শুক্রবার এক বিবৃতিতে সিঙ্গাপুর পুলিশ ফোর্স জানায়, ভারতের অনুরোধে রিপোর্টটি দিল্লির (New Delhi) ভারতীয় হাই কমিশনের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।

জুবিন গর্গ
শেষ আপডেট: 3 October 2025 13:42
দ্য ওয়াল ব্যুরো: অসমের জনপ্রিয় গায়ক জুবিন গর্গের (Zubeen Garg) মৃত্যুর ময়নাতদন্ত রিপোর্ট (Post Mortem) ভারতের হাতে তুলে দিল সিঙ্গাপুর পুলিশ (Singapore Police)। শুক্রবার এক বিবৃতিতে সিঙ্গাপুর পুলিশ ফোর্স জানায়, ভারতের অনুরোধে রিপোর্টটি দিল্লির (New Delhi) ভারতীয় হাই কমিশনের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। রিপোর্টের সঙ্গে মৃত্যুর প্রাথমিক তদন্ত-ফলও শেয়ার করা হয়েছে।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত এখনও চলছে। পাশাপাশি সোশ্যাল মিডিয়ায় এই ঘটনার ভিডিও বা ছবি ছড়িয়ে না দেওয়ার পরামর্শও দিয়েছে তারা।
এদিকে, বৃহস্পতিবার (২ অক্টোবর) অসম পুলিশের সিআইডি জুবিনের দুই ঘনিষ্ঠ সহযোগী, সহ-সংগীতশিল্পী শেখর জ্যোতি গোস্বামী ও সহ-গায়িকা অমৃতপ্রভা মহন্তকে গ্রেফতার করেছে। এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত মোট চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
সিআইডি-র বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট)-এর প্রধান ও বিশেষ ডিজিপি. মুন্নাপ্রসাদ গুপ্তা সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে জানান, টানা জেরা চালানোর পর বৃহস্পতিবার রাতে এই দুই শিল্পীকে গ্রেফতার করা হয়।
এর আগে বুধবার গ্রেফতার করা হয় নর্থ ইস্ট ইন্ডিয়া ফেস্টিভালের মুখ্য আয়োজক শ্যামকানু মহন্ত এবং জুবিনের ম্যানেজার সিদ্ধার্থ শর্মাকে।
কামরূপ (মেট্রো) জেলার মুখ্য বিচারবিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেট (সিজেএম) শ্যামকানু মহন্ত ও সিদ্ধার্থ শর্মাকে ১৪ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন। অন্যদিকে, মামলায় ভারতীয় দণ্ডবিধির বদলে নতুন ভারতীয় ফৌজদারি বিধি (বিএনএস)-এর আওতায় খুনের ধারাও যোগ করেছে সিআইডি।
৫২ বছর বয়সি অসমের সংগীতের এই আইকন ১৯ সেপ্টেম্বর সিঙ্গাপুরে স্কুয়া ডাইভিং করতে গিয়ে প্রাণ হারান। তাঁর মরদেহ প্রথমে দিল্লি আনা হয়। পরে রবিবার সকালে একটি বাণিজ্যিক বিমানে করে গুয়াহাটিতে নিয়ে যাওয়া হয়।
অসম জুড়ে শোকের আবহে ভাসছে অনুরাগীরা। জুবিনের অকালপ্রয়াণকে কেন্দ্র করে তদন্ত আরও ঘনীভূত হচ্ছে। জুবিনের স্ত্রী গরিমা আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন স্বামীর মৃত্যু নিয়ে। গায়ক ক্লান্ত থাকা সত্ত্বেও তাঁকে পিকনিক এবং সাঁতার কাটতে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। তাহলে কি তাঁর শরীর স্বাস্থ্যের বিষয়ে অবহেলা হয়েছিল? প্রশ্ন তোলেন তিনি।
এছাড়া তাঁর স্ত্রী দাবি করেছেন, জুবিনের মৃত্যুর আগের দিনও রাতে তাঁর সঙ্গে কথা হয়। তখন ও কোনও পিকনিকের পরিকল্পনার কথা তিনি জানাননি। তাই তাঁর সন্দেহ, তাহলে কি হঠাৎ করেই হয় প্ল্যান? এখনও ধোঁয়াশা কাটছেই না।