পিরিয়ড শুরুর সাধারণত এক সপ্তাহ আগে উপসর্গগুলি অনুভূত হলেও পিরিয়ড শুরু হলে ধীরে ধীরে তা কমে যায়।

ছবি - এআই
শেষ আপডেট: 5 July 2025 18:27
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পিরিয়ড শুরু হওয়ার কয়েকদিন আগে থেকেই অনেকে বিভিন্ন শারীরিক ও মানসিক উপসর্গে ভোগেন। পেট ফাঁপা, মেজাজ খারাপ, ক্লান্তি, মনমরা ভাব, স্তনে ব্যথা— এই সমস্ত লক্ষণগুলি যেন প্রতি মাসের সঙ্গী। এই সব উপসর্গে একসঙ্গে প্রিমেনস্ট্রুয়াল সিনড্রোম (Premenstrual Syndrome) বা PMS নামে পরিচিত।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিটি মহিলার ক্ষেত্রে PMS-এর প্রকৃতি আলাদা হতে পারে। তবে পিরিয়ড শুরুর সাধারণত এক সপ্তাহ আগে উপসর্গগুলি শুরু হলেও ব্লিডিং শুরু হলে ধীরে ধীরে তা কমে যায়।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, PMS মূলত দেহে হরমোন ও ব্রেন কেমিক্যালের বারবার ওঠানামার ফলে হয়। ফিমেল সেক্সুয়াল হরমোনের পরিবর্তন, পিটুইটারি হরমোন, প্রোস্টাগ্ল্যান্ডিন, সেরোটোনিন ও অন্যান্য নিউরোট্রান্সমিটারের মাত্রার এদিক ওদিক হওয়া মানেই তার প্রভাব শরীরের পাশাপাশি মনের ওপরও পড়তে বাধ্য।
শুধু তাই নয়, জীবনযাত্রাও এই ক্ষেত্রে বড়সড় ভূমিকা পালন করে। রোজকার জীবনে ধূমপান, অতিরিক্ত স্ট্রেস, অনিয়মিত ঘুম, ব্যায়ামের অভাব এই বড় কারণ। ডায়েটে চিনি, নুন, ক্যাফেইন, অ্যালকোহল ও রেড মিটের বেশি ব্যবহার পিএমএসের মাত্রা বাড়ায় বলে মনে করেন চিকিৎসকরা।
তবে এসব অভ্যাস PMS তৈরি করে, নাকি PMS-এর জন্য এসব অভ্যাস তৈরি হয় – এই নিয়ে সঠিক তথ্যপ্রমাণ নেই চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞদের কাছে।
PMS-এর উপসর্গ কী কী?
শুধু শরীরে এর প্রভাব অনুভূত হয় তা নয়। মানসিক ও আবেগজনিত প্রভাবও অনেক মহিলাকেই মাসের এই সময়টায় তাড়া করে বেড়ায়। স্তনে ব্যথা ও ফোলাভাব, পেটফাঁপা ও গ্যাস, পা ফোলা, মাথা-পিঠ ব্যথা, ব্রন ছাড়াও শারীরিক ক্লান্তি ও দুর্বলতা তো আছেই। তাছাড়া খাবারের জন্য ঝোঁক (বিশেষ করে চিনি বা নুন) অনেকেরই ক্ষেত্রেই বড় উপসর্গ হয়ে দেখা দেয়।
হরমোনাল পরিবর্তনের কারণে মেজাজও ঠিক থাকে না। রাগ বা উত্তেজনার ওপর কন্ট্রোল রাখা সম্ভব হয় না অনেক সময়। অকারণ মনখারাপ, হতাশা, অস্থিরতা থেকে কান্নাকাটি শুরু হতে পারে। মনোযোগে ঘাটতি, যৌন ইচ্ছায় পরিবর্তনও দেখা যায় অনেকের মধ্যে।
আসলে PMS নিশ্চিত করার জন্য নির্দিষ্ট কোনও রক্তপরীক্ষা বা শারীরিক পরীক্ষা নেই। চিকিৎসক সাধারণত জিজ্ঞেস করেন উপসর্গ কবে হয়, কতদিন ধরে থাকে, কোনও বিশেষ স্ট্রেস বা ওষুধ চলছে কিনা। তারপর এক–দু’মাসের ডেইলি সিম্পটম ডায়েরি রাখতে বলেন যাতে কখন কী লক্ষণ, কতটা তীব্রতা, পিরিয়ডের সময় সম্পর্কে ট্র্যাক রাখা সহজ হয়।
PMS কমাতে কী করবেন?
জীবনযাপনে পরিবর্তন আনুন:
• নিয়মিত ব্যায়াম করুন (সপ্তাহে অন্তত ৫ দিন, ৩০ মিনিট করে)
• খাওয়া-ঘুম ঠিক সময়ে করুন
• চিনি, নুন, ক্যাফেইন, রেড মিট কম খান
• ধূমপান ও অ্যালকোহল পরিহার করুন
• মেডিটেশন বা রিল্যাক্সেশন অভ্যাস করুন
কখন ডাক্তার দেখাবেন?
• উপসর্গ যদি আপনার রোজের রুটিন কাজ, সম্পর্ক বা মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলতে শুরু করে
• ডিপ্রেশন, রাগ বা আত্মহানির প্রবণতা অনুভব হলে
• যদি প্রতিমাসে উপসর্গ অসহনীয় হয়ে ওঠে
বেশিরভাগ মহিলার ক্ষেত্রে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে PMS কমে যায়। ৩৫-এর পর থেকে উপসর্গ হালকা হতে শুরু করে এবং মেনোপজে গিয়ে পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।