Date : 14th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
কিউআর কোড ছড়িয়ে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ! কীভাবে রাতারাতি নয়ডার বিক্ষোভের প্ল্যানিং হল, কারা দিল উস্কানি?নয়ডা বিক্ষোভ সামাল দিতে 'মাস্টারস্ট্রোক' যোগী সরকারের! শ্রমিকদের বেতন বাড়ল ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত Jeet: ভুয়ো প্রচার! ভোট আবহে গায়ে রাজনীতির রঙ লাগতেই সরব জিৎ৪ হাজার থেকে নিমেষে ১ লক্ষ ৮৫ হাজার ফলোয়ার! এক স্পেলেই সোশ্যাল মিডিয়ার নতুন তারকা প্রফুল্লসামনে কাজল শেখ, মমতা কথা শুরু করতেই হাত নেড়ে বিরক্তি প্রকাশ অনুব্রতর! সিউড়িতে কী ঘটলEPL: নায়ক ওকাফর! ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে ৪৫ বছরের অভিশাপ মুছল লিডস, রক্ষণের ভুলে ডুবল ম্যান ইউAsha Bhosle: 'এত ভালবাসার সবটাই তোমার...,' ঠাকুমার স্মৃতি আঁকড়ে আবেগঘন পোস্ট নাতনি জানাইয়েরSupreme Court DA: ডিএ নিয়ে সময়সীমা বৃদ্ধির আর্জি, বুধবার রাজ্যের মামলা শুনবে সুপ্রিম কোর্টনির্বাচকদের শর্টলিস্টে বৈভব! আয়ারল্যান্ড সফরে যাওয়ার জোর সম্ভাবনা, ভাঙতে পারেন সচিনের রেকর্ডIPL 2026: ‘কাছের অনেককে বলেছিলাম, বৈভবকে প্রথম বলে আউট করব!’ কথা দিয়ে কথা রাখলেন প্রফুল্ল

কাশি হলেই দোকান থেকে কফসিরাপ! ইচ্ছেমতো খেলে সংক্রমণ সারে না, বুঝিয়ে বললেন ডাক্তারবাবু

কাশি মানেই দোকান থেকে কফ সিরাপ, এই অভ্যাসই এখন বিপদের কারণ! চিকিৎসকদের সতর্কবার্তা, অতিরিক্ত ও অনিয়ন্ত্রিত সিরাপ সেবনে শরীরে ঘটতে পারে মারাত্মক ক্ষতি।

কাশি হলেই দোকান থেকে কফসিরাপ! ইচ্ছেমতো খেলে সংক্রমণ সারে না, বুঝিয়ে বললেন ডাক্তারবাবু

ছবি - দ্য ওয়াল

গার্গী দাস

শেষ আপডেট: 14 October 2025 18:50

দ্য ওয়াল ব্যুরো: দুর্গাপুজো শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই রাজ্যের আবহাওয়ায় আমূল পরিবর্তন। হঠাৎ শুষ্ক হয়েছে বাতাস, আর্দ্রতা কমার সঙ্গে সঙ্গে রাতে ও ভোরে হালকা ঠান্ডা হাওয়াও বইছে। একে পুজোর সময় অনিয়ম, দুই এমন আবহাওয়ায় অনেকেই সর্দি-কাশিতে ভুগছেন। কারও খুশখুশে কাশি তো কারও বুক ঘড়ঘড় করছে। রাত হলেই বাড়ছে সমস্যা। অনেকেই পাড়ার ওষুধ দোকান থেকে কিছু একটা সিরাপ কিনে খেয়ে ফেলছেন কাশি কমাতে, সঙ্গে যোগ্য সঙ্গত দিচ্ছে প্যারাসিটামল। তাতে কখনও কমে যাচ্ছে অসুখ, কখনও বেড়ে যাচ্ছে অনেকটা। ফুসফুসে সংক্রমণও বাদ যাচ্ছে না।

কাশি খুব একটা বড় রোগ নয়, এটা সারাতে একটা সিরাপ কিনে খেলেই চলে। এই মনোভাব আম বাঙালির রয়েছে, সে ওষুধ দোকানিরা এক বাক্যে স্বীকার করবেন। 'কিছু একটা' ওষুধ দিন, একথা দিনে যে কতবার শুনতে হয়, তার কোনও হিসাব নেই। সম্প্রতি মধ্যপ্রদেশে কাশির সিরাপ খেয়ে মৃত্যু হয়েছে ২২টি শিশুর। তারপরই প্রশ্ন উঠছে, এই যখন তখন দোকানে গিয়ে ওষুধ কিনে খাওয়া কতোটা ভয়াবহ হতে পারে। চর্চা চলছে, এমন কাশির সিরাপের আদৌ সবসময় দরকার হয় কি না।

এই নিয়ে বিস্তারিত জানতে দ্য ওয়ালের তরফে যোগাযোগ করা হয়েছিল ডঃ ধ্রুব বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে। তিনি কিছুটা ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করলেন। পাঠকদের উদ্দেশে দিলেন সতর্কবার্তাও।

চিকিৎসকের কথায়, কাশি হল মানেই যেকোনও সিরাপ কাজে লাগবে এই ধারণা সম্পূর্ণ ভুল। বেশিরভাগ রোগীর ক্ষেত্রেই দেখা যায়, কফের ধরন বোঝার ক্ষমতা থাকে না। দোকানে গিয়ে বললেই হল। আর যাঁরা দোকান থেকে সিরাপ দেন, তাঁরাও বেশিরভাগ ক্ষেত্রে অযোগ্য বা অপেশাদার। ফলে কমার বদলে ফুসফুসে সংক্রমণ হয়ে মারাত্মক আকার ধারণ করে।

কীভাবে বুঝবেন কোনটা কী কফ? ধ্রুব বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, কফ মূলত দু'রকমের হয়। একটা প্রোডাক্টিভ কফ, একটা নন প্রোডাক্টিভ। প্রোডাক্টিভ কফে কফ ওঠে আর নন প্রোডাক্টিভে ওঠে না, শুকনো কাশি। চিকিৎসকরা পর্যবেক্ষণের শুরুতে প্রথমেই দেখে থাকেন, কফের ধরন।

অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করে বলেন, 'বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই হয় ড্রাই কফের সিরাপ দোকান থেকে দিয়ে দেওয়া হয়। সেটা খেয়ে খেয়ে এই আবহাওয়া পরিবর্তনের সময়, বিশেষ করে শীত পড়ার সময় একটা ইনফেক্টিভ বা সংক্রমিত কফ তৈরি হয় এবং প্রোডাক্টিভ। এবার তাকে যদি ড্রাই কফের সিরাপ দিয়ে সারানোর চেষ্টা করি, তাতে ভিতর থেকে যে কফগুলো বেরচ্ছে, সেটা বন্ধ হয়ে যাবে এবং কফটা শরীরের ভিতরেই থেকে যাবে। সেটার ক্ষতি মারাত্মক। ড্রাই কফ হলে তার জন্য প্রয়োজনীয় সিরাপ আর প্রোডাক্টিভ হলে তা সারাতে প্রয়োজনীয় সিরাপ খেতে হবে।'

বাঙালিকে ডাক্তারখানা মুখী করা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই খুব চাপের। কিছু হলে শুরুতে চিকিৎসা করাতে চান না এমন উদাহরণ প্রচুর। সেই উদাহরণ টেনেই ডঃ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, 'প্রাথমিকভাবে ২-৩ দিন নিজে নিজে কফ সিরাপ না খেয়ে স্টিম নিয়ে, গার্গল করে দেখতে হবে, তারপর যদি না কমে ডাক্তারবাবুর কাছে যেতেই হবে। তিনি বুঝে যাবেন কী হয়েছে, কেমন চিকিৎসা দরকার। যে ওষুধ দেবেন, তাই খান। নিজে নিজে চিকিৎসা করলে হিতের বিপরীত হতে পারে।'

কফ সিরাপকে একেবারেই হালকাভাবে না নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। জানান, কফ সিরাপ ওভার দ্য কাউন্টার কিনে এনে ভাল হয়ে যাব এই ধারণা বদলের সময় এসেছে। নাহলে বিপদ অনিবার্য! বলেন, 'অনেকেই দেখছি কাশি হচ্ছে হালকা, জ্বর সামান্য, তাতে বাড়িতে ওষুধ এনে খেয়ে সারানোর চেষ্টা করছে। এতে পরিস্থিতি খুবই ভয়াবহ হয়ে যায়। আর যখন জাক্তারের কাছে যান, তখন হাতের বাইরে চলে যায় সব, ভর্তি করতে হয় হাসপাতালে। তাই ২-৩ দিন দেখুন, ঘরোয়া টোটকা দিয়ে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করুন। নাহলে নিজে নিজে কিছু না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।'

ডঃ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো শহরের অনেক চিকিৎসকই 'ভুলভাল' ওষুধ না বুঝে খাওয়া থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। একাংশ বলেছেন, খুব বাড়াবাড়ি না হলে কাশি নিজে থেকেই সেরে যায় ৭-৮ দিনে। আর কফ জমলে ফুসফুস চায় বের করে দিতে, ওষুধ খেয়ে চেপে দেওয়ার চেয়ে বের করে দেওয়া এক্ষেত্রে ভাল।


```