ভাত-রুটি ছাড়া ডায়েটে আদৌ কি কোনও সুফল আসে? সকলের জন্য কি এই ডায়েট প্ল্যান একভাবে কাজ করে? কী বলছেন বিশেষজ্ঞ?

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 30 October 2025 15:18
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ওজন কমানোর (weight loss) নানান ফন্দি-ফিকির খুঁজে চলেছেন মানুষ। এই ডায়েট (weight loss diet), ওই ডায়েট - চলতে থাকা নানা পরীক্ষানিরীক্ষা। কিটো ডায়েট থেকে লো-কার্ব, অ্যাটকিনস কোনও কিছুই বাদ নেই। তার মধ্যে অনেকেই একটা সহজ রাস্তা হিসেবে রুটি-ভাত (no roti no rice diet) জীবন থেকে সম্পূর্ণ বাদ দিয়ে দেন। কিন্তু তাতে ঠিক কী পরিবর্তন আসে শরীরে? আদৌ কি চটজলদি কোনও সুফল আসে? তাঁর থেকেও বড় প্রশ্ন, সকলের জন্য কি এই ডায়েট প্ল্যান (diet plan) একভাবে কাজ করে? কী বলছেন বিশেষজ্ঞ?
বাঙালি বিশেষত যাঁরা ভাতপ্রেমী, একবেলা বা দু'বেলা ভাত ছাড়া চলে না - তাঁদের কাছে এই খাবার জীবন থেকে বাদ মানে এক বিশাল ত্যাগ। ক্রমাগত ডেস্ক জব বা শারীরিক কসরতের অভাবে জমতে থাকা মেদের কারণ অনেকের কাছেই 'কার্ব' বলে মনে হয়। তাই আগেভাগে সেটাই বাদ দিয়ে দেওয়া - কিন্তু কী বলছে শরীরের নিয়ম?
বিজ্ঞানের নিয়ম বলে, হঠাৎ ডায়েট থেকে কার্বোহাইড্রেট (carbohydrate) বাদ দেওয়া মানে শরীরকে রীতিমতো 'শক' দেওয়া। কার্ব কিন্তু আমাদের শরীরের জ্বালানি হিসেবে কাজ করে। তা বাদ পড়ে গেলে প্রভাব পড়ে এনার্জি লেভেল, মনোযোগে।
বিশেষজ্ঞ কী বলছেন?
ফিটনেস এক্সপার্ট ও নিউট্রিশনিস্ট দীক্ষা ছাবরা জানালেন, “কার্বোহাইড্রেটের মূল কাজ হল শরীরকে শক্তি দেওয়া। যখন আমরা চাল-গমের মতো খাবার বেশি খাই, শরীর সেখান থেকেই এনার্জি নেয়, ফলে ফ্যাট বার্ন করার দরকার পড়ে না। কিন্তু এগুলো পুরো বাদ দিলে শরীর প্রোটিন ভাঙতে শুরু করে - সেখান থেকেই এনার্জি নেয়।”
অর্থাৎ, হঠাৎ করে ওজন কমতে শুরু করা মানে, তা সবসময় ভাল এমনটা কিন্তু নয়। শরীর যা ভেঙে এনার্জি সংগ্রহ করে, তা আসলে তা আসলে ফ্যাট নয়, পেশি (muscle)। পেশি কমলে মেটাবলিজমও ধীর হয়, ওজন কমার গতি কমে, আর ক্লান্তি বেড়ে যায়।
তাছাড়া, অনেক গবেষণাই বলছে - মস্তিষ্ক সঠিকভাবে কাজ করতে প্রয়োজন যথেষ্ট পরিমাণ কার্বোহাইড্রেট। তাই মনোযোগের ঘাটতির কারণও সেটাই।
তাহলে কোন ডায়েটে সত্যিই ওজন কমে?
ওজন কমাতে হলে ধীরে ধীরে, স্বাস্থ্যকর পথে এগোতে হবে - যেমন নিয়মিত ব্যায়াম, পর্যাপ্ত ঘুম, সক্রিয় জীবনযাপন এবং সুষম খাদ্যাভ্যাস।
দীক্ষা ছাবরার কথায়, “চাল বা গম খাওয়ায় কোনও ক্ষতি নেই, যদি শরীরের প্রয়োজন মতো পরিমাণে খাওয়া হয় এবং বাকি পুষ্টিগুণ (মাইক্রো ও ম্যাক্রোনিউট্রিয়েন্টস) ঠিক রাখা যায়। সঠিক ক্যালোরির পরিমাণ বজায় রাখলে ওজন কমানো সম্ভব, স্বাস্থ্য নষ্ট না করেই।”
তিনি আরও বলেন, “সম্পূর্ণ বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই, বরং পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করাই বেশি জরুরি।”