আট দিন ধরে চলচ্চিত্র উৎসবের আজ যবনিকা পতন ৩১তম কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের। রবীন্দ্র সদনের সমাপ্তি অনুষ্ঠানে সাজো সাজো রব।

পরম ছিল। পরম নেই!
শেষ আপডেট: 13 November 2025 17:04
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আট দিন ধরে চলচ্চিত্র উৎসবের আজ যবনিকা পতন ৩১তম কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের। রবীন্দ্র সদনের সমাপ্তি অনুষ্ঠানে সাজো সাজো রব। গ্ল্যামার, তারকা, আবেগ— সব মিলিয়ে শহরজুড়ে উৎসবের আবহ। কিন্তু উৎসবের শেষ প্রহরে ফিসফাসের ঢেউ ছড়িয়ে পড়েছে টলিপাড়ায়। কারণ, এই বছরও যেন কিছুটা রাজনীতি ছুঁয়ে গেল সিনেমার এই উৎসবকে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যেমন আলোচনায় ছিলেন পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়, তেমনই অনুপস্থিত ছিলেন ফিল্ম ফেডারেশনের সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাস এবং সংগঠনের সদস্যরা। দীর্ঘদিন ধরেই ফেডারেশনের সঙ্গে পরমব্রতের সম্পর্কে টানাপড়েনের কথা অজানা নয়। আর এবারের উৎসবে সেই দূরত্ব যেন আরও স্পষ্ট হয়ে উঠল। একদিকে যখন পরমব্রত সঞ্চালকের ভূমিকায় আলো কাড়লেন, তখন অন্যদিকে ফেডারেশনের আসন রইল শূন্য।
উৎসবের শুরুর দিন থেকেই প্রশ্ন উঠেছিল— ফেডারেশনের এই অনুপস্থিতির কারণ কী? তাঁদের বিরুদ্ধে যেসব পরিচালক মামলা করেছেন, সেই পরিচালকদের এবারের উৎসবে সক্রিয় ভূমিকা নেওয়াই কি ফেডারেশনের এই দূরত্বের কারণ?
নন্দনে দাঁড়িয়ে পরমব্রত নিজে এ নিয়ে মুখ খুললেন দ্য ওয়ালের সামনে। শান্ত গলায় বললেন, “তথ্য ও সংস্কৃতি দফতর থেকেই আমাকে সঞ্চালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়, আমি সেটাই করেছি। ফেডারেশনের সঙ্গে যে মনোমালিন্যটা ছিল, কিছু মাস আগে থেকে আমি নিজের ইচ্ছাতেই সেই বিষয় থেকে দূরে রয়েছি। এখন আমি মনে করি, আলোচনার মাধ্যমেই ভুল বোঝাবুঝি মিটে যেতে পারে। আইনি পথ আর নিতে চাই না।”
পরম আরও বলেন, “চলচ্চিত্র উৎসবের সঙ্গে এই বিষয়গুলিকে জড়ানো ঠিক নয়। কেউ যদি জড়ায়ও, তাতে আমার কিছু বলার নেই। আর বাকিদের বিষয়ে কিছু জানি না, তবে আমি নিজে আদালতের পথে আর হাঁটব না।”
অন্যদিকে, এবারের উৎসবে ফেডারেশনের উপস্থিতি প্রায় অদৃশ্য। ধনধান্য অডিটোরিয়ামের উদ্বোধনী মঞ্চে দেখা যায়নি ফেডারেশন সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাসকে। এমনকি নন্দন চত্বরে ফেডারেশনের স্টলও দাঁড়িয়ে ছিল জনশূন্য— যেন উৎসবের কোলাহলে হারিয়ে যাওয়া এক কোণ।
ফেডারেশনের কার্যকরী সভাপতি জয়চন্দ্র চন্দ্রের কথাতেও মিশে রইল আভাস। ফোনে তিনি দ্য ওয়ালকে জানিয়েছিলেন, “আমাদের কলাকুশলী, টেকনিশিয়ানদের মধ্যে একটা ক্ষোভ তৈরি হয়েছে, তাই উদ্বোধনে আমরা অনুপস্থিত ছিলাম। তবে কেন সরে এসেছি, সেটা এখন বলা ঠিক হবে না।”
এদিকে, উৎসবের উদ্বোধনী মঞ্চে পরমব্রতর পাশে সঞ্চালনায় ছিলেন অভিনেত্রী ও সাংসদ জুন মালিয়া। কিন্তু সমাপ্তি অনুষ্ঠানে ছবিটা পুরোই বদলে গেল— জুন একাই ধরলেন মাইক্রোফোন, আর পরমব্রতকে দেখা গেল না পাশে।
শুরুর মঞ্চে যেখানে ছিলেন পরম-জুন জুটি, শেষ অধ্যায়ে সেখানে একাই দাঁড়ালেন জুন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত রয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, স্বামী পিনাকি মিশ্র সহ রয়েছেন মহুয়া মৈত্র, দেব, সৃজিত মুখোপাধ্যায়, শান্তনু মৈত্র, গৌতম ঘোষ, অরিন্দম শীল, হরনাথ চক্রবর্তী, মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন এবং মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস।

ফলে টলিপাড়ায় শুরু হয়েছে এখন নতুন জল্পনা, ‘সঞ্চালক’ পরিবর্তন কি আগেভাগে নেওয়া সিদ্ধান্ত, নাকি হঠাৎ তৈরি হওয়া কোনও ‘ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট’?
প্রশ্ন এখন একটাই— ফেডারেশনের সঙ্গে পরমব্রতর সম্পর্কের ফাটল কি আরও গভীরে পৌঁছল? পুরনো দূরত্ব কি এবার পেরোনোর অতীত হয়ে গেল? আলো ঝলমলে উৎসব শেষ হলেও, কিছু প্রশ্ন যেন রয়ে গেল ছায়ার মতো—
চলচ্চিত্রের এই মহোৎসবের আড়ালে কি তবে রাজনীতির পর্দা নামছে না একটুও?