মদ্যপান ও ধূমপান একসঙ্গে করলে শরীরের উপর কী ভয়ংকর প্রভাব পড়ে?

ফাইল চিত্র
শেষ আপডেট: 2 January 2026 15:56
দ্য ওয়াল ব্যুরো: অনেকেই আছেন, যাঁরা মদ্যপান ও ধূমপান, দু’টি অভ্যাসই একসঙ্গে চালিয়ে যান। কিন্তু বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই তাঁরা জানেন না, এই দুই আসক্তির সম্মিলিত প্রভাব শরীরের জন্য কতটা মারাত্মক হতে পারে। চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যবিশেষজ্ঞদের স্পষ্ট সতর্কবার্তা, এই দুই অভ্যাস একসঙ্গে শরীরে ক্ষতি করা শুরু করলে, অনেক সময় সেখান থেকে আর ফিরে আসার সুযোগ থাকে না। ধীরে ধীরে তা মৃত্যুর দিকেও ঠেলে দিতে পারে।
শরীরের কোন কোন অঙ্গ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়?
১. যারা একসঙ্গে মদ ও সিগারেট সেবন করেন, তাঁদের ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের তুলনায় মুখ, গলা, খাদ্যনালী, যকৃত ও ফুসফুসের ক্যানসার হওয়ার ঝুঁকি অনেক বেশি। পাশাপাশি এম্ফ্যাসিমা, ব্রঙ্কাইটিস এবং হৃদ্রোগের সম্ভাবনাও উল্লেখযোগ্য ভাবে বেড়ে যায়।
২. মদ্যপান লিভারে চর্বি জমিয়ে সেরোসিসের মতো গুরুতর রোগের দিকে নিয়ে যায়। অন্য দিকে ধূমপান ফুসফুসের কার্যক্ষমতা ধ্বংস করে দেয়। ফলে শ্বাসকষ্ট, দীর্ঘস্থায়ী কাশি এবং একাধিক অঙ্গ বিকল হওয়ার আশঙ্কা বহুগুণে বাড়ে।
৩. এই দুই অভ্যাস একসঙ্গে থাকলে উচ্চ রক্তচাপ, রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা বৃদ্ধি এবং হৃদস্পন্দনের অনিয়ম দেখা দেয়। যার সরাসরি প্রভাব পড়ে হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকিতে।
৪. মদ ও সিগারেটের যুগপৎ প্রভাব স্নায়ুতন্ত্রের উপরও পড়ে। এর ফলে স্মৃতিভ্রংশ, মনোযোগের অভাব, অবসাদ ও উদ্বেগের মতো মানসিক সমস্যা ধীরে ধীরে প্রকট হয়ে ওঠে।
৫. নিয়মিতভাবে এই অভ্যাস বজায় থাকলে অ্যাসিডিটি, আলসার, ক্ষুধামান্দ্য, নানা অন্ত্রের সমস্যা এবং অনিদ্রার মতো সমস্যায় ভোগেন অনেকেই।
কেন এই দুই আসক্তির যুগলবন্দি এতটাই বিপজ্জনক?
মদ্যপানে যেখানে মূলত লিভার ক্ষতিগ্রস্ত হয়, সেখানে ধূমপান সরাসরি ফুসফুসের উপর আঘাত হানে। কিন্তু দু’টি একসঙ্গে চলতে থাকলে, তার সম্মিলিত চাপ গিয়ে পড়ে হৃদ্যন্ত্র ও ভাস্কুলার সিস্টেমের উপর। এর ফলে ধমনীর ক্ষতি হতে শুরু করে। দীর্ঘদিন এই অভ্যাস বজায় থাকলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও দুর্বল হয়ে যায়। তখন সামান্য সর্দি, কাশি বা জ্বরেও ঘন ঘন অসুস্থ হয়ে পড়ার প্রবণতা দেখা দেয়। এমনকি দীর্ঘমেয়াদে মদ্যপান ও ধূমপান একসঙ্গে করলে প্রজনন ক্ষমতাও কমে যেতে পারে।
মদ্যপান ও ধূমপান থেকে সকলেরই সতর্ক থাকা প্রয়োজন। তবে অন্তঃসত্ত্বা মহিলাদের ক্ষেত্রে এই সতর্কতা আরও বেশি জরুরি, কারণ এতে গর্ভস্থ শিশুর স্বাভাবিক বৃদ্ধিতে বাধা সৃষ্টি হতে পারে। একই ভাবে উচ্চ রক্তচাপ বা ডায়াবিটিসে আক্রান্ত রোগী এবং দীর্ঘকালীন জটিল অসুখে ভোগা ব্যক্তিদের জন্য এই দুই অভ্যাস লিভার ও শ্বাসযন্ত্রের সমস্যা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই শরীর সুস্থ রাখতে চাইলে, এই এর থেকে দূরে থাকাই উচিত।