অতিরিক্ত ওজন যেন শরীরের ভিতরে বিষ ছড়িয়ে দেয়। হার্ট, ডায়াবেটিস, কোলেস্টেরল—সবই ওবেসিটির ফল। ওজেম্পিক ওষুধ কি সত্যিই ওজন কমিয়ে হার্টকে রাখছে সুস্থ? শুনুন কী বললেন কার্ডিওলজিস্ট ড. দিলীপ কুমার।

গ্রাফিক্স: দ্য ওয়াল
শেষ আপডেট: 12 January 2026 17:05
দ্য ওয়াল ব্যুরো: অতিরিক্ত ওজন যেন চুপিসারে শরীরের ভিতরে বিষ ছড়িয়ে দেয়। বাইরে থেকে বোঝা না গেলেও, নিঃশব্দে জাল বুনতে থাকে একের পর এক অসুখ। হাইপারটেনশন, ডায়াবেটিস, কোলেস্টেরল, আর তার শেষ পরিণতি হার্ট অ্যাটাক। ঠিক এই জায়গাতেই আশার আলো দেখাচ্ছে এক নতুন ওষুধ- ওজেম্পিক (Ozempic)। অনেকের দাবি, ম্যাজিকের মতো কমিয়ে দিচ্ছে ওজন! কিন্তু এটি কি সত্যিই এতটা ‘অলৌকিক’? নাকি লুকিয়ে আছে কিছু সতর্কবার্তাও? এ নিয়েই দ্য ওয়ালের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে সবটা জানালেন কার্ডিওলজিস্ট ড. দিলীপ কুমার।
যত ওজন বাড়বে ততই বাড়বে হার্টের সমস্যা। এই দুইয়ের মধ্যে সংযোগটা কোথায়?
প্রথমেই বলি, যদি ওজন কমাতে হয়, তাহলে সবার প্রথমে ডায়েট শুরু করতে হবে। ওজন কমানোর ক্ষেত্রে ডায়েটই ৮০% সাহায্য করে। আর বাকি ২০% হল বেয়াম। আসলে ওবেসিটি থেকে হাইপারটেনশন, ডায়াবেটিস, কোলেস্টেরল সবই হয়। আর এই সব কিছুই কোথাও না কোথাও গিয়ে হার্টের জন্য সমস্যা তৈরি করে। উচ্চ রক্তচাপ, উচ্চ কোলেস্টেরল, স্থূলতা এবং ডায়াবেটিসের মতো সমস্যা তো এখন ঘরে ঘরে। এসবের অন্যতম কারণ হল খারাপ লাইফস্টাইল।
ওবিসিটি থেকে কী হার্ট ফেলিওর-এর সম্ভবনা রয়েছে?
প্রশ্নটা খুবই জরুরি। আসলে স্থূলতা বা ওবিসিটি, একাধিকভাবে আমাদের শরীর-স্বাস্থ্যের উপর প্রভাব ফেলতে পারে। অনেক রোগের কারণ হতে পারে এই ওবিসিটি বা সিভিয়ার ওবিসিটি। সেই তালিকায় রয়েছে উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা, টাইপ ২ ডায়াবেটিস, হার্ট ফেলিওর, অনিয়মিত হৃদস্পন্দন, কিডনির ক্রনিক সমস্যা, শিরায় রক্ত জমাট বাঁধা, গেঁটেবাত, ফ্যাটি লিভার, পিত্তনালীতে থলি, স্লিপ অ্যাপনিয়া, হাঁপানি, অ্যাসিডিটি, বুকজ্বালা, অস্টিওআর্থ্রারাইটিস, হাড় এবং জয়েন্টে ব্যথা - এইসব রোগ। ফলে এই সব কিছুই কোথাও না কোথাও হার্টের উপরই প্রভাব ফেলছে। তাই থেকেই হচ্ছে হার্ট ফেলিওর।
২০৫০ সালে হার্টের অসুখ ও ওবেসিটি দুটোই প্রচুর পরিমানে বাড়বে ভারতে। এই যে এত দ্রুত একটা পরিবর্তন, অনেক কম বয়সি মানুষের মধ্যে এসব সমস্যা দেখা যাচ্ছে। গোটা বিষয়টাকে কীভাবে দেখছেন আপনি?
এটা খুবই সত্যি কথা। গোটা জার্নিতে থাকাকালীনই আমি এই পরিবর্তনটা দেখতে পাচ্ছি। প্রাশ্চাত্য দেশগুলো অনেক আগেই এই পরিস্থিতির শিকার হয়ে গেছে। ভারত সেই পথেই এগচ্ছে। এখন সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে আমাদের কাছে প্রচুর তথ্য রয়েছে। সেটা যদিও একটা পজিটিভ দিক। সেখানেই মানুষ জেনে যাচ্ছে, কীভাবে সুন্দর লাইফস্টাইলে থাকা যায়। তাছাড়া চিকিৎসাও অনেকটাই উন্নত এখন। কিন্তু এত কিছুর পরেও যেটা প্রয়োজন, সেটা হল সচেতনতা। মানুষকে সচেতন হতে হবে।
ওজন কমানোর ওষুধ ওজেম্পিক বাজারে এসে গিয়েছে। লাইফস্টাইল যেমন চলছে চলুক, বরং ওষুধ খেয়ে ওজন কমিয়ে নিই, এমনটা বহু মানুষই করছে। এটা কী করা যায়?
ওষুধও ওজন কমাতে পারবে না। যদি না সুন্দর লাইফস্টাইলে থাকা যায়। যতই ওষুধ নেওয়া হোক, ডায়েট আর বেয়াম দুটোই দরকার। আগে ডায়াবেটিস রোগীরা যে ওষুধ খেত, তাতে ওজন বাড়ত। এখন এমন ওষুধ রয়েছে, যাতে ওজনে কোনওরকম প্রভাব পড়বে না। হয়তো কারও কারও ক্ষেত্রে কমবে।
ওষুধ খেয়ে ওজন কমালে শরীরে কী কী প্রভাব পড়ে?
যদি আপনার ওজন কমে, তাহলে তো সেটা অবশ্যই ভাল জিনিস। কিন্তু প্রথমেই দেখতে হবে আপনি সেই ওষুধ কীভাবে খাচ্ছেন। তার থেকেও বড় কথা, আপনি ওজন কমানোর জন্য কী ওষুধ খাচ্ছেন। তবে এখনও এমন অনেক ওষুধ আছে, যা ভারতে আসেনি। কিন্তু ওষুধ নিয়ে ওজন কমালে সেক্ষেত্রে ১৫-২০% কমবে। প্রচুর পরিমাণে কোনও সাইড এফেক্ট এখনও পর্যন্ত দেখা যায়নি। হার্টের উপরও ভাল প্রভাব পড়ছে। তবে অনেকের ক্ষেত্রে বমি বমি ভাব, অ্যালার্জি দেখা দিচ্ছে।
ড. দিলীপ কুমার সাবধান করে বলেন, 'ভুলেও কোনও চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এমন ধরনের কোনও ওষুধ নেবেন না। যতটা সম্ভব ডায়েট আর ওয়ার্ক আউট করে ওজন কমানোর চেষ্টা করুন। এতে শরীর ও মন দুটোই ভাল থাকবে।'