ডায়েট মানেই ভাত বন্ধ? বিশেষজ্ঞদের মতে ওজন বাড়ার জন্য ভাত একা দায়ী নয়।

ছবি: এআই
শেষ আপডেট: 3 January 2026 14:37
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভাত খেলেই কি ওজন বাড়ে? এই প্রশ্নটা আজ প্রায় প্রতিটি মানুষের মনেই ঘোরাফেরা করে। ডায়েট মানেই ভাত বন্ধ, এই ধারণা এতটাই গেঁথে গেছে যে অনেকেই ওজন বাড়ার জন্য প্রথমেই ভাতকে কাঠগড়ায় দাঁড় করান। কিন্তু বাস্তবটা কি সত্যিই এত সরল? পুষ্টিবিদদের মতে, ওজন বাড়ার পেছনে ভাত একা কোনোভাবেই দায়ী নয়। বরং আমাদের প্লেটে থাকা অন্য অনেক খাবার এবং সামগ্রিক জীবনযাপনই আসল অপরাধী।
ভাত কি সত্যিই ওজন বাড়ায়?
ভাত মূলত কার্বোহাইড্রেটের উৎস, যা শরীরকে শক্তি জোগায়। সমস্যা শুরু হয় তখনই, যখন প্রয়োজনের তুলনায় বেশি ভাত খাওয়া হয় বা ভাতের সঙ্গে এমন খাবার জুড়ে যায়, যা ক্যালোরির ভারসাম্য পুরোপুরি নষ্ট করে দেয়। অর্থাৎ, ভাত নয়। দোষটা আসলে পরিমাণের।
দিনভর শারীরিক পরিশ্রম করা মানুষ বা নিয়মিত হাঁটা–ব্যায়াম যাঁদের অভ্যাস, তাঁদের ক্ষেত্রে ভাত শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় জ্বালানি হিসেবেই কাজ করে। কিন্তু সারাদিন বসে কাজ, তার সঙ্গে বড় প্লেট ভাত, এই সমীকরণটাই সমস্যার।
আসল শত্রু তো প্যাকেটজাত খাবার
ওজন বাড়ার নেপথ্যে সবচেয়ে বড় ভূমিকা নিচ্ছে প্যাকেটজাত ও প্রসেসড খাবার। বিস্কুট, চিপস, নুডলস, ফ্রোজেন স্ন্যাকস, এই সব খাবারে থাকে ট্রান্স ফ্যাট ও অতিরিক্ত ক্যালোরি, যা শরীর খুব দ্রুত চর্বি হিসেবে জমা করে ফেলে। মজার ব্যাপার হল, এগুলো খেয়ে পেট ভরলেও শরীরের ভাল কাজে লাগে না। ফলে বারবার খিদে পায়, আর ওজন বাড়তে থাকে নীরবে।
চিনি—সবচেয়ে খারাপ
খাবারের সঙ্গে মিশে থাকা চিনি অনেক সময় চোখেই পড়ে না। চা–কফি, মিষ্টি পানীয়, প্যাকেটের জুস, কেক, সব মিলিয়ে দিনে ঠিক কতটা চিনি শরীরে ঢুকছে, তার হিসেব থাকে না। এই অতিরিক্ত চিনি শরীরে গিয়ে ইনসুলিনের ভারসাম্য নষ্ট করে এবং ফ্যাট জমার প্রক্রিয়াকে আরও দ্রুত করে তোলে। ভাতের চেয়ে এই চিনি অনেক বেশি ক্ষতিকর, বলছেন বিশেষজ্ঞরা।
সফট ড্রিঙ্ক, ফ্রুট জুস নৈব নৈব চ!
ওজন বাড়ার তালিকায় রয়েছে সফট ড্রিঙ্ক, ফ্লেভার্ড জুস আর বাজারচলতি ‘হেলথ ড্রিঙ্ক’। নাম যতই স্বাস্থ্যকর হোক, বাস্তবে এগুলোর বেশিরভাগেই থাকে অতিরিক্ত চিনি ও ক্যালোরি। ফল খাওয়া ভাল, কিন্তু ফলের রস নয়। কারণ রসে ফাইবার থাকে না, থাকে শুধু চিনি।
সবজি কম, তেল–ঝাল বেশি
আজকের রান্নাঘরে সবজির জায়গা ক্রমশ ছোট হচ্ছে। তার বদলে জায়গা নিচ্ছে ভাজাভুজি, অতিরিক্ত তেল আর ঝাল। এতে খাবারের স্বাদ বাড়লেও শরীরের ওজনও চুপিচুপি বেড়ে যায়। ফাইবার কম থাকলে হজম ধীর হয়ে পড়ে, মেটাবলিজম কমে যায় এবং চর্বি জমার প্রবণতা বাড়ে।
আসল দোষটা লাইফস্টাইলের
সবশেষে এসে প্রশ্নটা খাবারেই আটকে থাকে না। অনিয়মিত ঘুম, সারাক্ষণ মোবাইল–ল্যাপটপে চোখ, শরীরচর্চার অভাব, মানসিক চাপ- সব মিলিয়েই ওজন বাড়ার জমজমাট পরিবেশ তৈরি হয়। একই খাবার কেউ খেয়েও সুস্থ থাকেন, আবার কেউ খেয়ে দ্রুত মোটা হয়ে যান, এই পার্থক্যের মূল কারণ জীবনযাপন।
তাহলে ভাত খাওয়া বন্ধ করবেন?
উত্তর একদম পরিষ্কার—না।
ভাত বাদ না দিয়ে বরং পরিমাণ কমান, সঙ্গে প্রোটিন আর সবজি যোগ করুন। সময়মতো খাওয়া, রাতে হালকা খাবার, আর নিয়মিত শরীরচর্চাই ওজন নিয়ন্ত্রণের আসল চাবিকাঠি।