সম্প্রতি ইনস্টাগ্রামে এক ভিডিওতে ল্যাপ্রোস্কোপিক ও ব্যারিয়াট্রিক সার্জন ডঃ প্রীতি মৃণালীনি জানালেন, এমন পাঁচটি জিনিসের কথা, যেগুলো তিনি নিজের রান্নাঘরে রাখেন না।
.jpeg.webp)
রান্নাঘরের জিনিসপত্র (এআই দিয়ে তৈরি ছবি)
শেষ আপডেট: 9 February 2026 18:11
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আমরা কী খাচ্ছি, সেটা যেমন গুরুত্বপূর্ণ—তেমনি গুরুত্বপূর্ণ, নিয়মিত কী খাচ্ছি। কারণ দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যের ক্ষতি বেশিরভাগ সময় হঠাৎ করে আসে না। আসে ধীরে নিঃশব্দে। অন্ত্রের সমস্যা, হরমোনের গোলমাল, ক্রমাগত ইনফ্ল্যামেশন—সবই গড়ে ওঠে প্রতিদিনের ছোট ছোট অভ্যাস থেকে।
সম্প্রতি ইনস্টাগ্রামে এক ভিডিওতে ল্যাপারোস্কোপিক ও ব্যারিয়াট্রিক সার্জন ডঃ প্রীতি মৃণালীনি জানালেন, এমন পাঁচটি জিনিসের কথা, যেগুলো তিনি নিজের রান্নাঘরে রাখেন না। ভয়ের কারণে নয়—বিজ্ঞান, ক্লিনিক্যাল অভিজ্ঞতা আর রোগীদের মধ্যে বারবার দেখা প্যাটার্ন থেকেই তাঁর এই সিদ্ধান্ত।
প্রতিদিনের খাবারে কোথায় হচ্ছে গোপন ক্ষতি?
ডা. প্রীতি মৃণালিনীর মতে, আধুনিক রান্নাঘরের সবচেয়ে বড় সমস্যা হল ‘অদৃশ্য’ ক্ষতি। বাইরে থেকে সব স্বাভাবিক মনে হয়, কিন্তু শরীরের ভেতরে ধীরে ধীরে জমতে থাকে চাপ।
প্রথমেই তিনি বলেন প্যাকেটজাত ও রেডি-টু-ইট খাবারের কথা। সময় বাঁচালেও এই খাবারগুলোতে থাকে অতিরিক্ত নুন, প্রিজারভেটিভ, কৃত্রিম ফ্লেভার ও স্ট্যাবিলাইজার। এগুলো অন্ত্রের স্বাভাবিক কাজকর্মে ব্যাঘাত ঘটায়। দীর্ঘদিন খেলে খিদে-তৃপ্তির সংকেতও গুলিয়ে যেতে পারে। অনেক রোগীই বলেন, ‘আমি তো ঠিকঠাকই খাই’—কিন্তু নিয়মিত এই খাবার খাওয়াই ইনফ্ল্যামেশনের বড় কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
চিনি নিয়ে তাঁর পর্যবেক্ষণ আরও কড়া। অতিরিক্ত চিনি শুধু ওজন বাড়ায় না। ইনসুলিন স্পাইক, এনার্জি ক্র্যাশ, ফ্যাটি লিভার, হরমোনাল ইমব্যালান্স—সব কিছুর সঙ্গেই সরাসরি যোগ আছে। তাঁর অভিজ্ঞতায়, চিনি কমালেই অনেক রোগীর হজম, এনার্জি আর সার্বিক সুস্থতা দ্রুত ভাল হয়।
রান্নাঘরের ছোট জিনিসও ঝুঁকিপূর্ণ
অনেকে অবাক হন প্লাস্টিক চপিং বোর্ডের কথা শুনে। কিন্তু বাস্তব হল—ছুরি চালালেই খাবারের সঙ্গে মিশে যায় মাইক্রোপ্লাস্টিক। গবেষণা বলছে, এগুলো অন্ত্রের ব্যাকটেরিয়া, হরমোন আর ইনফ্ল্যামেশনে প্রভাব ফেলতে পারে। ঝুঁকি পুরোপুরি বোঝা না গেলেও, এড়ানো সম্ভব—কাঠ বা বাঁশের বোর্ডেই সমাধান।
আরেকটি বড় সমস্যা কমদামের চকোলেট। এগুলোর বেশিরভাগই কোকোর থেকে বেশি চিনি আর ভেজিটেবল ফ্যাটে ভরা। ডা. মৃণালিনীর কথায়, এগুলো আসলে ‘কোকো-ফ্লেভার্ড সুগার ব্লক’। নিয়মিত খেলে হজমের সমস্যা, ত্বকের ব্রণ এমনকি ইনফ্ল্যামেশন বাড়তেও পারে।
সবশেষে আসে রিফাইন্ড ভেজিটেবল অয়েল। উচ্চ তাপে রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় তৈরি এই তেলগুলো শরীরে অতিরিক্ত ওমেগা-৬ সঞ্চার করে, যা ইনফ্ল্যামেশন বাড়িয়ে দেয়। বহু রোগীই এ ধরনের তেল ব্যবহার করলে পেটফাঁপা, অস্বস্তির কথা বলেন। ঠান্ডা ঘানির তেল এখানে অনেকটাই নিরাপদ বিকল্প।
ছোট বদল, বড় প্রভাব
এই তালিকার মূল কথা কোনও চরম ডায়েট নয়। ডা. প্রীতি মৃণালিনী বারবার বলেন—সচেতনতা। একদিনের ভুল খাবারে শরীর ভাঙে না। কিন্তু প্রতিদিনের অচিন্তিত অভ্যাসেই ভবিষ্যতের অসুখ তৈরি হয়।
রান্নাঘরে সামান্য বদল—ভাল তেল, কম চিনি, কম প্রসেসড খাবার, নিরাপদ বাসন—এই ছোট সিদ্ধান্তগুলোই ইনফ্ল্যামেশন কমাতে পারে, অন্ত্র সুস্থ রাখে, আর বড় অসুখ হওয়া থেকে বাঁচাতে পারে। কখনও কখনও প্রতিরোধের শুরুটা সত্যিই রান্নাঘর থেকে হয়।