চলচ্চিত্র উৎসবের শেষ দিন, রবীন্দ্র সদন ভিড়ে ঠাঁসা। সেজে উঠেছে সমাপ্তি অনুষ্ঠান মঞ্চ। অনুষ্ঠানে উপস্থিত তখন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, স্বামী পিনাকি মিশ্র সহ রয়েছেন মহুয়া মৈত্র, দেব, সৃজিত মুখোপাধ্যায়, শান্তনু মৈত্র, গৌতম ঘোষ, অরিন্দম শীল, হরনাথ চক্রবর্তী, মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন এবং মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস।

মমতা-পরম।
শেষ আপডেট: 13 November 2025 17:37
দ্য ওয়াল ব্যুরো: চলচ্চিত্র উৎসবের শেষ দিন, রবীন্দ্র সদন ভিড়ে ঠাঁসা। সেজে উঠেছে সমাপ্তি অনুষ্ঠান মঞ্চ। অনুষ্ঠানে উপস্থিত তখন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, স্বামী পিনাকি মিশ্র সহ রয়েছেন মহুয়া মৈত্র, দেব, সৃজিত মুখোপাধ্যায়, শান্তনু মৈত্র, গৌতম ঘোষ, অরিন্দম শীল, হরনাথ চক্রবর্তী, মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন এবং মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস।
কিন্তু ঝলমলে সেই অনুষ্ঠানের মাঝেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই খুঁজলেন পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়কে! উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যিনি ছিলেন মুখ্য সঞ্চালক, সেই পরমব্রতর অনুপস্থিতিই যেন জমজমাট সন্ধ্যায় খানিক ব্যতিক্রম।
অনুষ্ঠানের কিছু আগেই দেখা গিয়েছিল তাঁকে— ঋত্বিক ঘটককে ঘিরে আয়োজিত এক বিশেষ সেমিনারে, যেখানে উপস্থিত ছিলেন পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়। কিন্তু কিছু সময় পর সমাপ্তি অনুষ্ঠানে যখন মুখ্যমন্ত্রী মঞ্চে ওঠেন, তখন দর্শকাসনে বা মঞ্চের পাশে কোথাও দেখা যায়নি পরমব্রতকে। সেই সময়েই মুখ্যমন্ত্রী নিজেই তাঁকে খুঁজে জানতে চান, “পরম কোথায়?”
মঞ্চে তখন সঞ্চালনায় জুন মালিয়া। তিনি বলেন, “পরমব্রত অসুস্থ। গলায় ইনফেকশন হয়েছে। ব্যাকস্টেজে রয়েছেন।” সঙ্গে জানান, এই মুহূর্তে তাঁর সঙ্গে সহ-সঞ্চালক হিসেবে আছেন উজান গঙ্গোপাধ্যায়।
তবুও প্রশ্নের শেষ হচ্ছে না। কয়েক ঘণ্টা আগেও যিনি ঋত্বিক ঘটক সেমিনারে সক্রিয় ছিলেন, তিনিই কি সত্যিই হঠাৎ অসুস্থ হলেন? নাকি এর পেছনে অন্য কোনও পর্দা-আড়ালের কাহিনি লুকিয়ে আছে?

উজান-জুন
উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পরমব্রতর পাশে মঞ্চে ছিলেন অভিনেত্রী ও সাংসদ জুন মালিয়া— জুটির প্রাণবন্ত সঞ্চালনায় জমে উঠেছিল উৎসবের সূচনা। কিন্তু সমাপ্তির মঞ্চে ছবিটা একেবারে পাল্টে গেল। এ বার জুন একাই ধরলেন মাইক্রোফোন, আর পরমব্রত অনুপস্থিত! যে জুটি দিয়ে উৎসবের পর্দা উঠেছিল, শেষ অধ্যায়ে সেখানে একাই দাঁড়িয়ে রইলেন জুন। স্বাভাবিকভাবেই টলিপাড়ায় প্রশ্নের ঝড়— এটা কি আগেভাগে নেওয়া পরিকল্পিত সিদ্ধান্ত, নাকি শেষ মুহূর্তের কোনও ‘ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট’?
এখন আলোচনার কেন্দ্রে একটাই প্রশ্ন— ফেডারেশনের সঙ্গে পরমব্রতের সম্পর্কের বরফ কি আরও জমাট বাঁধল? পুরনো মনোমালিন্য কি এ বার সত্যিই অতিক্রমণ-অযোগ্য হয়ে গেল?
আলো ঝলমলে উৎসবের পর্দা নেমেছে ঠিকই, কিন্তু থেকে গেছে অনেক অন্ধকার। চলচ্চিত্রের এই মহোৎসবের গ্ল্যামারের আড়ালে কি তবে রাজনীতির পর্দা নামছে না একটুও?
দীর্ঘদিন ধরেই ফেডারেশনের সঙ্গে পরমব্রতের সম্পর্কের টানাপোড়েনের কথা সকলেরই জানা। আর এবারের উৎসব যেন সেই দূরত্বকে আরও স্পষ্ট করে তুলল। একদিকে পরমব্রত আলো কাড়লেন সঞ্চালকের ভূমিকায়, অন্যদিকে ফেডারেশনের প্রতিবারের চেনা মুখগুলো রইল আসন শূন্য করে গড়ে উঠল এক নতুন বিভাজনরেখা।