দীর্ঘক্ষণ ল্যাপটপ কোলে রাখা বা ফোন পকেটে রাখার অভ্যাস কমিয়ে দিতে পারে শুক্রাণুর গুণমান। গবেষণায় উঠে এল পুরুষদের প্রজনন ক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগজনক তথ্য।

ফোনটা দিনভর পকেটেই রাখছেন?
শেষ আপডেট: 6 August 2025 19:52
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মোবাইল আর ল্যাপটপ এখন শুধু প্রযুক্তি নয়, আমাদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। অফিস হোক বা বাড়ি, দিনের অনেকটা সময় আমরা কাটাই স্ক্রিনে চোখ রেখে, কখনও কোলের উপর ল্যাপটপ নিয়ে, কখনও পকেটে ফোন রেখে। কিন্তু এই অভ্যাসই নাকি পুরুষদের জীবনে ডেকে আনতে পারে ভয়ঙ্কর সমস্যা। সাম্প্রতিক এক যৌথ গবেষণায় উঠে এসেছে, এই অভ্যাসে ধীরে ধীরে কমে যাচ্ছে শুক্রাণুর গুণমান। বাড়ছে বন্ধ্যাত্বের ঝুঁকি।
কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের জেনেটিক্স রিসার্চ ইউনিট এবং ইনস্টিটিউট অফ রিপ্রোডাকটিভ মেডিসিন-এর এক গবেষণায় প্রায় ১২০০ জন ২০ থেকে ৪০ বছর বয়সি পুরুষের উপর সমীক্ষা চালানো হয়। ফলাফল জানিয়ে দিয়েছে, যারা দিনের পর দিন মোবাইল ফোন পকেটে রাখেন বা ল্যাপটপ কোলের উপর নিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাজ করেন, তাঁদের মধ্যে শুক্রাণুর ঘনত্ব কমে যাচ্ছে। শুধু তাই নয়, শুক্রাণুর গঠনও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
গবেষণায় দেখা গিয়েছে, ইলেকট্রোম্যাগনেটিক রেডিয়েশন পুরুষদের প্রজনন ক্ষমতার উপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে। শুক্রাণুর গতিশীলতা কমে যাচ্ছে, বদলে যাচ্ছে তার আকৃতি। এমনকি শুক্রাণুর ডিএনএ-র গঠন পর্যন্ত নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকছে।
এই গবেষণার নেতৃত্ব দিয়েছেন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক। তাঁর কথায়, “যাঁরা দিনে পাঁচ ঘণ্টারও বেশি সময় পকেটে মোবাইল ফোন রাখেন বা কোলে ল্যাপটপ রেখে কাজ করেন, তাঁদের ক্ষেত্রে ক্ষতির সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি।”
গবেষক সমুদ্র পাল জানিয়েছেন, সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন ৩০ বছরের কম বয়সি তরুণরা। বিশেষত, যাঁদের নির্দিষ্ট জেনেটিক মিউটেশন রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে এই ক্ষতি আরও ভয়াবহ হতে পারে। গবেষণায় অংশগ্রহণকারী পুরুষদের জীবনধারা, খাদ্যাভাস, নেশার মাত্রা এবং জেনেটিক বিশ্লেষণ, সব কিছুই খতিয়ে দেখা হয়েছে।