শীতকালে মন ভারী লাগে? সকালের রোদ, হাঁটা ও রুটিন কীভাবে মুড ভাল রাখে—জানুন বিস্তারিতভাবে।

শীতে অবসাদ!
শেষ আপডেট: 1 January 2026 18:24
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শীত এলেই অনেকের মনের হাওয়া বদলে যায়। সকালে বিছানা ছাড়তে ইচ্ছে করে না, সারাদিন কেমন একটা অবসাদ লেগে থাকে, অল্পতেই রেগে যাওয়া বা মনখারাপ— সব মিলিয়ে যেন মনটাই ঠিক নিজের মতো থাকে না। বাইরে ঠান্ডা, ভেতরে যেন আরও একটু বেশি ভারী ভাব। এই অভিজ্ঞতা কিন্তু খুব ব্যক্তিগত নয়। চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে, শীতকালে মুড খারাপ হওয়া একটি পরিচিত ও স্বাভাবিক শারীরবৃত্তীয় প্রতিক্রিয়া।
তবে ভাল খবর হল— কিছু ছোট, নিয়মিত অভ্যাস শীতের এই মানসিক ধাক্কাকে অনেকটাই সামলে দিতে পারে।
শীতকালে দিনের আলো কমে যায়। সূর্যের আলো কম পাওয়ার ফলে শরীরে সেরোটোনিনের মাত্রা কমে, যা আমাদের ভালো থাকার অনুভূতির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। একই সঙ্গে মেলাটোনিন নামের ঘুমের হরমোন বেড়ে যায়, যার ফলে ঝিমুনি, অলসতা আর মনখারাপ একসঙ্গে হাজির হয়।
এই কারণেই শীতে অনেকের মধ্যে ‘সিজনাল অ্যাফেক্টিভ ডিসঅর্ডার’ বা SAD-এর লক্ষণ দেখা যায়— মন খারাপ, কাজের আগ্রহ কমে যাওয়া, একা থাকতে ইচ্ছে করা।
শীতের সকালে রোদে বসে বা হেঁটে কাটানো সময়টা শুধু আরাম দেয় না, মস্তিষ্কের রাসায়নিক ভারসাম্যও ঠিক করে। সূর্যের আলো সরাসরি মস্তিষ্ককে সিগন্যাল দেয়—দিন শুরু হয়েছে, অ্যাক্টিভ হওয়ার সময়।
প্রতিদিন সকালে অন্তত ১৫ মিনিট রোদে থাকলে সেরোটোনিনের মাত্রা বাড়ে, ঘুমের ছন্দ ঠিক থাকে এবং সারাদিনের মুড অনেকটাই স্থির থাকে। অফিস যাওয়ার পথে বা পাড়ায় একটু হাঁটাও এখানে বড় ভূমিকা নিতে পারে।
শীত মানেই শরীর গুটিয়ে রাখা—এই অভ্যাসটাই আসলে সমস্যার মূল। হালকা হাঁটা শরীরের রক্ত চলাচল বাড়ায়, মস্তিষ্কে বেশি অক্সিজেন পৌঁছয় এবং ‘ফিল-গুড’ হরমোন নিঃসৃত হয়।
ভোরে বা বিকেলে ২০–৩০ মিনিটের হাঁটা শীতকালীন অবসাদ কমাতে প্রাকৃতিক ওষুধের মতো কাজ করে। ভারী ব্যায়াম না করলেও নিয়মিত হাঁটাই যথেষ্ট।
শীতের দিনে এক কাপ গরম চা বা স্যুপ শুধু শরীর গরম করে না, মানসিক প্রশান্তিও দেয়। উষ্ণ খাবার শরীরকে রিল্যাক্স করে, নার্ভাস সিস্টেমকে শান্ত করে।
হার্বাল চা, আদা-লেবুর চা বা ঘরে বানানো স্যুপ শীতকালে মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে। তবে অতিরিক্ত ক্যাফেইন এড়িয়ে চলাই ভালো, নইলে উল্টো অস্থিরতা বাড়তে পারে।
শীতে অনেকেই নিজেকে গুটিয়ে নেন। কিন্তু দীর্ঘদিন একা থাকা মুড আরও খারাপ করে। বন্ধু, পরিবার বা কাছের মানুষের সঙ্গে নিয়মিত কথা বলা, সামান্য আড্ডাও মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য খুব জরুরি।
সামাজিক যোগাযোগ মস্তিষ্কে ইতিবাচক সংকেত পাঠায়—আপনি একা নন, আপনি নিরাপদ।
শীতে রাত বড় হয়, ঘুমও বেশি পায়। কিন্তু অনিয়মিত ঘুম মুড খারাপের বড় কারণ। প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমোতে যাওয়া ও ওঠার চেষ্টা করলে শরীরের বায়োলজিক্যাল ক্লক ঠিক থাকে।
ভোরে আলো পাওয়ার চেষ্টা আর রাতে স্ক্রিন টাইম কমানো—এই দুই অভ্যাস শীতকালে মুড স্থির রাখতে খুব কার্যকর।
শীত মানেই মন খারাপ হবে—এই ধারণা ভেঙে ফেলা দরকার। একটু সচেতন হলেই শীতের দিনগুলোও হতে পারে শান্ত, স্থির আর মন ভালো রাখার সময়। সকালের রোদ, হালকা হাঁটা, গরম পানীয় আর নিয়মিত রুটিন—এই ছোট অভ্যাসগুলোই শীতের সবচেয়ে বড় মুড-বুস্টার।