচেতনতা তৈরি হয়েছে। সেখানে চিয়া সিডস (Chia seeds) এখন প্রতিটি স্মুদি, ব্রেকফাস্ট বা 'হেলথ ফুডে'র জনপ্রিয় উপাদান। ফাইবার, প্রোটিন আর ওমেগা-৩ সমৃদ্ধ এই ‘সুপারফুড’ (superfood chia seeds benefits) অনেকেই নিয়মিত খাচ্ছেন। কিন্তু সত্যিই কি এটি সবার জন্য নিরাপদ?
ফর্টিস হাসপাতালের (বসন্ত কুঞ্জ, দিল্লি) গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিস্ট ও হেপাটোলজিস্ট শুভম বৎস তাঁর ২৩ অক্টোবরের ইনস্টাগ্রাম পোস্টে জানিয়েছেন, চিয়া সিডস সবার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় নয় এবং কিছু মানুষকে বিশেষভাবে সতর্ক হতে হবে।
চিয়া সিডস সবসময় জলে ভিজিয়ে খাওয়া উচিত। আগের রাত বা খাওয়ার কমপক্ষে আধ ঘণ্টা আগে তা ভিজিয়ে রাখলে সঠিক উপকার পাওয়া যায়। জলে ভেজানোর পর এটি জেলির মতো অবস্থা নেয়, যা খেলে অনেকটা সময় পেট ভরা থাকার অনুভূতি দেয়। এর ফলে খিদে কমে এবং স্বাভাবিকভাবে বেশি ক্যালোরিযুক্ত খাবার খাওয়ার প্রবণতা কমে।
তবে এখানেও বিশেষ কিছু নিয়ম মানার রয়েছে। ডাঃ শুভম বারবার সাবধান করে দিতে বলেছেন, “চিয়া সিডস নিয়ে অতিরিক্ত মাতামাতি না করাই ভাল। কিছু শারীরিক পরিস্থিতির মানুষের ক্ষেত্রে চিয়া সিড ডায়েটে যোগ করার আগে সাবধানতা জরুরি।”
তিনি বিশেষ করে উল্লেখ করেছেন কারা সতর্ক থাকবেন -
উচ্চ রক্তচাপের রোগীরা:
চিয়া সিডসে প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম এবং ওমেগা-৩ থাকে, যা রক্তচাপ ও হৃৎপিণ্ডের কার্যকারিতাকে প্রভাবিত করতে পারে। উচ্চ রক্তচাপ থাকলে এগুলোর পরিমাণ নজরে রাখা জরুরি।
রক্ত পাতলা করার ওষুধ খান যাঁরা:
যদি আপনি অ্যাসপিরিন বা অন্যান্য ব্লাড-থিনার খাচ্ছেন, চিয়া সিডসের ওমেগা-৩ এ ক্ষেত্রে রক্ত আরও পাতলা করে দিতে পারে এবং রক্তপাতের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
হজমের সমস্যা রয়েছে যাঁদের:
পেটভার, গ্যাস বা আইবিএস (IBS) থাকলে চিয়া সিডস পেটের অস্বস্তি আরও বাড়াতে পারে।
কিডনির রোগীরা:
চিয়া সিডসে পটাশিয়াম ও ফসফরাসের পরিমাণ বেশি থাকে, যা কিডনির সমস্যাযুক্ত রোগীর জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। তাঁদের জন্য চিয়া সিডস সম্পূর্ণ এড়িয়ে চলাই ভাল।
ডাঃ শুভম বৎস জানিয়েছেন, “চিয়া সিডস অনেকের জন্য উপকারী হতে পারে, কিন্তু এটি সকলের জন্য ‘ওয়ান-সাইজ-ফিটস-অল’ নয়। নিজের স্বাস্থ্যের অবস্থা সঠিক ভাবে জানার পর চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে তবেই তা খাওয়া উচিত।”