শুক্রবার, ২৭ মার্চ থেকে কার্যকর হয়েছে এই নতুন সূচি। সবচেয়ে বড় পরিবর্তন এসেছে ‘পরিণীতা’ এবং ‘জোয়ার ভাঁটা’-কে ঘিরে। এখন থেকে ৩০ মিনিট নয়, বরং ৪৫ মিনিট ধরে সম্প্রচার হবে ‘পরিণীতা’—রাত ৮টা থেকে ৮টা ৪৫ পর্যন্ত।

শেষ আপডেট: 27 March 2026 17:36
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আচমকাই বদলে গেল প্রাইম টাইমের স্লট। একাধিক জনপ্রিয় ধারাবাহিকের স্লট ও সম্প্রচারের সময় পাল্টে ফেলে বড়সড় চমক দিল জি বাংলা (Zee Bangla)। টিআরপি-নির্ভর প্রতিযোগিতার এই সময়ে যেখানে সামান্য রেটিং কমলেই ধারাবাহিক বন্ধ হয়ে যায় বা সময় বদলে দেওয়া হয়, সেখানে ভাল ফল করা সিরিয়ালগুলোকেই ঘিরে এমন বড় সিদ্ধান্ত—স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন তুলছে দর্শকমহল।
শুক্রবার, ২৭ মার্চ থেকে কার্যকর হয়েছে এই নতুন সূচি। সবচেয়ে বড় পরিবর্তন এসেছে ‘পরিণীতা’ এবং ‘জোয়ার ভাঁটা’-কে ঘিরে। এখন থেকে ৩০ মিনিট নয়, বরং ৪৫ মিনিট ধরে সম্প্রচার হবে ‘পরিণীতা’—রাত ৮টা থেকে ৮টা ৪৫ পর্যন্ত। ঠিক তার পরেই শুরু হবে ‘জোয়ার ভাঁটা’, সেটিও ৪৫ মিনিটের জন্য, অর্থাৎ চলবে রাত ৯টা ৩০ পর্যন্ত। ফলে প্রাইম টাইমে টানা দেড় ঘণ্টা জুড়ে থাকবে এই দুই জনপ্রিয় ধারাবাহিক।
অন্যদিকে, ‘কনে দেখা আলো’ এবং ‘আনন্দী’-র ক্ষেত্রে আপাতত কোনও পরিবর্তন আনা হয়নি। রাত ১১টার স্লটে রয়েছে ‘দাদমণি’। নতুন সূচি অনুযায়ী কখন কোন ধারাবাহিক দেখা যাবে?
বর্তমানে ‘পরিণীতা’ দীর্ঘদিন ধরে টিআরপি তালিকায় শীর্ষে রয়েছে এবং নিয়মিত স্লট লিডার হিসেবেও নিজের জায়গা ধরে রেখেছে। অন্যদিকে ‘জোয়ার ভাঁটা’-ও সেরা পাঁচের মধ্যে জায়গা করে নিয়ে ধারাবাহিক জনপ্রিয়তার প্রমাণ দিয়েছে।
তবুও এই সিদ্ধান্তে রয়েছে স্পষ্ট ঝুঁকি। বিশেষ করে ‘জোয়ার ভাঁটা’-র ক্ষেত্রে বারবার স্লট পরিবর্তন—রাত ৯টা থেকে ৮.৩০, সেখান থেকে আবার ৮.৪৫, দর্শকের অভ্যাসে প্রভাব ফেলতে পারে বলেই আশঙ্কা। টেলিভিশন দর্শকের এক বড় অংশ এখনও নির্দিষ্ট সময় মেনে অনুষ্ঠান দেখেন, ফলে এমন পরিবর্তন টিআরপি-তে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে কি না, এখন সেটাই দেখার।
এদিকে নতুন ধারাবাহিক আসছে ‘অন্নপূর্ণার লক্ষ্মীরা’। ইতিমধ্যেই প্রকাশ্যে এসেছে প্রোমো। এই ধারাবাহিকে মুখ্য ভূমিকায় দেখা যাবে স্বস্তিকা ঘোষ (Swastika Ghosh)-কে। তাঁর সঙ্গে রয়েছেন অভিনেত্রী সোমা বন্দ্যোপাধ্যায় (Soma Bandyopadhyay), যিনি ‘অন্ন মা’-র চরিত্রে অভিনয় করছেন। তিন মেয়েকে একা বড় করে তোলেন। বিপরীতে থাকছেন সৌম্যদীপ মুখোপাধ্যায় (Soumyadeep Mukherjee)। তবে এই নতুন ধারাবাহিকটি কোন স্লটে জায়গা পাবে, তা নিয়েও কৌতূহল তুঙ্গে।
সব মিলিয়ে, জি বাংলার এই সিদ্ধান্ত কি দীর্ঘমেয়াদে সুফল দেবে, নাকি দর্শকের অভ্যাসে ধাক্কা দিয়ে উল্টো প্রভাব ফেলবে, সেই উত্তর দেবে সময়ই। আপাতত স্পষ্ট, টিআরপি-র লড়াইয়ে এগিয়ে থাকতে চ্যানেল এবার বড় ঝুঁকি নিতেই পিছপা হয়নি।