বাড়িতে কারও ভয়ঙ্কর নাক ডাকার সমস্যা থাকলে তা অবহেলা করবেন না। চিকিৎসকদের মতে, নাক ডাকা বিরাট শারীরিক সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে।

ছবি - দ্য ওয়াল
শেষ আপডেট: 9 December 2025 18:53
'ও বাবা, ও যা নাক ডাকে! ঘুমাবো না ওর সঙ্গে,' 'ও রাতে যা ভয়ঙ্কর নাক ডাকে, চোর আসবে না,' 'নাক ডাকে না গানের তাল দায়, বোঝা মুশকিল!' প্রায় সব বাড়িতেই কম-বেশি এই কথা শোনা যায়। কম বয়স থেকে বেশি বয়সি, তালিকায় কেউ-ই বাদ যান না। আসলে নাক ডাকার কোনও বয়স হয় না। তেমনই বলছেন চিকিৎসকরা। আর নাক ডাকা নিয়ে মানুষেরও অভাব নেই।
যারা নাক ডাকেন, তাদের নিয়ে আমরা হাসাহাসি করে থাকি। কখনও রেকর্ড করে পরেরদিন শোনাই বা কখনও বিভিন্ন রকমের মজায় মেতে থাকি। বয়স্কদের নাক ডাকা নিয়ে অল্প বয়সিরা বেশ বিরক্ত হন। অস্বস্তি হলেও এর থেকে মুক্তির উপায় খুঁজে পান না।
এনিয়েই সম্প্রতি নিজের সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টে একটি ভিডিও পোস্ট করেন ইন্টারনাল মেডিসিন বিশেষজ্ঞ নারায়ণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি নাক ডাকা থেকে মুক্তির উপায় বলে দেন সেখানে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, নাক ডাকার জন্য ঠিক কী কী বিপদ হতে পারে সেটা জানান বিস্তারিতভাবে।
চিকিৎসকের মতে, নাক ডাকা নিয়ে আমরা হাসাহাসি করি খুবই, এটাই কারও অকস্মাৎ মৃত্যুর কারণ হতে পারে সেটা জানিও না। নাক ডাকা আদতে ভয়ঙ্কর অসুখের ইঙ্গিত। প্রায় সব বাড়িতেই এটা ইগনোর করা হয়।
ঠিক কেন কেউ রাতে ঘুমানোর সময় নাক ডাকেন?
নারায়ণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলছেন, 'কেউ নাক ডাকছে মানে তার ব্রেনে অক্সিজেন কম যাচ্ছে। এটা এখন সকলের কাছে বেশ জানা বিষয়। এবার ব্রেনে অক্সিজেন না গেলে কী হতে পারে, সেটা অনেকের অজানা।'
ব্রেনে অক্সিজেন না গেলে অর্থাৎ নাক ডাকলে ঠিক কী হয়?
ব্রেনের সার্কুলেশন কমে যায়। চিকিৎসক জানাচ্ছেন, আমাদের শরীরে একটা অটো রেগুলেশন আছে, ব্রেনে ব্লাড সার্কুলেশন কমলে তো হবে না। তাই তখন অটোমেটিক্যালি ব্লাড প্রেশার বেড়ে যায় শরীরের। শরীর চেষ্টা করে ব্রেনের রক্ত চলাচল স্বাভাবিক রাখতে। যাতে ব্রেনে কোনও সমস্যা না হয়। কিন্তু ব্লাড প্রেশার বাড়ে।
ঘুমানোর সময় নাক ডাকা ও ব্লাড প্রেশার বেড়ে যাওয়া, হতে পারে ভয়ঙ্কর পরিণতি
যারা অসম্ভব নাক ডাকে, রাতে তাদের ব্লাড প্রেশার বেড়ে যায়। অনেকসময় নাক ডাকার জন্য মাথায় হেমারেজ হয়ে মানুষ মারা যান। ঘুমের মধ্যেই মারা যান, এমনও হয়।
তাই নাক ডাকাকে কখনও অবহেলা করতে নিষেধ করছেন ডঃ বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর মতে, নাক ডাকা একটা রোগ, 'অবস্ট্রাক্টিভ স্লিপ অ্যাপনিয়া'। এতে ব্রেনে ক্রনিক্যালি অক্সিজেন কম গেলে সকালে মানুষ ঝিমোবে। তাতে খুব একটা অসুবিধা না হলেও যদি মাঝরাতে প্রেশার বেড়ে যে কারও হার্ট ফেলিওর হতে পারে, যেটা সাংঘাতিক।
এই ভয়ঙ্কর পরিণতি থেকে বাঁচার উপায়?
এর থেকে বাঁচতে সিপ্যাপ মেশিন ব্যবহার করার পরামর্শ দিচ্ছেন তিনি। এই মেশিন ব্যবহার কনটিনিউয়াস পজিটিভ এয়ারওয়ে প্রেশার থাকে এবং ব্রেনে ঠিক মতো অক্সিজেন যেতে পারে।
তবে যেকোনও পদক্ষেপ করার আগে ইএনটি দেখাতে বলছেন। পরে বাকি পদক্ষেপ চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী।
নাক বাঁকা থাকলেও নাক ডাকার সমস্যা হতে পারে, চিকিৎসকই এনিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ বলে দিতে পারেন। তাই নাক ডাকার সমস্যা হলেই আগে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে বলছেন ডঃ বন্দ্যোপাধ্যায়।