Date : 14th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
কিউআর কোড ছড়িয়ে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ! কীভাবে রাতারাতি নয়ডার বিক্ষোভের প্ল্যানিং হল, কারা দিল উস্কানি?নয়ডা বিক্ষোভ সামাল দিতে 'মাস্টারস্ট্রোক' যোগী সরকারের! শ্রমিকদের বেতন বাড়ল ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত Jeet: ভুয়ো প্রচার! ভোট আবহে গায়ে রাজনীতির রঙ লাগতেই সরব জিৎ৪ হাজার থেকে নিমেষে ১ লক্ষ ৮৫ হাজার ফলোয়ার! এক স্পেলেই সোশ্যাল মিডিয়ার নতুন তারকা প্রফুল্লসামনে কাজল শেখ, মমতা কথা শুরু করতেই হাত নেড়ে বিরক্তি প্রকাশ অনুব্রতর! সিউড়িতে কী ঘটলEPL: নায়ক ওকাফর! ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে ৪৫ বছরের অভিশাপ মুছল লিডস, রক্ষণের ভুলে ডুবল ম্যান ইউAsha Bhosle: 'এত ভালবাসার সবটাই তোমার...,' ঠাকুমার স্মৃতি আঁকড়ে আবেগঘন পোস্ট নাতনি জানাইয়েরSupreme Court DA: ডিএ নিয়ে সময়সীমা বৃদ্ধির আর্জি, বুধবার রাজ্যের মামলা শুনবে সুপ্রিম কোর্টনির্বাচকদের শর্টলিস্টে বৈভব! আয়ারল্যান্ড সফরে যাওয়ার জোর সম্ভাবনা, ভাঙতে পারেন সচিনের রেকর্ডIPL 2026: ‘কাছের অনেককে বলেছিলাম, বৈভবকে প্রথম বলে আউট করব!’ কথা দিয়ে কথা রাখলেন প্রফুল্ল

হার্ট ফেলিওরেও ভয় নেই! যন্ত্রের ম্যাজিকে 'হার্ট ভাল রাখার আর্ট' শিখিয়ে দিলেন ডাঃ দিলীপ কুমার

হার্ট ফেলিওর (Heart Failure) আর আতঙ্কের নয়, চিকিৎসায় বদল এনেছে আধুনিক ডিভাইস (Heart Devices)। দ্য ওয়াল আরোগ্যের (The Wall Arogya) হার্ট ভাল রাখার আর্ট’ (Heart Bhalo Rakhar Art) অনুষ্ঠানে বুঝিয়ে বললেন ডক্টর দিলীপ কুমার (Doctor Dilip Kumar)।

হার্ট ফেলিওরেও ভয় নেই! যন্ত্রের ম্যাজিকে 'হার্ট ভাল রাখার আর্ট' শিখিয়ে দিলেন ডাঃ দিলীপ কুমার

ডক্টর দিলীপ কুমার।

তিয়াষ মুখোপাধ্যায়

শেষ আপডেট: 6 September 2025 19:16

দ্য ওয়াল ব্যুরো: মানুষের হৃদপিণ্ডের কোটরে বসিয়ে রাখা কিছু অত্যাধুনিক ছোট্ট যন্ত্রের কথা জানলে অবাক হতে হয়। কিছু মানুষ এই যন্ত্রগুলির জন্য এমনভাবেই বেঁচে আছেন, হেঁটেচলে বেড়াচ্ছেন, যেন মনে হয় কল্পকাহিনি থেকে উঠে আসা গল্প। সেই ‘গল্প হলেও সত্যি’র অন্যতম এক কাণ্ডারী, কলকাতা তথা পূর্ব ভারতের খ্যাতনামা ইন্টারভেনশনাল কার্ডিওলজিস্ট এবং ডিভাইস স্পেশ্যালিস্ট ডক্টর দিলীপ কুমার। দ্য ওয়াল আরোগ্যর ‘হা্ট ভাল রাখার আর্ট’ অনুষ্ঠানের মঞ্চে তিনি শোনালেন এই সমস্ত হৃদ্-যন্ত্র অর্থাৎ হার্টের নানা যন্ত্রের কথা।

ডক্টর কুমার জানালেন, এখনকার দিনে হার্ট অ্যাটাক ব্যাপারটাই খুব সাধারণ হয়ে উঠেছে। কথায় কথায় শোনা যায়, কম বয়সের মানুষেরও হার্ট অ্যাটাক হয়। খুব তাড়াতাড়ি হাসপাতালে পৌঁছতে না পারলেই বিপদ। ফলে এই নিয়ে ভয় পাওয়া খুবই স্বাভাবিক। তবে ভয়ের আগে সচেতনতা জরুরি।জানতে হবে, কতরকম ম্যাজিক্যাল ডিভাইস আমাদের নতুন জীবন দিতে পারে।

নিজের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করে তিনি বলেন, “বছর দুয়ের আগে আমার শাশুড়ি মায়ের পা ফুলতে শুরু করেছিল। আমি সব পরীক্ষানিরীক্ষা করে দেখি, ইসিজি ও ইকো-ও করা হয়। আমি দেখি, হার্ট ফেলিওর শুরু হয়েছে। একথা যখনই বাড়িতে জানাই, ওষুধ খেতে বলি, তখন হুলস্থূল কাণ্ড। আমায় সকলে বলতে শুরু করল, ‘আরে হার্ট ফেলিওর হচ্ছে, এত শান্ত রয়েছো কী করে!’

এখানেই বোঝার আছে, হার্ট ফেলিওর শব্দটা নিয়ে যতটা আতঙ্ক, তা সত্যি নয় এখনকার সময়ে। এই নিয়ে ভয় না পাওয়ার সুযোগ আমাদের রয়েছে। সৌজন্যে অত্যাধুনিক কিছু ডিভাইস।”

ডাক্তারবাবু বুঝিয়ে বললেন, “অনেক ধরনের অত্যাধুনিক ডিভাইস দিয়ে আমরা হার্টের রোগীদের খুব সহজেই অনেক কাছ থেকে মনিটর করতে পারি। ফলে আগে থেকে বুঝে যাওয়া সম্ভব হয়, কাদের হার্ট ট্রান্সপ্ল্যান্ট প্রয়োজন, আর কাদের ভেন্ট্রিকুলার অ্যাসিস্ট ডিভাইসের প্রয়োজন। আর কাদেরই বা এসব কিছুরই প্রয়োজন নেই, যেটা দরকার, সেটা হল ওষুধ। ফলে সেভাবেই চিকিৎসা শুরু করা হয়।”

বস্তুত, হার্ট ফেলিওর শুনলেই প্রথমে সবাই খুব চিন্তায় পড়ে যান। এটা অস্বাভাবিকও নয়। কিন্তু ডক্টর কুমারের কথায়, “আমি সব সময়ই সবাইকে বলি, সমস্ত সমস্যার তো সমাধান হয়। তেমনই হার্টের সমস্যার সমাধানও আমাদের কাছে আছে। তার জন্য এত চিন্তার কোনও প্রয়োজনই নেই। আসলে হার্ট ফেলিওর বা কনজেস্টিভ হার্ট ফেলিওর এমন একটি শারীরিক অবস্থা, যখন আমাদের হার্ট দুর্বল বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়ে। এর ফলে শরীরের বিভিন্ন অংশে রক্ত পাম্প করার ক্ষমতা কমে যায়।”

তবে প্রযুক্তি ও বিজ্ঞানের কল্যাণে, সে হার্ট কেমন আছে, তা জেনে যাওয়া খুব সহজ। ডাক্তারবাবু জানালেন, এই যেমন এআই থেকে শুরু করে, কিছু এমন ধরনের ডিভাইস রয়েছে, সেটা ঘড়ি হতে পারে কিংবা ফোন, সেটা দিয়ে আপনি প্রতি মুহূর্তেই জানতে পারছেন, হার্টরেট ঠিক রয়েছে কি না।

তিনি মনে করিয়ে দিলেন, কার্ডিওলজির সবচেয়ে বড় অগ্রগতি শুরু হয়েছিল পেসমেকারের হাত ধরে। কোনও রোগীর হার্ট ব্লক হলে, এই যন্ত্র তাঁকে নতুন জীবন দিতে পারে। একসময়ে বিশাল বড় পেসমেকার বুকের বাইরে জেনারেটরের মতো ঝুলিয়ে ঘুরে বেড়াতে হতো। এখন সেখান থেকে পেসমেকার এসে দাঁড়িয়েছে মাত্র ২ গ্রাম ওজনে। এইরকমই বহু আধুনিক ডিভাইস যে শুধু প্রাণ বাঁচায় তাই নয়, এইসব ডিভাইস সরাসরি সংযোগ তৈরি করে চিকিৎসকের সঙ্গেও। কারণ অ্যাপের মাধ্যমে মোবাইল ফোনে ডাক্তারবাবু দেখতে পারেন, কী ঘটছে রোগীর বুকের ভিতরে।

শেষ কথা হিসেবে ডাক্তারবাবু অবশ্য মনে করিয়ে দেন, “সমস্ত চিন্তা ছেড়ে হার্টের দেখভাল করুন। হার্ট ভাল রাখতে সুষম খাবার খান। নিয়মিত ব্যায়াম করুন, ধূমপানের অভ্যাস থাকলে, তা যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ছেড়ে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন, মানসিক চাপ কমিয়ে আনুন। এছাড়া, রক্তচাপ ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। তাহলে হার্ট নিয়ে চিন্তা করতে হবে না।”


```