গবেষণা বলছে, শরীর নয় শুধু, মনেরও উপকার করে এই সহজ অভ্যাস। জীবনযাপনের মান উন্নত করে এবং দীর্ঘদিন সুস্থ জীবনের সম্ভাবনা বাড়ায়।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 7 July 2025 16:57
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ‘দীর্ঘজীবন পেতে সবসময় জিমে ছুটতে হবে না। হাঁটলেই চলবে,’ বার্তা দিলেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ সঞ্জয় ভোজরাজ। সম্প্রতি, ইনস্টাগ্রামে একটি পোস্ট করে তিনি জানান, প্রতিদিন মাত্র ২০ মিনিট হাঁটলে হৃদরোগের ঝুঁকি প্রায় ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে।
নিয়মিত হাঁটার বিজ্ঞানসম্মত কারণও দিলেন ডা. ভোজরাজ। তিনি লেখেন, "আয়ু বাড়াতে সবসময় কোনও জটিল বায়োহ্যাকিংয়ের দরকার নেই। প্রতিদিনের একটি সাধারণ অভ্যাস গড়ে তুলুন – হাঁটা। সেটাই জীবনদায়ী হয়ে উঠতে পারে।"
চিকিৎসক ২০২৩ সালে প্রকাশিত একটি মেটা-অ্যানালিসিস গবেষণার কথা উল্লেখ করে জানান, প্রতিদিন ২০-৩০ মিনিট হাঁটলেই হৃদরোগের ঝুঁকি ৪৯% পর্যন্ত কমে যেতে পারে।
এই অভ্যাস কীভাবে কাজ করে? তিনি এর ৩টি কারণ উল্লেখ করেছেন:
১) রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে
২) রক্ত সঞ্চালন ও হার্ট রেট ভ্যারিয়েবিলিটি বাড়ায়
৩) কর্টিসল কমিয়ে মুড ভাল করে, মানসিক চাপ কমায়
হাঁটাহাঁটি বনাম জিম: কী বলছেন ডাক্তার?
ডা. ভোজরাজ স্পষ্ট করে বলেন, “এই অভ্যাস HIIT (হাই-ইনটেনসিটি ওয়ার্কআউট) বা ঘণ্টার পর ঘণ্টা দৌড়ঝাঁপ নয়, এটা শুধুই নিয়মিত চলাফেরা। দীর্ঘজীবন পেতে হলে জিমে ঢুঁ মারতেই হবে - এই ধারণা ভুল। হাঁটাচলা দিয়েই শুরু করুন।”
গবেষণায় আরও কী উঠে এল?
২০২৩ সালের গবেষণায় দেখা গিয়েছে, যাঁরা দ্রুত গতিতে হাঁটেন, তাঁদের মধ্যে স্মৃতিভ্রংশ বা 'কগনিটিভ ডিক্লাইন'-এর ঝুঁকি ৬৪ শতাংশ কম। অন্যদিকে, যাঁদের হাঁটার গতি কম, তাঁদের মধ্যে বিষণ্ণতা, উদ্বেগ ও মানসিক দক্ষতা কমতে থাকার প্রবণতা অনেক বেশি।
এই গবেষণা বলছে, শরীর নয় শুধু, মনেরও উপকার করে হাঁটাহাঁটি। পাশাপাশি জীবনযাপনের মান উন্নত করে এবং দীর্ঘদিন সুস্থ জীবনের সম্ভাবনা বাড়ায়।
বিধিবদ্ধ সতর্কীকরণ: এই সংক্রান্ত কোনও মতামত দ্য ওয়ালের নয়। দ্য ওয়াল স্বাস্থ্য / সাজগোজ সম্পর্কিত কোনও সম্পাদকীয় / সম্পাদক-নিয়ন্ত্রিত তথ্য, পরামর্শ প্রদান করে না। প্রদত্ত পরামর্শ ও তথ্য প্রয়োগের আগে সঠিক সিদ্ধান্ত নিন। নিজের মতামতকে গুরুত্ব দিন।