কোনও একটি প্রোডাক্ট একজনের জন্য আরামদায়ক হলেও অন্যদের জন্য অস্বস্তিকর হতে পারে। আজ, মেনস্ট্রুয়াল হাইজিন ডে-তে (Menstrual Hygiene Day) জেনে নিন আপনার প্রয়োজন কী?

মেনস্ট্রুয়াল হাইজিন ডে
শেষ আপডেট: 28 May 2025 17:52
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সব মহিলাদের জন্যই পিরিয়ড খুব কষ্টকর এবং অস্বস্তিকর। কারও কম কারও বেশি। মাসের ওই পাঁচদিন যেন এক 'অভিশাপ'। তবে যতদিন যাচ্ছে সমস্যা থেকে মুক্তি মিলছে। স্যানিটারি প্যাড (Sanitary Pad), ট্যাম্পন (Tampon), মেনস্ট্রুয়াল কাপ (Menstrual Cup) বাজারে এসেছে। তবে একেক জনের প্রয়োজন একেক রকম। কোনও একটি প্রোডাক্ট একজনের জন্য আরামদায়ক হলেও অন্যদের জন্য অস্বস্তিকর হতে পারে। আজ (২৮ মে), মেনস্ট্রুয়াল হাইজিন ডে-তে (Menstrual Hygiene Day) জেনে নিন আপনার প্রয়োজন কী? কোনটা নিরাপদ? কতক্ষণ পরপর প্যাড বদলানো উচিত।
কী কী বিকল্প আছে?
ভারতে এখন বিভিন্ন ধরনের মেনস্ট্রুয়াল প্রোডাক্ট (Menstrual Product) পাওয়া যায়। এরমধ্যে স্যানিটারি প্যাড, ট্যাম্পন, মেনস্ট্রুয়াল কাপ সবথেকে বেশি প্রচলিত। কোনটি কাদের জন্য উপযুক্ত, কতক্ষণ পর পর বদলানো উচিত, বিস্তারিত ব্যাখ্যা করেছেন ফরিদাবাদের ক্লাউডনাইন হাসপাতালের কনসালট্যান্ট গাইনোকলজিস্ট ডা. শৈলী শর্মা।
স্যানিটারি প্যাড: সহজলভ্য এবং ব্যবহার করতে সুবিধা। প্রতি ৪ থেকে ৬ ঘণ্টা পর বদলানো উচিৎ। এর বেশি সময় রাখলে গোপনাঙ্গে সংক্রমণের ঝুঁকি থাকতে পারে।
ট্যাম্পন: যেসকল মেয়েরা খেলাধুলার সঙ্গে জড়িত তাঁদের জন্য এটি বেশ উপযুক্ত। কিন্তু ভুলভাবে ব্যবহার করলে টক্সিক শক সিনড্রোম হওয়ার ঝুঁকি থাকে। প্রতি ৪-৮ ঘণ্টা অন্তর বদলানো উচিত। তবে হেভি পিরিয়ডের সমস্যা থাকলে ২ ঘণ্টা অন্তর প্যাড বদলে ফেলাই ভাল।
মেনস্ট্রুয়াল কাপ: এটি তুলনামূলক দীর্ঘস্থায়ী। ঠিকভাবে ব্যবহার করলে ৮-১২ ঘণ্টা পর্যন্ত বদলানোর প্রয়োজন হয় না। তবে কাপটি যাতে জীবাণুমুক্ত থাকে সেদিকেও নজর রাখতে হবে। তাই ব্যবহারের আগে ও পরে ভালভাবে পরিষ্কার করতে হবে।
মেনস্ট্রুয়াল কাপ ব্যবহারের নিয়ম: ব্যবহারের আগে বডি ওয়াশ দিয়ে ধুয়ে হালকা গরম জলে স্টেরিলাইজ করে নিতে হবে। সাকশন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যোনিতে আটকে নিতে হয়। সরু মুখ হওয়ায় সহজেই বের করা যায়। এই কাপের সুবিধা হল এটি পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে পারলে বেশ কয়েক বছর ব্যবহার করা যায়।
স্যানিটারি প্যাড, ট্যাম্পন পরিবেশবান্ধব হলেও এগুলি সম্পূর্ণভাবে পরিবেশে মিশে যেতে কয়েকশো বছর সময় লাগে। অন্যদিকে মেনস্ট্রুয়াল কাপের ক্ষেত্রে সেই সমস্যা নেই। এটি মূলত সিলিকন দিয়ে তৈরি হয়। ফলে এটি বায়োডিগ্রেডেবল। মেনস্ট্রুয়াল কাপ নিয়েও সতর্ক করেছেন চিকিৎসকরা। এটি ব্যবহার করলে রক্ত এক জায়গায় জমে থাকে, শরীরের বাইরে বেরোতে পারে না। ফলে সংক্রমণের ঝুঁকিও বেড়ে যায়।