অনিয়মিত পিরিয়ড মানেই কি পিসিওএস (PCOS)? পিসিওএস এবং পিসিওডি (PCOD) নিয়ে অনেকের ক্ষেত্রেই বিভ্রান্তি তৈরি হয়। দুটো ঠিক কোথায় আলাদা?

গ্রাফিক্স - দিব্যেন্দু দাস
শেষ আপডেট: 10 November 2025 20:52
দ্য ওয়াল ব্যুরো: যবে থেকে পিরিয়ড (Period) শুরু হয়েছে, মানে সেই বয়ঃসন্ধি (teenage) থেকেই কোনরকম কোনও সমস্যা নেই। ঠিকঠাক সময়ে পিরিয়ড হয়েছে। তাহলে কি ধরে নেওয়া যায় যে, তার কোনরকম সমস্যা নেই? সেই কথা জোর দিয়ে বলা যায় না, বলছেন সিনিয়র গাইনোকোলজিস্ট এবং অবস্টেস্ট্রিশিয়ান ধ্রুবা রায়।
দ্য ওয়ালে (The Wall) পিসিওএস (polycystic ovary syndrome) সম্পর্কিত এক সাক্ষাৎকারে গাইনোকোলজিস্ট ধ্রুবা বলেন, ‘সব ঠিক আছে, কিন্তু বিয়ের পর প্রেগন্যান্ট (Pregnancy problems) হতে সমস্যা হচ্ছে। তখন ডাক্তারের পরামর্শে কিছু টেস্টের মাধ্যমেই নিশ্চিত হওয়া সম্ভব যে, এখানে পিসিওএস (PCOS)-এর কোনও সমস্যা নেই।’
তাহলে সেক্ষেত্রে কি কোনও উপায় নেই বোঝার যে পিসিওএস শরীরে গোপনে প্রভাব ফেলছে কি না? দীর্ঘ অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ডক্টর ধ্রুবার কথায়, ভাল করে খেয়াল রাখতে হবে যে, মাঝে মাঝেই দুর্বল লাগছে না তো, অ্যানিমিয়া বা রক্তাল্পতার সমস্যা মাথাচাড়া দিচ্ছে কি বা ভিটামিন ডি ঠিক আছে কিনা।
সাধারণত ওভারির কাজে ব্যাঘাত ঘটলে হরমোনের ভারসাম্য দেখা দেয় – তার প্রভাবেই শরীরে নানা রকম প্রভাব দেখা দেয়, উপসর্গ শুরু হয়। কিন্তু পিসিওএস বা পলিসিস্টিক ওভারিয়ান সিনড্রোম এবং পলিসিস্টিক ওভারিয়ান ডিজিজ নিয়ে অনেকের ক্ষেত্রেই একটা বিভ্রান্তি তৈরি হয়। দুটো ঠিক কোথায় আলাদা?
চিকিৎসক বলছেন, ‘সিনড্রোম আর ডিজিজ অনেকটাই একই, তবে সিনড্রোমে অনেক উপসর্গ একসঙ্গে কাজ করে। সেখানে ডিজিজে হয়তো এক দুটোই দেখা দেয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘সমস্যা আসলে ওভারি থেকে শুরু হয়ে তা ত্বকে প্রভাব ফেলছে। এমনকী ভবিষ্যতে ডায়াবেটিস, হাইপারটেনশন হওয়ারও ঝুঁকি বেড়ে যায়। এত রকম উপসর্গ যখন একসঙ্গে শরীরে দেখা দেয়, তখন বুঝতে হবে এটা পিসিওডি নয়, পিসিওএস। সব পলিসিস্টিক ওভারি মানেই কিন্তু পলিসিস্টিক ওভারিয়ান সিনড্রোম নয়।’
ডক্টর ধ্রুবা যেমন বারবার মনে করালেন, ‘সব ক্ষেত্রে সিস্ট নাও থাকতে পারে। হরমোনাল ভারসাম্য থেকেই ঘটে সবটা। মেয়েদের যখন প্রথম প্রথম পিরিয়ড শুরু হয়, পেটব্যথার সমস্যা থাকতে পারে। কিছুটা অনিয়মিত হতে পারে পিরিয়ড। সেই ক্ষেত্রে কিছু বছর পর্যন্ত দেখা হয়। সমস্যা একই থাকলে তারপর চিকিৎসার কথা ভাবা হয়।’
অনিয়মিত পিরিয়ড মানেই কি পিসিওএস? ডক্টর ধ্রুবার কথায়, ‘এমনটা কিন্তু নয়। তবে এটা এই সিনড্রোমের অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ উপসর্গগুলির মধ্যে একটি। অনেকদিন ধরে পিরিয়ড হচ্ছে না, তা হয়তো একটা বড়সড় লক্ষণ যে তার ওভ্যুলেশন ঠিক করে হচ্ছে না। মাঝে মাঝে পিরিয়ডে গ্যাপ পড়ে যাওয়া, হতে পারে দু’তিন মাস ছাড়া ছাড়া, আবার হলে একটানা অনেকদিন ধরে চলছে। ইস্ট্রোজেন-প্রজেস্টেরনে ভারসাম্য নষ্ট হলে এমনটা হয়।’
পিসিওএস বা পিসিওডি আসলে এমন এক সমস্যা, যা আজকের ব্যস্ততার দিনে একটা খুব সাধারণ সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে একে কাবু করা কঠিন নয়, দরকার কিছু সাধারণ নিয়ম মেনে চলা আর জীবনযাত্রার পরিবর্তন।