ঘুম শুধুই সারা দিনের ক্লান্তি ভুলিয়ে বিশ্রামের জন্য নয়, আপনার চোখও ঘুমের ওপর নির্ভরশীল।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 15 July 2025 23:59
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সারা দিনের ক্লান্তি ভুলিয়ে দেওয়ার জন্য যেমন ঘুম দরকার, তেমনই চোখের খেয়াল রাখার জন্যও প্রয়োজন নিরবিচারে বিশ্রাম। কিন্তু যদি প্রতিদিন ৬ ঘণ্টারও কম ঘুম আপনার রোজের রুটিন হয়ে থাকে, তাহলে শুধু শরীর নয় - আপনার চোখও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
ঘুম শুধুই বিশ্রামের জন্য নয়, আপনার চোখও ঘুমের ওপর নির্ভরশীল। দীর্ঘদিন কম ঘুমের ফলে হতে পারে দৃষ্টিশক্তি হ্রাস থেকে শুরু করে চোখে সংক্রমণ পর্যন্ত।
শার্প সাইট আই হসপিটালের সিনিয়র কনসালট্যান্ট বিনয় প্রসাদ বলছেন, “চোখের যত্নে ঘুম খুবই গুরুত্বপূর্ণ। পর্যাপ্ত ঘুম না হলে চোখে নানা সমস্যা দেখা দিতে পারে, যার মধ্যে কিছু আবার দীর্ঘস্থায়ীও হতে পারে।”
১) চোখে শুষ্কতা ও জ্বালা
প্রতিদিন কম ঘুমোলে চোখ পর্যাপ্ত পরিমাণে জল (টিয়ার ফ্লুইড) উৎপাদন করতে পারে না, যা চোখকে আর্দ্র ও পরিষ্কার রাখে। এর ফলে চোখ লাল হয়ে যায়, চুলকায়, এমনকী মনে হয় যেন চোখে কিছু একটা আটকে আছে। দীর্ঘ সময় ধরে এভাবে চললে গুরুতর সমস্যা দেখা দিতে পারে।
২) চোখের পাতা কাঁপা (মায়োকাইমিয়া)
মাঝে মাঝে চোখের পাতা কেঁপে ওঠে, এমন অভিজ্ঞতা অনেকের হয় - এটি মায়োকাইমিয়া নামে পরিচিত। ডা. প্রসাদের মতে, কম ঘুম, মানসিক চাপ ও চোখের ক্লান্তির কারণে এটি বেশি দেখা যায়। যদিও এটি বিপজ্জনক নয়, তবে স্বাভাবিকও নয়।
৩) ডার্ক সার্কল ও চোখ ফোলা
ঘুম না হওয়া বা অনিদ্রার সবচেয়ে চোখে পড়ার মতো লক্ষণ হল চোখের নীচে কালো দাগ ও ফোলা ভাব। ঘুম না হলে চোখের নিচে থাকা রক্তনালিগুলি ফুলে যায়, ফলে জায়গাটি কালচে ও ক্লান্ত দেখায়।
৪) ঝাপসা দেখা ও ফোকাস করতে অসুবিধা
চোখকে সুস্থ রাখতে প্রয়োজন বিশ্রাম। পরিশ্রান্ত চোখ যদি পর্যাপ্ত ঘুম না পায়, তাহলে সেটা কোনও কিছুর উপর ফোকাস করতে পারে না। দীর্ঘ সময় স্ক্রিনে তাকিয়ে থাকার পরে ঝাপসা দেখার প্রবণতা বাড়ে, কারণ চোখের পেশিগুলি ক্লান্ত হয়ে পড়ে।
৫) চোখে সংক্রমণের সম্ভাবনা বাড়ে
চোখের জল যে শুধু আর্দ্রতা দেয়, তা নয়—এটি ব্যাকটেরিয়া ও ধুলোবালি থেকেও চোখকে রক্ষা করে। ঘুম না হলে এই তরল চোখে তৈরি কম হয়, ফলে চোখ সহজেই সংক্রমিত হতে পারে। কনজাংকটিভাইটিস (পিংক আই)-এর মতো সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে।
৬) আলোতে চোখে চাপ ও সংবেদনশীলতা
কম ঘুমের ফলে চোখ অতিরিক্ত সংবেদনশীল হয়ে পড়ে। উজ্জ্বল আলোয় চোখে ব্যথা হতে পারে, এমনকী মোবাইল বা ল্যাপটপের স্ক্রিনেও তাকানো কঠিন হয়ে ওঠে। এর সঙ্গে মাথাব্যথা ও চোখে চাপের অনুভূতিও জুড়ে যায়।
আজকাল তো ডিজিটালের যুগ, মানুষ আগের থেকে অনেক বেশি কম্পিউটার, ল্যাপটপ বা ফোনের স্ক্রিনেই সময় কাটায়। এই সমস্যায় তো এখন প্রায় কমবেশি সকলেই ভুগছেন। তাহলে কীভাবে চোখকে রক্ষা করবেন?
• ঘুমাতে যাওয়ার আগে স্ক্রিন টাইম কমিয়ে দিন
• চোখের সুস্থতা বজায় রাখতে নিয়মিত কমপক্ষে ৭-৮ ঘণ্টা ঘুম জরুরি
• ২০-২০-২০ রুল মেনে চলুন: প্রতি ২০ মিনিটে ২০ সেকেন্ডের জন্য ২০ ফুট দূরে তাকান
• ধ্যান বা গভীর শ্বাস নেওয়ার মতো শান্তিপূর্ণ অভ্যাস তৈরি করুন—এতে ঘুমের মান যেমন উন্নত হবে, তেমন চোখের ক্লান্তিও কমবে