আমরা প্রায়ই শুনে থাকি 'You are what you eat' অর্থাৎ আপনি যে ধরনের খাবার খান, তা আপনার স্বাস্থ্য, শারীরিক অবস্থা এবং মানসিকতার উপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। এই কথাটা শুধু প্রবাদ নয়, একেবারে বাস্তব।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 30 October 2025 15:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আমরা প্রায়ই শুনে থাকি 'You are what you eat' অর্থাৎ আপনি যে ধরনের খাবার খান, তা আপনার স্বাস্থ্য, শারীরিক অবস্থা এবং মানসিকতার উপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। এই কথাটা শুধু প্রবাদ নয়, একেবারে বাস্তব। আমাদের প্রতিদিনের খাবারই শরীরকে নানা গুরুতর রোগ থেকে রক্ষা করতে পারে, এমনটাই জানালেন আমেরিকার চিকিৎসক ও ক্যানসার সারভাইভার ড. ডন মুসালেম। সম্প্রতি আমেরিকান লেখিকা মেল রবিনসের একটি পডকাস্টে তিনি জানিয়েছেন, এমন পাঁচটি খাবারের কথা যা শরীরের প্রতিরোধক্ষমতা বাড়ায় ও ক্যানসার কোষের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে (cancer fighting foods) সাহায্য করে।
বেগুনি মিষ্টি আলু (Purple Sweet Potato)
সাধারণ আলুর তুলনায় বেগুনি মিষ্টি আলুতে থাকে প্রায় দেড়গুণ বেশি অ্যান্থোসায়ানিন, যা টিউমার কোষের বৃদ্ধি আটকায়। এই উপাদান শরীরের টিউমার প্রতিরোধকারী জিনকে সক্রিয় করে ক্যানসার কোষের ছড়িয়ে পড়া আটকাতে সাহায্য করে।
ক্রুসিফেরাস সবজি (Broccoli, Cauliflower, Brussels Sprouts)
ব্রকোলি, ফুলকপি বা স্প্রাউট জাতীয় সবজিতে থাকে মাইরোসিনেজ নামের একটি এনজাইম, যা শরীরে ক্যানসার প্রতিরোধী উপাদান সহজে শোষণ হতে সাহায্য করে। এই সবজি ইস্ট্রোজেন হরমোনকে এমনভাবে নিয়ন্ত্রণ করে, যাতে কোষের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি কমে যায়।
শিম ও আঁশযুক্ত উদ্ভিদজাত খাবার (Beans & Fibre-rich Foods)
ড. মুসালেমের মতে, শিমজাত খাবারে শুধু প্রোটিন নয়, থাকে প্রচুর ফাইবারও। গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত ফাইবার খেলে ক্যানসার, হৃদরোগসহ নানা রোগের ঝুঁকি অনেক কমে। ফাইবার শরীরের মোট ক্যানসারের ঝুঁকি প্রায় ২২ শতাংশ পর্যন্ত কমাতে পারে।
সয়াবিন ও এডামামে (Soy & Edamame)
সয়াবিনজাত খাবার, বিশেষ করে এডামামে (অপরিণত সয়াবিন), ক্যানসার আক্রান্তদের সুস্থ থাকার সম্ভাবনা বাড়ায়। ২০২২ সালের আমেরিকান ক্যানসার সোসাইটির রিপোর্ট অনুযায়ী, নিয়মিত সয়াবিন খেলে স্তন ক্যানসারের পুনরাবৃত্তির ঝুঁকি প্রায় ২৫ শতাংশ কমে যায়। এছাড়া, এটি প্রোস্টেট ও ফুসফুসের ক্যানসার প্রতিরোধেও সাহায্য করে।
বেরি (Berries)
ড. মুসালেম জানিয়েছেন, সপ্তাহে অন্তত দু’বার বেরি খেলে স্তন ক্যানসারের (breast cancer survivor) ঝুঁকি কমে। নিয়মিত বেরি খাওয়ার অভ্যাসে ক্যানসারে মৃত্যুর সম্ভাবনা প্রায় ২৫ শতাংশ পর্যন্ত কমে যায়। বেরিতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট শরীরে ক্যানসার কোষের বৃদ্ধি থামাতে সাহায্য করে।
রঙিন ফল, শাকসবজি, আঁশযুক্ত খাবার ও উদ্ভিদজাত প্রোটিন নিয়মিত খেলে শরীরের কোষ সুস্থ থাকে এবং ক্যানসারের ঝুঁকি অনেকটাই কমে।