Date : 14th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
কষা মাংস থেকে কাটলেট! নববর্ষে তাজের সমস্ত হোটেলে জিভে জল আনা ভোজ, রইল সুলুকসন্ধানপিএসএল ছেড়ে আইপিএলে আসার কড়া মাশুল! ২ বছরের জন্য সাসপেন্ড কেকেআরের এই পেসার রণবীর-দীপিকার ৮ বছরের দাম্পত্যে বিচ্ছেদ! স্বামীর সঙ্গে বাড়তে থাকা দূরত্বই কি ডিভোর্সের কারণ?'বিজেপির কথায় চললে আমাদের কাছেও তালিকা থাকবে', পুলিশ কর্তাদের চরম হুঁশিয়ারি ব্রাত্য বসুর!একসময় নীতীশকেই কুর্সি থেকে সরানোর শপথ নিয়েছিলেন! তাঁর ছেড়ে যাওয়া পদেই বসলেন শকুনি-পুত্র‘একজনকে ধরলে হাজার জন বেরোবে...’, আইপ্যাক ডিরেক্টর গ্রেফতারের পরই নাম না করে হুঁশিয়ারি মমতারনববর্ষে বাঙালিয়ানার ষোলো আনা স্বাদ! ঢাকাই কালো ভুনা থেকে আম পেঁয়াজির যুগলবন্দি, মিলবে এই রেস্তরাঁয়‘কোভিড ভ্যাকসিনই হার্ট অ্যাটাকের কারণ!’ শেন ওয়ার্নের মৃত্যু নিয়ে ছেলের মন্তব্যে নতুন বিতর্ক এবার রক্তদান শিবিরেও কমিশনের ‘নজরদারি’! রক্তের আকাল হলে কী হবে রোগীদের? প্রশ্ন তুললেন কুণালমারাঠি না জানলে বাতিল হবে অটো-ট্যাক্সির লাইসেন্স! ১ মে থেকে কড়া নিয়ম মহারাষ্ট্রে

জিন্না: মাউন্টব্যাটেনের চোখে হিমশীতল, যাঁর জন্য প্রধানমন্ত্রীর চেয়ার ছাড়তে রাজি গান্ধীজিও

স্বাধীনতার আগে ভারতের রাজনীতির রঙ্গমঞ্চে এক গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র হয়ে উঠেছিলেন শেষ ভাইসরয় লর্ড মাউন্টব্যাটেন। ভারতে এসে প্রথম দিন থেকেই তিনি বুঝেছিলেন, জওহরলাল নেহরুর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলাটা কৌশলগত দিক থেকে কতখানি গুরুত্বপূর্ণ। 

জিন্না: মাউন্টব্যাটেনের চোখে হিমশীতল, যাঁর জন্য প্রধানমন্ত্রীর চেয়ার ছাড়তে রাজি গান্ধীজিও

গ্রাফিক্স: দ্য ওয়াল

শেষ আপডেট: 19 June 2025 17:50

দ্য ওয়াল ব্যুরো: স্বাধীনতার আগে ভারতের রাজনীতির রঙ্গমঞ্চে এক গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র হয়ে উঠেছিলেন শেষ ভাইসরয় লর্ড মাউন্টব্যাটেন (Mountbatten)। ভারতে এসে প্রথম দিন থেকেই তিনি বুঝেছিলেন, জওহরলাল নেহরুর (Jawaharlal Nehru) সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলাটা কৌশলগত দিক থেকে কতখানি গুরুত্বপূর্ণ। ব্রিটেনের লেবার সরকারের উপর নেহরুর প্রভাব সম্পর্কে ওয়াকিবহাল ছিলেন তিনি। তাই বিকানের বা ভোপালের মতো রাজন্যবর্গের সঙ্গে সাক্ষাতের দিনই সময় বের করেছিলেন কংগ্রেস নেতার সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতার জন্য।

মাউন্টব্যাটেনের ঘনিষ্ঠ সহকারী ক্যাম্পবেল-জনসন পরে লেখেন, "মাউন্টব্যাটেনের চোখে নেহরু ছিলেন একেবারে খোলামেলা ও সৎ মানুষ।" সেই সাক্ষাতের শেষে মাউন্টব্যাটেন বলেছিলেন, “মি. নেহরু, আমাকে শুধুমাত্র শেষ ভাইসরয় হিসেবে ভাববেন না, বরং নতুন ভারতের প্রথম পথপ্রদর্শক হিসেবে দেখুন।” উত্তরে নেহরু মুগ্ধ হয়ে বলেন, “এখন বুঝতে পারছি কেন সবাই বলে আপনার ব্যক্তিত্ব এত বিপজ্জনকভাবে মোহময়।”

পরবর্তী কয়েকদিনে মাউন্টব্যাটেন ও তাঁর স্ত্রী এডউইনা (Edwina) নেহরুর সঙ্গে একাধিকবার দেখা করেন। সিঙ্গাপুরের পুরনো পরিচয় নতুন করে প্রাণ পায়। এডউইনা নেহরুর খুব কাছের মানুষ হয়ে ওঠেন। একবার এশিয়ান রিলেশনস কনফারেন্স উপলক্ষে মাউন্টব্যাটেনদের বাগানপার্টিতে নেহরুকে দেখা যায় এডউইনার পায়ের কাছে বসে থাকতে। সেদিন সন্ধেবেলাই এডউইনা ও তাঁর মেয়ে নেহরুর ইয়র্ক রোডের বাড়িতে রাত কাটান, যদিও মাউন্টব্যাটেন সঙ্গে ছিলেন না। এমন দৃশ্য স্বাভাবিক ভাবেই কৌতূহলের জন্ম দিয়েছিল। লেফটেন্যান্ট কর্নেল শাহিদ হামিদ সেই সময় লেখেন, “নেহরু ও লেডি মাউন্টব্যাটেনের সম্পর্ক যথেষ্ট ঘনিষ্ঠ, এবং তা চোখে পড়ছে অনেকের।”

কিন্তু সকল রাজনৈতিক নেতার সঙ্গে সম্পর্ক এত মসৃণ ছিল না। কংগ্রেস নেত্রী অরুণা আসাফ আলিকে ভাইসরয়ের হাউসে আমন্ত্রণ জানানো হলে তিনি বিরক্ত হয়ে বেরিয়ে আসেন। বলেন, “এটা ক্ষমতা হস্তান্তর মাত্র, কোনও বিপ্লব নয়।” গান্ধীজি যদিও নিমন্ত্রিত ছিলেন ‘হাই টি’-তে। কেক-স্যান্ডউইচ ছুঁয়ে দেখেননি। সঙ্গে আনা ছাগলের দইই খান। আলাপচারিতায় বলেন, দেশকে এক রাখতে হলে জিন্নাকে প্রধানমন্ত্রী করে গোটা মন্ত্রিসভা মুসলমানদের নিয়ে গঠন করা যেতে পারে। মাউন্টব্যাটেন সৌজন্যের সঙ্গে উত্তর দেন যে তিনি ভাববেন, যদিও তিনি জানতেন, বাস্তবে তার সম্ভাবনা নেই।

দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের সঙ্গেও প্রথমে একটু সংকোচ নিয়ে দেখা করেন মাউন্টব্যাটেন। বল্লভভাই সেনাবাহিনীকে ব্যবহার করে মুসলিম লিগকে নির্মূল করার কথা বলেন, যা শুনে মাউন্টব্যাটেন ও এডউইনা দু’জনেই কিছুটা চমকে যান। যদিও পরে কথাবার্তা অনেকটাই সহজ হয়। প্যাটেলের চোখে একটা মজা ধরা পড়ে। কিন্তু মধুর আলাপে যে রাজনৈতিক কৌশল ঢাকা ছিল, তা প্রকাশ পায় যখন তিনি গোপনচর সংস্থার প্রধানকে বরখাস্ত করে কংগ্রেসপন্থী একজনকে বসান, এবং মাউন্টব্যাটেনকে তাঁর সঙ্গে দেখা করতেও নিষেধ করে দেন। এই গোপন তথ্য স্বাধীনতার বহু বহু বছর পর সামনে আসে।

এডউইনা পরে ইসাবেল ক্রিপসকে বলেন, “ডিকি আর আমি প্যাটেলকে খুবই পছন্দ করি। ওঁর কর্তৃত্বপরায়ণ ভঙ্গি আমাদের জানা, তবে ডিকিও কিন্তু কম যান না।”

সবচেয়ে কঠিন সাক্ষাৎ ছিল অবশ্য ৫ এপ্রিল, যখন মাউন্টব্যাটেন প্রথমবার মুসলিম লিগ নেতা জিন্নার (Jinnah) সঙ্গে দেখা করেন। সাক্ষাতের শুরুতেই জিন্না তাঁর দাবি-দাওয়ার তালিকা ধরিয়ে দেন। মাউন্টব্যাটেন সঙ্গে সঙ্গে বলেন, “মিস্টার জিন্না, আগে আপনাকে একটু ভালভাবে চিনে নিই, তারপর নয় আলোচনা হবে।” জিন্না অবাক হন, কিছুক্ষণ একদম চুপচাপ থাকেন। শেষমেশ তাঁর মন গলে, তিনি মুসলিম লিগের ইতিহাস বলেন নিজের জীবনকাহিনির মাধ্যমে।

পরে মাউন্টব্যাটেন প্রস্তাব দেন যে, যদি ভারত ভাগ হয়, তাহলে পাঞ্জাব ও বাংলা—এই মিশ্র ধর্মীয় রাজ্যগুলিও ভাগ হওয়া উচিত। এতে জিন্না খাপ্পা হয়ে উঠলেন। কারণ তিনি দীর্ঘদিন ধরে বলে এসেছেন, “কলকাতা ছাড়া পাকিস্তান অর্থহীন। সেটা যেন হৃদয়হীন শরীর।”

দুই নেতার সাক্ষাৎ যতটা বিরক্তি, ততটাই শীতলতার আবহে শেষ হয়। কথাবার্তার পর মাউন্টব্যাটেন তাঁর সহকারীকে বলেন, “ওই লোকটা বরফের মতো ঠান্ডা। প্রায় পুরো সময় লেগে গেল ওঁকে গলাতে।”

এরপর এডউইনা জিন্নার বোন ফাতিমার সঙ্গে চা খেতে যান। সেই অভিজ্ঞতাও খুব উষ্ণ ছিল না। পরে তিনি লেখেন, “ওঁর মনোভাব প্রায় ধর্মান্ধতার পর্যায়ে।” চিঠিতে জানান, “জিন্নারা খুব কঠিন মানুষ। ওঁদের ভয়-আশঙ্কা আমরা বুঝি, কিন্তু সম্পর্ক তৈরি করা বড্ড কঠিন।”

শেষ ভাইসরয়ের সময়েই ভারতের ভবিষ্যতের চিত্র অনেকটা স্পষ্ট হয়ে যায়। আগের ভাইসরয় লিনলিথগো যেখানে মুসলিম লিগপন্থী ছিলেন, ওয়েভেল ছিলেন কিছুটা নিরপেক্ষ, সেখানে মাউন্টব্যাটেনের সহানুভূতি শুরু থেকেই কংগ্রেসের দিকে ঝুঁকে ছিল।


```